চলমান সংবাদ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামানত বাড়ানোর চিন্তা ইসির, বাদ যেতে পারে ভোটারের সইয়ের বিধান

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর চিন্তা করছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ভোটারদের সমর্থনসূচক সই জমা দেওয়ার বিধানও বাতিলের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

সম্প্রতি আইন সংশোধনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে ভোট করার বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন বাস্তবতায় নির্বাচন পরিচালনা ও আচরণ বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে ইসি।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ইসির আইন ও বিধি সংস্কারসংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় উঠতে পারে। কমিটির সুপারিশ পরে কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হবে এবং অনুমোদনের পর তা চূড়ান্ত হবে।

এর আগে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল–এর নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০২৪ সালের মার্চে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জামানত ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছিল। একই সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ভোটারের সমর্থনসূচক সই জমা দেওয়ার বিধানও বাদ দেওয়া হয়।

বর্তমান কমিশনের ধারণা, দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হলে এবং ভোটারের সইয়ের বাধ্যবাধকতা তুলে দিলে প্রার্থীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এতে ‘ডামি’ বা অপ্রয়োজনীয় প্রার্থীর সংখ্যা বাড়বে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হবে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে।

তবে আগের কমিশনের মতো হঠাৎ ১০ গুণ জামানত বৃদ্ধিকে বর্তমান কমিশনের কেউ কেউ যৌক্তিক মনে করছেন না। তাঁদের মতে, জামানতের পরিমাণ এমন হওয়া উচিত যাতে অযৌক্তিক প্রার্থিতা কমে, কিন্তু সাধারণ প্রার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপও সৃষ্টি না হয়।

বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জামানত ৫ হাজার টাকা এবং সদস্য পদে ১ হাজার টাকা। পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ভোটারসংখ্যা অনুযায়ী ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং কাউন্সিলর পদে ৫ হাজার টাকা জামানত নির্ধারিত রয়েছে। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা এবং কাউন্সিলর পদে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়।

পড়ুন:  ফল প্রকাশের ১৩ দিন পর গণভোটের ফল সংশোধন, ১০ লাখের বেশি ভোট কমালো ইসি

এদিকে ইসি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পরিকল্পনাও করছে। এর মধ্যে রয়েছে পোস্টার নিষিদ্ধ করা, অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ চালু করা এবং ইভিএমে ভোটের বিধান বাতিল করা।

ইসির আইন ও বিধি সংস্কার কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, বৈঠক শেষে জামানত বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা ও আচরণ বিধিমালায় কী কী পরিবর্তন প্রয়োজন, তা নিয়েও আলোচনা হবে।