মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবোধ চর্চায় দেশজুড়ে পাঠাগার গড়ার আহ্বান

‘একটাই মন্ত্র জনগণতন্ত্র, একটাই যুক্তি শোষণমুক্তি’ স্লোগানে বাংলাদেশ পাঠাগার আন্দোলনের আত্মপ্রকাশ ও প্রথম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, পাঠাগার শুধু বই পড়ার জায়গা নয়, এটি মুক্তচিন্তা, যুক্তিবোধ ও সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম কেন্দ্র। তাই দেশের প্রতিটি জনপদে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা এবং বিদ্যমান পাঠাগারগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন অধ্যাপক এম এম আকাশ। তিনি বলেন, শোষণমুক্ত ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানা ও পাঠাভ্যাসে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। গ্রাম, শহর ও বস্তিতে পাঠচক্র গড়ে তুলে সম্মিলিত পাঠ ও আলোচনার চর্চা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

লেখক ও গবেষক নিতাই দাস বলেন, জ্ঞানচর্চা, যুক্তিবোধ ও বিজ্ঞানমনস্কতা বাড়িয়ে আধুনিক মানুষ গড়ে তোলাই এই আন্দোলনের লক্ষ্য। এ এন রাশেদা সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম ও অভিজ্ঞতাকে পাঠচর্চার অংশ করার আহ্বান জানান। অধ্যাপক আবু তাহের খান শিশু-কিশোর ও মায়েদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, দেশের ৬৮ হাজার গ্রামে পাঠাগার গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে তাঁরা কাজ করছেন। পাশাপাশি সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা আট হাজারের বেশি সুপ্ত পাঠাগার পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানান তিনি।

৭১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন

সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে ৭১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। এতে অধ্যাপক এ এন রাশেদা সভাপতি, প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান রিপন সাধারণ সম্পাদক এবং ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আকমল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন (প্রিন্স), বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা নিখিল দাস এবং বাংলাদেশ খেতমজুর সমিতির সভাপতি ফজলুর রহমান।

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর গণসংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সম্মেলন শুরু হয়। আলোচনা শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শোভাযাত্রা বের করা হয়। সম্মেলন থেকে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে পাঠাগার আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।