বিজন ভাবনা (৬৮): জয় বাংলা -বিজন সাহা
![]()
কয়েক দিন আগে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দীপক শীলকে গ্রেফতার করা হয়েছে জয় বাংলা স্লোগান দেবার অপরাধে। জয় বাংলা স্লোগান কি দেশে নিষিদ্ধ? যতদূর জানি না। যে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে নতুন ব্যবস্থা কায়েম করা হল এর মধ্যে দিয়ে তারা নিজেরাই কি স্বৈরাচারের পথে হাঁটছে না? প্রেসিডেন্ট জিয়া বলেছিলেন – “মানি ইজ নো প্রবলেম” আর “আই মেক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট।” সেই রাজনীতির সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা রাজনীতিতে মানির বন্যাই শুধু বইয়ে দেন নাই, মেইড পলিটিক্স ডিফিকাল্ট মানে সব দলের জন্য (এমনকি নিজের দলের জন্যেও) রাজনীতি কঠিন করে তোলেন। হাসিনা পরবর্তী ইউনুস সরকার আর বর্তমানে তারেক রহমান সরকার সেই হাসিনার পথেই হাঁটছেন। সেই অর্থে আমাদের দেশে রাজা আসে রাজা যায় কিন্তু সবই বিশেষ করে দুঃশাসন আগের মতই থেকে যায়।
জয় বাংলা প্রসঙ্গে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক বলেন “মুক্তিযুদ্ধের সময় কমিউনিস্টরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছিল। ’৭২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সিপিবি তার কোন কর্মসূচি, সমাবেশে জয় বাংলা স্লোগান দেয়নি। জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগ অনেক অপকর্ম করেছে। …” এই স্ট্যাটাসে আমার মন্তব্য ছিল “জয় বাংলা মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান। এটা একান্তই বাংলা স্লোগান। বলতে সমস্যা কি? জয় বাংলা বলে আওয়ামী লীগ ভালোমন্দ অনেক কিছুই করেছে, যেমন সমাজতন্ত্র, সাম্যবাদের স্লোগান দিয়ে দেশে দেশে অনেক ভালো ও অনেক মন্দ কাজ হয়েছে। গুলাগ, সাংস্কৃতিক বিপ্লব, খেমার রুজ এসব সমাজতন্ত্রের নামেই হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগের কুকর্মের দোহাই দিয়ে জয় বাংলার সমালোচনা করা মানে জামায়াত শিবিরের সাথে কোরাস গাওয়া।”
মুক্তিযুদ্ধ শুধু একাত্তরের ভয়াল দিনগুলো নয়, ১৯৪৮ সালে মাতৃভাষা বাংলা করার দাবি থেকে শুরু করে সমস্ত আন্দোলন সংগ্রাম এই যুদ্ধের অংশ। পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করার জন্য যেমন সারা বছর ধরেই পড়াশোনা করতে হয়, স্বাধীনতা অর্জনের জন্যেও তেমনি দীর্ঘ প্রস্তুতি নিতে হয়। তবে চুড়ান্ত লড়াইয়ে কিছু কিছু বিষয় নতুন করে সামনে চলে আসে, সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এরকম ভূমিকা পালন করেছে “আমার সোনার বাংলা” গানটি আর “জয় বাংলা” স্লোগান। “আমার সোনার বাংলা”র সুর এদেশের মানুষের অন্তরের সুর, এদেশের মানুষ এই সুর শুনে বড় হয়। আর “জয় বাংলা” খুব সহজ সরল কিন্তু একই সাথে প্রাণ সঞ্জীবনী স্লোগান। যুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল মাত্র সাত। তারপরেও সেই দিনগুলির কথা স্পষ্ট মনে আছে। আমরাও তখন জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে এক অভূতপূর্ব শক্তি, এক অভূতপূর্ব শিহরণ অনুভব করতাম। এটা কোন দলের স্লোগান ছিল না, এটা ছিল মুক্তিকামী মানুষের স্লোগান। যদি আওয়ামী লীগ এই স্লোগান দলীয়করণ করে তার দায়িত্ব শুধু তাদের একার নয়, যারা বারোয়ারি সম্পদ কাউকে নিজের ঘরে তুলতে দিয়েছে তাদের দায় এখানে কম নয়। ১৯৭৫ সালে তো এই স্লোগান আওয়ামী লীগের ছিল না, কিন্তু তখন কি সিপিবি বা অন্য কোন দল “জয় বাংলা”র জন্য লড়াই করেছে?
‘৭২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সিপিবি তার কোন কর্মসূচি, সমাবেশে “জয় বাংলা” স্লোগান দেয়নি। – ক্কাফি রতনের এই দাবি কতটুকু সত্য? ইতিমধ্যে ২০২২ সালে সিপিবির দ্বাদশ কংগ্রেসে কমরেড মঞ্জুরুল আহসান খানের “জয় বাংলা” স্লোগান সহ ভিডিও ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ধারণা করা যায় যে পার্টি কংগ্রেস সিপিবির কর্মসূচি। তাছাড়া ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ এর আগস্টের পটপরিবর্তনের আগে পর্যন্ত জয় বাংলা ছিল জাতীয় স্লোগান। এই সময় সিপিবি প্রকাশ্যে রাজনীতি করেছে, বিভিন্ন অনুষ্ঠান করেছে। যেকোনো দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল তাদের অনুষ্ঠানে জাতীয় স্লোগান দেবে এটাই স্বাভাবিক। যদি মঞ্জুরুল আহসান খান ২০২২ সালে জয় বাংলা স্লোগান দিতে পারেন তাহলে পঁচাত্তর পূর্ববর্তী বাংলাদেশে পার্টির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া কি অস্বাভাবিক বা অসম্ভব কিছু? তাছাড়া জয় বাংলা শুধু স্লোগান নয়, এটা বাংলাদেশের অস্তিত্বের সাথে এমনভাবে জড়িত যে তাকে বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে কল্পনা করা যায় না, জয় বাংলা ব্যতীত মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এসব অসম্পূর্ণ। একথা অজানা নয় কারা কী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে, কী পরবর্তী সময়ে জয় বাংলার বিরোধিতা করেছে? তাই যেকোনো অজুহাতেই হোক না কেন, জয় বাংলার বিরোধিতা করা মানে জামায়াত শিবিরের রাজনীতির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করা। কমিউনিস্ট পার্টি যদি নিজে জয় বাংলা স্লোগান না দেয়ও অন্যেরা যাতে বিনা বাধায় এই স্লোগান দিতে পারে সেটা নিশ্চিত করার জন্য লড়াই করতে তারা বাধ্য।
মনে পড়ে একাত্তরের দিনগুলির কথা। পালিয়ে ছিলাম নিজের এলাকা থেকে কিছুটা দূরে। সেই সময় আমরা আমার সোনার বাংলা গান গাইতাম। গাইতাম বিজয়ের পর বাড়ি ফিরে এসে। আমাদের বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ছিল। প্রতিদিন সকালে এই গান দিয়ে শুরু হত আমাদের দিন। আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি – এর কথা, সুর সব এত আপন যে সেই বয়সেও একে অনুভব করতে এতটুকু অসুবিধা হত না। সেই কথা, সেই সুরে যুদ্ধের দামামা নেই, কিন্তু কী এক মায়াবী টানে সে আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখত। এ যেন আমার কথা। আমার মায়ের কথা, সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার কথা, পরিচিত বট গাছের কথা, গোল্লাছুট সহ বিভিন্ন খেলাধুয়ার কথা – একজন মানুষের প্রতি দিনের জীবনের গল্প এই গান। তাই মানুষ যখন এই গান বুকে ধারণ করে যুদ্ধ করেছে সে যুদ্ধ করেছে নিজের জন্য, নিজের সকাল, দুপুর, সন্ধ্যার জন্য, নিজের এক নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য। সেই একই ইতিহাস, একই অনুভূতি জয় বাংলা স্লোগানের। “জয় বাংলা বলতে মনরে আমার এখনও কেন ভাব?”
যারা আজ মুক্তিযুদ্ধ, আমার সোনার বাংলা, জয় বাংলা, বঙ্গবন্ধু এসব আলাদা করতে চায় তারা আসলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব খুচরা বাজারে বিক্রি করতে চায়। তা যে পার্টির সাইনবোর্ড টাঙিয়েই হোক না কেন – এদের থেকে সাবধান। সিপিবির সাধারণ নেতাকর্মীরা যদি এখনই এই সমস্ত ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারে তবে জয় বাংলাকে অস্বীকার করা নেতারা একদিন আপনাদের সহ পার্টিকে জয় বাংলা তথা স্বাধীনতা বিরোধীদের কাছে পাইকারি দামে বিক্রি করে দেবে।
আবার বলতে হয় সোভিয়েত ইউনিয়নের কথা। নিকিতা খ্রুশেভ নিজেকে গঙ্গা জলে ধোঁয়া তুলসি পাতা করার জন্য স্তালিনের বিরুদ্ধে সত্য মিথ্যা বিভিন্ন রকমের অপবাদ দিতে শুরু করেন। এতে যে তিনি শুধু পার্টিতে নিজের অবস্থান পোক্ত করতে পেরেছিলেন তাই নয়, সমাজতন্ত্রের যারা শত্রু তাদের হাতে এক মহা অস্ত্র তুলে দিয়েছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে সেটা ব্যবহার করে তারা প্রথমে স্তালিনকে হিটলারের সাথে সম পর্যায়ে ফেলে, এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও সোভিয়েত জনগণের ত্যাগ ও বীরত্ব অস্বীকার করে। আর এভাবেই আজ সারা ইউরোপে ফ্যাসিবাদী শক্তি মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। কোন মানুষ বা কোন দলই ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু আমরা যদি শুধু ভুলত্রুটি দিয়েই কারও বিচার করি, তার ভাল কাজগুলির কথা বেমালুম ভুলে যাই তাহলে তার প্রতি, ইতিহাসের প্রতি অন্যায় করা হয়। সন্দেহ নেই যে বাংলাদেশের রাজনীতিকে সাম্প্রদায়িকীকরণে আওয়ামী লীগ ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে ভোটের কথা মাথায় রেখে। কিন্তু রাজনীতিতে ধর্ম তথা সাম্প্রদায়িকতা ফিরে এসেছে বিএনপির হাত ধরেই। তাই সিপিবি নেত্রী যখন বিএনপির সাথে সিপিবিকে হরিহর আত্মা হিসেবে দেখেন তখন প্রশ্ন জাগে আসলেই কি সিপিবি সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করে, আসলেই কি তারা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে? কোন কোন ব্লগার আজকের সিপিবিকে মুসলিম লীগের বাম শাখা বলে আখ্যায়িত করে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে সিপিবির বর্তমান নেতৃত্বের ২০২৪ সালের জুলাই ও পরবর্তী সময়ের ভূমিকা দেখে মনে হয় তারা সত্যের খুব কাছাকাছি। অন্তত পার্টির এক অংশ যে মৌলবাদী শক্তির স্বার্থে কাজ করছে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাদের আওয়ামী বিরোধিতা আমাকে গ্রামের সেই প্রবাদের কথা মনে করিয়ে দেয় – ঘোমটা দিতে গিয়ে বউয়ের পেছন উদলা। এরা আন্তর্জাতিকতাবাদের দোহাই দিয়ে জাতীয়তাবাদী জয় বাংলার বিরোধিতা করে। কিন্তু ভুলে যায় তাদের বর্তমান ভূমিকা দেশটাকে দিন দিন মৌলবাদের খপ্পরে ঠেলে দিচ্ছে। যদি শেষ পর্যন্ত সেটা ঘটে তখন আন্তর্জাতিকতাবাদ তো দূরের কথা, জান থাকবে কিনা সেটাই প্রশ্ন। এসবের পরেও যদি কেউ এটা করে ধরে নিতে হবে যে তলে তলে মৌলবাদী শক্তির সঙ্গে এদের আঁতাত আছে। নিজেদের জন্য গ্যারান্টি না পেলে এরা এ পথে চলবে কেন?
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হল জামায়াত, শিবির আর বিএনপিকে খুশি করতে বা তথাকথিত স্বৈরাচারের দোসর ট্যাগ মুক্ত থাকতে আমাদের বাম নেতারা অবলীলায় জয় বাংলা, বঙ্গবন্ধু সহ মুক্তিযুদ্ধের অনেক প্রতীক ত্যাগ করতে পারে, অথচ নিজেদের দলের ও দলের বাইরের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের আশা আকাঙ্ক্ষার পক্ষে দুটি শব্দ পর্যন্ত খরচ করতে পারে না। দীপক শীলের গ্রেফতারের পর সিপিবি অফিসের সামনে বিএনপি জামায়াত ও অন্যেরা মব সৃষ্টি করলে সিপিবি নেতারা মবের বিপক্ষে না বলে তাদের দল জয় বাংলা অউন করে না সেই মর্মে বিবৃতি দেয়। সর্বতোভাবে চেষ্টা করে আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখতে। তখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের বন্দুক হাতে সেই ছবিটা যা মুক্তিযুদ্ধের সাথে একাকার হয়ে আছে। প্রশ্ন জাগে সাগরেদরা একদিন তাঁর মুক্তিযোদ্ধা রূপ অস্বীকার করবে কমরেড সেলিম কি এ জন্যেই সেদিন অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন? সব দেখে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে – আপনারা কার সাথে, কোন পক্ষে – মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নাকি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে। বিপক্ষে হলেও সমস্যা নেই। তাহলে শুধু কমিউনিস্ট পার্টির নামে তা না করার জন্য অনুরোধ করব। আর যদি পক্ষে হন তাহলে “জয় সমাজতন্ত্র”র পাশাপাশি “জয় বাংলা” স্লোগান ধারণ করার দাবি করব।
২০২৪ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পর থেকে এখনও পর্যন্ত সিপিবির বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা দেখে শুধু একটাই উপমা মাথায় আসে – তিনি সিপিবির গর্বাচেভ। গর্বাচেভ জানতেন না যে পশ্চিমাদের প্রশংসা বাক্য আসলে তাকে ভুল পথে নিয়ে যাবে। হয়তো একই ভাবে সিপিবির বর্তমান নেতৃত্ব মনে করে তারা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সিপিবির কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের বুঝতে হবে যে এই নেতৃত্ব আসলে সিপিবি তথা বাম আন্দোলন ধ্বংসের মিশন নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। প্রযুক্তির কল্যাণে আজ আমরা সহজেই একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করতে পারি। ফলে এখন প্রত্যেকেই বিভিন্ন গ্রুপের সাথে জড়িত। এখানে আছে স্কুল বা কলেজের গ্রুপ, আছে ভার্সিটি ও পেশাজীবীদের গ্রুপ। যারা রাজনীতির সাথে জড়িত তাদের নিজেদের গ্রুপ। সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন নেতা কর্মীদের আছে এরকম গ্রুপ। এসব গ্রুপের অভিজ্ঞতা বলে অতীত যত ঐক্যবদ্ধ বর্তমান তত বিচ্ছিন্ন। আর যারা আজ সিপিবির বাইরে সিপিবি তাদের এক করেছে, আর যারা ভেতরে সিপিবি তাদের করেছে বিভক্ত। অন্তত নেতৃত্বের পর্যায়ে। এসব জানার ও দেখার পর আপনারা কি করবেন সেটা ঠিক করার দায়িত্ব আপনাদেরই। তবে পার্টিকে যদি তার আদর্শিক অবস্থানে দেখতে চান তাহলে বর্তমান নেতৃত্বের লাগাম টেনে ফহরা ছাড়া গতি নেই।
গবেষক, জয়েন্ট ইনস্টিটিউট ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ
শিক্ষক, রাশিয়ান পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি, মস্কো