বিজন ভাবনা (৬৪): শিক্ষানীতি ও অন্যান্য প্রসঙ্গ -বিজন সাহা

 

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্কাফি রতনের একটি বক্তব্য নানা তর্ক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অবশ্য বিতর্ক সৃষ্টি করা রতনের জন্য নতুন কিছু নয়। এভাবে চলতে থাকলে বিতর্ক সৃষ্টিই হবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে রতন তথা সিপিবির অন্যতম প্রধান অবদান। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষার উপর আলোচনায় রতনের বক্তব্য পুরোটা শুনে মনে হল এই বক্তব্যই অন্যভাবে দেয়া যেত। সেটা রতন ইচ্ছে করে করেনি নাকি দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের হস্তক্ষেপ তাকে কিছুটা হলেও বিভ্রান্ত বা লাইনচ্যুত করেছে সেটা ও নিজেই ভালো বলতে পারবে।

শুরুটা ভালো ছিল। ২০১০ সালে প্রাথমিক শিক্ষা হবে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই শিক্ষা হতে হবে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক, অবৈতনিক ও একমুখী। এরপরে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য কিছু বিষয় পয়েন্ট আউট করলে ও আসে এবতেদায়ী শিক্ষার ব্যাপারে। সমস্যার শুরু মনে হয় এখানেই। খুব সম্ভবত এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সিপিবির বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স “সর্বজনীন, অসাম্প্রদায়িক, গণমুখী, এক ধারার বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করাই সিপিবি’র দাবি” এই মর্মে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। তখনই বোঝা যায় যে রতনের বক্তব্য অনেকেই পার্টির লাইন থেকেই বিচ্যুতি মনে করছে। অনেকেই যেমন সর্বজনীন, অসাম্প্রদায়িক, গণমুখী, এক ধারার বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষানীতি সমর্থন করে রতনের বক্তব্যকে কাউন্টার করে লিখতে শুরু করেন, এর বিপক্ষে অনেকে আবার রতনের বক্তব্য সমর্থন করে কমেন্ট করে ও স্ট্যাটাস দেয়। সিপিবির মত সংগঠনের শিক্ষানীতি সর্বজনীন, অসাম্প্রদায়িক, গণমুখী, এক ধারার বিজ্ঞানভিত্তিক হবে – এটা প্রগতিশীল চিন্তাভাবনা করেন এমন সব মানুষের আশা। যদিও আপাতদৃষ্টিতে এই দুই ধারার মধ্যে তেমন পার্থক্য দেখা যায় না, তবে বৈষম্য বিরোধ মানেই যেমন সাম্য নয় সার্বজনীন, বাধ্যতামূলক, অবৈতনিক ও একমুখী শিক্ষা তেমনি যে সার্বজনীন, অসাম্প্রদায়িক, গণমুখী ও এক ধারার বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা হবে তার কোন গ্যারান্টি নেই।‌ বিশেষ করে বর্তমান বাংলাদেশে যেভাবে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল, তাতে প্রতিটি শব্দ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যতদূর বুঝতে পারি ক্কাফি রতন এই সভায় যোগদান করেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। তাই এমনকি নিজে ব্যক্তিগতভাবে অন্য শিক্ষানীতিতে বিশ্বাস করলেও এখানে পার্টির শিক্ষানীতি প্রচার করাই তার প্রধান দায়িত্ব। তাছাড়া যতদূর জানি ২০১০ সালে গৃহীত শিক্ষানীতি ২০২৪ এর পটপরিবর্তনের পর স্থগিত করা হয়েছে। তবে রতনের যে বক্তব্য অনেককেই অবাক করেছে তা এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষাকে প্রাথমিক শিক্ষার সাথে যুক্ত করার বিষয়ে তার সুপারিশ। যদিও গার্মেন্টস কর্মীদের সন্তানদের জন্য এবতেদায়ী মাদ্রাসা ডে কেয়ার সেন্টারের ভূমিকা পালন করে বলে তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন, এমনকি সভাপতি দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এতে অবাক হন ও শিক্ষানীতি প্রশ্নে সর্বদলীয় ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মন্তব্য করেন। উল্লেখ করা যেতে পারে যে সংবিধান বিষয়ক ঐক্যমত কমিশনের সভায় ক্কাফি রতন বাহাত্তরের সংবিধান সম্পর্কে বিতর্কিত বক্তব্য রাখেন।

এবার আসা যাক এবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষা সম্পর্কে। উইকিপিডিয়া বলছে এবতেদায়ী শিক্ষা ব্যবস্থা বাংলাদেশের আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাথমিক স্তর যা প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত বিস্তৃত এবং সাধারণ প্রাথমিক শিক্ষার সমমানের একটি ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার যাত্রা শুরু হয়। সাধারণ প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি এখানে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হয়। পাঠ্যসূচি – কোরআন তেলাওয়াত ও মুখস্তকরণ, আরবি, আকাইদ ও ফিকাহ, বাংলা, গণিত, ইংরেজি, ইতিহাস,  ভূগোল ও সাধারণ বিজ্ঞান। এছাড়াও বলা হয়েছে যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রতিবছর এবতেদায়ী স্তরের পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করে। এর কার্যক্রম বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বর্তমানে বাংলাদেশে হাজার হাজার স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা রয়েছে। এসব মাদ্রাসার স্বীকৃতি, জনবল কাঠামো ও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তকরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা কার্যক্রম ও সংস্কার চলছে।

অন্ততঃ উইকিপিডিয়া যে তথ্য দিচ্ছে তাতে বলা যায় এবতেদায়ী মাদ্রাসা কোন সমাধান নয় বরং নতুন সমস্যা নিয়ে আসবে প্রাথমিক শিক্ষায়। তাছাড়া, কী সিপিবির নেতা কর্মীরা, কী ক্কাফি রতন যে শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বলছে এবতেদায়ী ব্যবস্থা তার পরিপূরক নয়। প্রথমত মাদ্রাসা শিক্ষা সর্বজনীন নয়, অসাম্প্রদায়িক তো নয়ই।‌ কারণ সার্বজনীন হতে হলে তার দুয়ার জাতি ধর্ম নির্বিশেষ বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত থাকবে হবে। অসাম্প্রদায়িকতার প্রধান শর্ত দেশে বিদ্যমান সব ধর্ম শিক্ষা দেয়া বা ধর্ম শিক্ষা উঠিয়ে দেয়া। এবতেদায়ী শিক্ষা এমনকি বিজ্ঞান ভিত্তিক নয়। ফলে এবতেদায়ী শিক্ষা প্রাথমিক শিক্ষার সাথে একীভূত করা একমুখী শিক্ষা নয়, বরং বর্তমানে প্রচলিত একাধিক ব্যবস্থার আইনি ভিত্তি দেয়া। যেহেতু আর্থ-সামাজিক কারণে আমাদের দেশের বিরাট সংখ্যক শিশু কিশোর মাদ্রাসা শিক্ষা গ্রহণ করে বা করতে বাধ্য হয় তাই অন্তত সিপিবির সাধারণ সম্পাদক যদি এবতেদায়ী শিক্ষাকে প্রাথমিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত করতে চান সেটা হওয়া উচিত মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজিয়ে, মাদ্রাসাকে সম্পূর্ণ ভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিণত করে।

যারা রতনকে সমর্থন করে বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষার অবদানের কথা সামনে নিয়ে আসছে তাদের নিজেদের ঠিক করতে হবে তারা কি চায়। রতন যদি সিপিবির সাধারণ সম্পাদক না হয়ে সাধারণ কেউ হত, তাহলে আজ এই প্রশ্ন আসত না। পার্টির সাধারণ সম্পাদক তো বটেই, এমনকি যেকোনো সদস্য পার্টির নীতি প্রচার করবে এটাই স্বাভাবিক। বর্তমান ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাহাত্তরের সংবিধান নিয়ে রতনের বক্তব্য আবার সামনে চলে এসেছে। এই প্রসঙ্গে রতন ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন যে বাহাত্তরের সংবিধান নিয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ব্যাপারটা কি আসলেই তাই? আমি ওর নিজের পাঠানো ভিডিও পুরোটাই দেখেছি এবং আমার বিশ্বাস ইচ্ছাকৃত হোক আর অনিচ্ছাকৃত হোক, ওর সেই বক্তব্যে বাহাত্তরের সংবিধান নিয়ে কিছু মন্তব্য বা প্রশ্ন ও করেছিল যা পার্টির বক্তব্যের সাথে সংঘর্ষপূর্ণ। সেই সময় স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি চাইছিল একাত্তরের সমস্ত ধরণের চিহ্ন দেশ থেকে মুছে ফেলতে। এটা করতে তারা শুধু ৩২ নম্বর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বা মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন রকমের স্থাপনার উপর আঘাত করেই ক্ষান্ত হয়নি, সংবিধান পরিবর্তন করে তারা দেশের খোলনলচে বদলানোর চেষ্টা করে। তাই সেই সময় যেকোনো ধরণের অজুহাত তাদের হাতে দেয়া আসলে একাত্তরের প্রতি তাদের ক্ষোভকে প্রশ্রয় দেয়া। তখন না হয় বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন ছিল মানুষের মনে, কিন্তু আজ প্রায় আড়াই বছর পরে যখন প্রতিটি মানুষ সেই সময়ের কুশীলবদের সমস্ত চালাকি বুঝতে পেরেছে, যখন কারও মনে বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই যে চব্বিশের পটপরিবর্তন ডিপ স্টেটের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশকে আধুনিক উপনিবেশে পরিণত করার গভীর ষড়যন্ত্র তখন বাহাত্তরের সংবিধান সম্পর্কে নিজের সেই বক্তব্যকে জাস্টিফাই করার যেকোনো প্রচেষ্টা সন্দেহজনক। তখন বলেছি, এখনও বলছি – পার্টি ও রতনের উচিৎ বাহাত্তরের সংবিধান সম্পর্কে নিজেদের অবস্থানের ব্যাখ্যা দেয়া। আমাদের জানা মতে সংবিধান গ্রহণকালে কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও সিপিবি সেটা গ্রহণ করেছে এবং চব্বিশের আগে আগে পর্যন্ত সব সময় বিভিন্ন সংশোধন ব্যাতিরেকে বার বার বাহাত্তরের সংবিধান পুনর্বহাল করার দাবি করেছে। তাই এক্ষেত্রে ভিন্ন মতের সুযোগ নেই। রতনের বক্তব্যের একটি মূল অভিযোগ ছিল সংবিধানের ভেটিং নিয়ে। এবং সেটা ভারতে হয়েছে কিনা সে বিষয়েও তিনি প্রশ্ন করেছিলেন। এ নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হয়েছে এবং তৎকালীন আইনমন্ত্রী ডঃ কামাল হোসেন জানান অস্ট্রেলিয়া, ভারত, কানাডা সহ কমনওয়েলথের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা হলেও সংবিধানের মূল ভিত্তি ছিল বাংলাদেশের সংবিধান কমিটির খসড়া। তাই রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে গিয়ে ভারতের নাম জড়ানো অনেকেই মনে করে উদ্দেশ্য প্রণীত।

সিপিবির সাধারণ সম্পাদক ক্কাফি রতন আরও একটি ভিডিওতে বলছেন যে “১৯৯৩ সালে বিলোপবাদীদের পার্টি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে পার্টি কে রক্ষা করা হয়েছিল।” এ নিয়েও অনেকেই প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই লিখেছেন যে দুই পক্ষ লিখিত চুক্তি করে একই দিনে পৃথক পৃথক বিশেষ সম্মেলন করেছিল। স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি দুই পক্ষের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছিল। কোন পক্ষ কোন পক্ষকে বহিষ্কার বা তাড়িয়ে দেয়নি। দুঃখের বিষয় যে রাজনীতি এখন মিথ্যাচারের চারণভূমি হয়ে উঠছে। যে যত বড় মিথ্যা প্রতিষ্ঠা করতে পারে সে তত বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করে। জীবন, সামাজিক সম্পর্ক এসবের পাশাপাশি রাজনীতিও ভার্চুয়াল জগতে প্রবেশ করেছে। আমি মনে করি যে কমরেড মঞ্জুরুল আহসান খান, কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম সহ অনেকেই সেই সময় এসব চুক্তির সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন ও খুব সম্ভব এসব চুক্তি স্বাক্ষর তারা নিজেরা এসব চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। তাই তারা যদি এসব বিষয়ে মুখ খুলেন এবং সঠিক তথ্য দেন তাহলে এই ধরণের বিতর্ক এড়ানো যায়। কারণ মিথ্যার উপর বেশিদিন দাঁড়িয়ে থাকা যায় না।

বিতর্কের জন্ম দিয়ে নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখা যায়। তবে সেটা যদি নিজের সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট করে তাহলে ভেবে দেখতে হবে এসব কথা আদৌ দরকার কিনা। পার্টির ভেতরে বিভিন্ন গ্রুপ থাকতে পারে, থাকতে পারে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, কিন্তু আমরা যারা সরাসরি পার্টি করি না, যারা পার্টির শুভানুধ্যায়ী তাদের কাছে কে সভাপতি বা কে সাধারণ সম্পাদক হল তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ তারা পার্টির আদর্শ সমুন্নত রাখছে কিনা। এসব বিতর্ক শুধু পার্টির ভেতরে বিভাজনই সৃষ্টি করে না, অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে স্বাধীনতার বিরোধী শক্তিকে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ করে দেয়। আমরা আশা করব যে সিপিবির নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্য প্রকাশের ক্ষেত্রে  আরও সচেতন হবে, চেষ্টা করবে বিতর্ক বা ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি এ ধরণের বক্তব্য দেয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখবে। বাহাত্তরের সংবিধান, শিক্ষানীতি, পার্টির ভাঙনের সময় কোন চুক্তি হয়েছিল কিনা এসব ব্যাপারে আমরা সিপিবির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির অবস্থান জানতে চাই। এসব ব্যাপারে সিপিবির অফিসিয়াল বক্তব্যই শুধু বর্তমান ভুল বোঝাবুঝি নিরসন করতে পারে। আর সেটা পার্টি নেতৃত্ব যত দ্রুত করেন তত মঙ্গল।

গবেষক, জয়েন্ট ইনস্টিটিউট ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ
শিক্ষক, রাশিয়ান পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি, মস্কো