তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে নারী ক্ষমতায়ন এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান

চট্টগ্রাম: ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদকে সংহত করি, নারী আন্দোলন অগ্রসর করি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাংগঠনিক মাস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে নারী ক্ষমতায়ন বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার বিকেল ৪টায় নগরীর জিইসি এলাকায় অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় নারী ক্ষমতায়ন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারী আন্দোলনকে আরও গতিশীল করতে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক লতিফা কবিরের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সিতারা শামীম। সভা সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক স্বাতী পাল।

সভায় বক্তারা বলেন, সমাজে নারীর সমঅধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং নারী ক্ষমতায়নকে বাস্তব ও টেকসই করতে হলে নারী সমাজের পাশাপাশি পুরুষ ও তরুণ প্রজন্মকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্য, সহিংসতা ও নেতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে এগিয়ে থাকায় নারী অধিকার ও সমতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সমাজে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার মানসিকতা গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে।

মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারী তরুণ-তরুণীরা নারী ক্ষমতায়ন ও নারী আন্দোলনের বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। তারা নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করা, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন শুধু নারীদের বিষয় নয়; এটি একটি সামগ্রিক সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়। তাই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে সম্মিলিতভাবে নারী আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে।

মতবিনিময় সভার মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নারী অধিকার ও সমতার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ নারী আন্দোলনে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।