যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তি–পরবর্তী আলোচনা স্থগিত, সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল করলেন জেডি ভ্যান্স
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড সফরের কথা থাকলেও তা স্থগিত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance।
সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার নির্ধারিত আলোচনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। আজ শুক্রবার এ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল।
হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জানান, আলোচনার প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জটিল হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্টের সফর স্থগিত করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের একদিন আগে বুধবার রাতে তা সম্পন্ন হয়। ফ্রান্স থেকে ভার্চ্যুয়ালি স্মারকে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং তেহরান থেকে স্বাক্ষর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian।
পরবর্তীতে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf জানান, শুক্রবার আর কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে না। তবে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের একটি পাহাড়ি অবকাশকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, মধ্যস্থতাকারী Pakistan, Qatar এবং অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে প্রায় ৬০ দিনব্যাপী আলোচনা হওয়ার কথা। আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং দেশটির জব্দ করা অর্থ ছাড়ের বিষয়।
তবে এই সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি চূড়ান্ত করতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছিল। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরান যতদিন ‘সঠিকভাবে আচরণ’ করবে, ততদিন সময়সীমা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন।
যদিও ইরান সমঝোতা স্মারককে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, তবুও নানা শঙ্কা রয়ে গেছে। স্মারকে স্বাক্ষরের পরই ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। একই সময়ে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
তেহরানের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের অধ্যাপক Mostafa Khoshcheshm মনে করেন, চুক্তিকে টেকসই করতে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের। আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান চুক্তি থেকে সরে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই বর্তায়।
তবে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে কয়েকটি জাহাজ চলাচল করেছে, যার মধ্যে ফ্রান্সের পতাকাবাহী একটি জাহাজও রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ১১টি জাহাজ নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। একই দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৯ ডলারের নিচে নেমে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সংঘাতের পর এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে চুক্তির বাস্তবায়ন, আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।

