বিজন ভাবনা

বিজন ভাবনা (৪৯): যুদ্ধের গতিবিধি  

-বিজন সাহা

 

ঘুম ভাঙতেই বন্ধুদের মেসেজ পেলাম –
– মস্কো এয়ারপোর্ট বন্ধ কেন?

এই এক মজার ব্যাপার। মস্কো এয়ারপোর্ট বন্ধ তার জবাবদিহি করতে হবে আমাকে। রাতের অন্ধকার ভেদ করে এন্টি এয়ার ডিফেন্স কাজ করল, গুলিয়া সাথে সাথে আমার কাছে জবাব চায়। মহা মুস্কিল। যাহোক, এর আগে অবশ্য মস্কো মেয়রের অফিস থেকে মেসেঞ্জারে জানিয়েছে যে আজ (১০ জুন ২০২৬) সকাল থেকে মস্কো ও মস্কো রিজিয়নে ১৯৪ টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। গুলিয়া বলল, সকালের দিকে পর পর ৬টি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছে। ঘুম থেকে উঠে চা খাচ্ছি, বিস্ফোরণের শব্দে ঘর কেঁপে উঠল, বাড়ির সামনে ঘুমিয়ে থাকা গৃহহীন গাড়িগুলো তারস্বরে চিৎকার করতে শুরু করল। বাইরে তাকিয়ে দেখি কালো ধোঁয়ার লাইন চলে গেছে আমাদের বিল্ডিঙের পাশ দিয়ে। বুঝলাম, শহরের উত্তরপূর্ব দিকে অবস্থিত এন্টি এয়ার ডিফেন্সের রকেটগুলো শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত ড্রোন নির্মাণ কেন্দ্র আক্রমণকারী ইউক্রেনিয়ান ড্রোন ধ্বংস করেছে। সাধারণত দুটো শব্দ হয়। প্রথমটা কর্কশ। এটা রকেটের লক্ষ্যভেদের শব্দ। দ্বিতীয় শব্দটা ভোঁতা, ড্রোন পড়ার। যাহোক, বন্ধুদের জানালাম যে এয়ারপোর্ট বন্ধের কারণ হল ইউক্রেনের ড্রোন আক্রমণ। আসলে অনেক দিন ধরেই এয়ারপোর্ট জরুরি অবস্থার মধ্যে কাজ করছে। যদি ড্রোন আক্রমণের সম্ভাবনা থাকে, তাহলে মস্কোগামী প্লেন অন্যান্য শহরে পাঠিয়ে দেয়। যুদ্ধ যুদ্ধই। এই বাস্তবতা মেনেই চলতে হবে। অবশ্য বন্ধুরা এই উত্তরে খুশি নয়। কেউ কেউ জানতে চাইল তবে কি পুতিন ইউক্রেনের কাছে হেরে যাচ্ছে। এসব প্রশ্ন আমাকে যারপরনাই অসহায় করে তোলে। কারণ লোকজন বুঝতে চায় না যুদ্ধ মানে দুই পক্ষের ধাক্কাধাক্কি, এক হাতে মারামারি হয় না, সেটা হয় স্রেফ মার। তাছাড়া ইউক্রেন তো নিমিত্ত মাত্র। ওর হাত দিয়ে অর্ধশতাধিক দেশ রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ করছে, যুদ্ধ করছে যুদ্ধ ঘোষণা না করে। সেটা আরও ভয়ঙ্কর। কারণ এসব দেশের অর্থ, অস্ত্রশস্ত্র, তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য, এমনকি সামরিক উপদেষ্টা সবাই ইউক্রেনের হয়ে যুদ্ধ করছে। ভেবে দেখুন, যুদ্ধ হচ্ছে কিন্তু সরবরাহ কেন্দ্র ধরা ছোঁয়ার বাইরে, ফিজিক্যালি না হলে জুডিশিয়ালি। কারণ ইউক্রেনের প্রায় সব সাপ্লাই আসছে ইউরোপ, আমেরিকা থেকে। রাশিয়া এসব জেনেও নিরুপায়। চাইলেই এসব দেশ আক্রমণ করতে পারে না, করলে আন্তর্জাতিক আইনে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়। যদিও ইসরাইল ও আমেরিকার ইরান আক্রমণের পর আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো যায়, কিন্তু সবাই তো আমেরিকা বা ইসরাইল নয়।

সত্যি বলতে আজ যুদ্ধ নিয়ে লেখার কোন ইচ্ছাই ছিল না। অন্য একটা বিষয় নিয়ে একটা লেখা প্রায় শেষের পথে ছিল। তবে সকালের ঘটনায় মনে হল আবার যুদ্ধ নিয়ে লিখি, কারণ যুদ্ধটা যখন আমাদের ঘরের ভেতরে প্রবেশ করছে তাহলে আমরাই বা কেন ওকে নিয়ে লিখব না। আমরা ক্লাবে সাধারণত রাজনীতি নিয়ে কথা বলি না। কারণ এখন রাজনীতি নিয়ে কথা বলা মানেই ইচ্ছা অনিচ্ছায় যুদ্ধের কথা চলে আসবে। এই যুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মত আছে। এটা সৃজনশীল কাজের পরিবেশের জন্য আইডিয়াল নয়। আমাদের মূল আলোচনার বিষয় ফটোগ্রাফি। আর যেহেতু এদের সেন্স অফ হিউমার খুব ভাল, তাই মাঝেমধ্যে বিভিন্ন চুটকি। তবে স্লাভা ছুটিতে যাচ্ছে বলে গত মঙ্গলবার ছিল শেষ মিটিং। অন্তত জুলাইয়ের আগে আর বসছি না। সবাই রিল্যাক্স মুডে। আর তাই রাজনীতি চলে এল। স্লাভা বলল
– শনিবার ভোলগার তীরে ক্যামেরা, ট্রিপড নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম ছবির স্পট দেখার জন্য। ব্রীজের ওদিকে যেতেই একজন এসে বলল “এখান থেকে চলে যান। রুশ গার্ড (রস গভারদিয়া) এলে ঝামেলা করতে পারে।”

আমার মনে পড়ে গেল কিছু দিন আগের কথা। আমি বছরের এই সময় কিছু গাছের ছবি তুলি। এদের একটা ৯ নম্বর স্কুলের আঙ্গিনায়। আমাকে ছবি তুলতে দেখে গার্ড এগিয়ে এসে বললেন, “আপনি এখান থেকে চলে যান। স্কুল এখন রেস্ট্রিক্টেড এলাকা। চারিদিকে ক্যামেরা লাগানো। রুশ গার্ড এসে ঝামেলা করতে পারে।” এর মানে ধীরে ধীরে আমাদের চলাফেরাও নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। বলে রাখি যে এদেশে ব্রীজ, বাঁধ ইত্যাদি স্ট্র্যাটেজিক্যাল স্থাপনা বলে গণ্য করা হয়। তাই যুদ্ধকালীন সময়ে এসব জায়গায় ছবি তোলা ও ভিডিও করার উপর অলিখিত নিষেধ আছে। তখন আমার পদ্মা রেল সেতুর নীচে মাটি কাটার ঘটনা মনে পড়ে গেল। আমাদের দেশেও সেতু, টানেল ইত্যাদি সংরক্ষিত এলাকা করা উচিৎ।

আজ দুপুর পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। কয়েকটি পড়েছে আবাসিক এলাকায়। মস্কো রিজিয়নে ১৭ জন আহত। এ নিয়ে রাশিয়া জাতি সংঘে প্রতিবাদ জানিয়েছে। জেলেনস্কি বলেছে তারা বেসামরিক স্থাপনা ও গাড়ি বাড়ি টার্গেট করবে। আসলে এই এক বিষয় যা আমার মাথায় আসে না। এদেশে পুলিশকে বলতে গেলে অস্ত্র চালাতে দেয়া হয় না। ফলে দস্যুদের ধরতে গেলে পুলিশের রিস্ক বেশি। একই ব্যাপার যদি কেউ আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র ব্যবহার করে। তাহলে তাকে কোর্টে প্রমাণ করতে হবে যে তার অন্য কোন উপায় ছিল না।  ডাকাতকে গুরুতর আহত করে নিজে জেলের ভাত খাচ্ছে এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে। কিন্তু সুযোগ পেলে ডাকাত যে তাকে হত্যা করতে দ্বিধা করত না সেটা এরা মানতে চায় না। যারা আইন মেনে চলে সবসময় তাদের কাছেই আইন রক্ষার হিসাব চাওয়া হয়। রাশিয়া প্রায়ই সভ্য বিশ্বের কাছে মানবতার দাবী করে। কিন্তু কেন যেন বুঝতে চায় না যে এই মানবতা আমাদের জন্য নয়, এসব শুধু পশ্চিমা বিশ্বের জন্যই বরাদ্দ। ইসলাম যেমন অন্য ধর্মের মানুষ যে স্বর্গে যেতে পারে সেটা স্বীকার করে না, সবাইকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করতে চায়, পশ্চিমা বিশ্বের হর্তাকর্তারাও তেমনি তাদের বলয়ের বাইরে কোন দেশের মানুষ মানবাধিকার ভোগ করতে পারে সেটা মানে না, আর তাই সমস্ত বিশ্বের মানুষকে গণতন্ত্রের পশ্চিমা ভার্সনে দীক্ষিত করতে চায়। তবে সেটা এসব দেশে গণতন্ত্র বা মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্য নয়, নিজেদের শাসন ও শোষণ চিরস্থায়ী করার জন্য।

পড়ুন:  বিজন ভাবনা (৪৮): শান্তির জন্য যুদ্ধ?  -বিজন সাহা  

রাশিয়াকে যে তারাই যুদ্ধে নামিয়েছে সেটা তো এখন তারা নিজেরাও অস্বীকার করে না। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে, নিজ নিজ দেশের মানুষের আরাম আয়েশ হারাম করে তারা ইউক্রেনকে যুদ্ধে নামিয়েছে কি হারার জন্য? তারা তো এখন বলেই বেড়াচ্ছে যে যতদিন প্রয়োজন ততদিন তারা ইউক্রেনের পাশে থাকবে, ইউক্রেনকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করে যাবে। যুদ্ধ শুরু থেকেই ইউক্রেনের হাতে ছিল না। ইউক্রেনের মানুষ তাদের দরকার নেই, যেমন হিটলারের দরকার ছিল না সোভিয়েত জনগণ। তাই যুদ্ধে কে মারা গেল, কতজন মারা গেল, সেটা নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই, তাদের দরকার রাশিয়ার অঢেল সম্পদ। সেটা দখল করতে পারলে যুদ্ধের সমস্ত ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে যাবে। এই তো জি-৭ সামিট হল। সেখানে তারা নতুন করে রাশিয়াকে পরাজিত করার শপথ নিল। এটা কোন কথার কথা নয়, এটা অত্যন্ত সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। এর একটাই ওষুধ, যুদ্ধ তাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া। তারা তো এখন সেটাই করছে। ধীরে ধীরে যুদ্ধ রাশিয়ার অভ্যন্তরে নিয়ে আসছে। আচ্ছা, যদি মস্কোর সার্কেল লাইনে, যেখানে হাজার হাজার গাড়ি এক সাথে চলছে, দুটো ড্রোন আঘাত হানে, এমন কি যদি কোন গাড়িতে আঘাত নাও লাগে, তাহলে যে প্যানিক সৃষ্টি হবে তার ফলাফল কি রুশ কর্তৃপক্ষের কেউ ভেবে দেখে? যেকোনো খেলায় তখনই জেতার সম্ভাবনা থাকে যখন সবাই একই নিয়মে খেলে। এখানে মোহাম্মদ ঘোরীর ভারত আক্রমণের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। কথিত আছে মোহাম্মদ ঘোরী বেশ কয়েক বার পৃথ্বীরাজ চৌহানের কাছে পরাজিত হন আর পৃথ্বীরাজ চৌহান প্রতিবারই তার প্রান ভিক্ষা দেন। কিন্তু যখন মোহাম্মদ ঘোরী চৌহানকে পরাজিত করে তখন ক্ষমা না করে তাকে হত্যা করে। আজ কিন্তু খুব কম লোকই পৃথ্বীরাজ চৌহানকে মনে রেখেছে, কিন্তু মোহাম্মদ ঘোরীকে সবাই চেনে। বিভিন্ন অজুহাতে রাশিয়া জেলেনস্কির উপর আক্রমণ করতে চায় না। কিন্তু সুযোগ পেলে সে কি পুতিনকে দ্বিতীয় সুযোগ দেবে? মনে হয় না। শাসক হিসেবে যতই অযোগ্য হোক না কেন, এমনকি মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পরেও জেলেনস্কি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। ততদিনই থাকবে যতদিন পশ্চিমা বিশ্ব এটা মেনে নেয়। এত কিছুর পরেও সে কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বকে কনভিন্স করতে পারছে ইউক্রেনকে সাহায্য করার জন্য। যখন রুশ সেনারা ২০২২ সালে কিয়েভের উপকণ্ঠে হাজির হয় জেলেনস্কি সাথে সাথে শান্তি চুক্তি করতে রাজী হয়। তখন কিয়েভের উপকণ্ঠ থেকে রুশ সেনা সরিয়ে আনলে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায়। সেদিক থেকে অমানবিক হলেও আমেরিকা ঠিক করে, প্রথমেই রাজধানীতে আঘাত করে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ধ্বংস করে। আচ্ছা, সেই সময় যদি কিয়েভ দখল করে জেলেনস্কিকে বাধ্য করা হত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করতে তাহলে কি লাখ লাখ মানুষ প্রাণে বাচত না? সেটা তো অনেক বেশি মানবিক হত। আসলে লোকক্ষয়ের কথা চিন্তা করে যুদ্ধ চালিয়ে যুদ্ধ তো দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে, তাতে মানুষের দুর্দশা বাড়ছে। নিজেদের লোকক্ষয় হচ্ছে, সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। পশ্চিমা বিশ্ব সেটাই চাইছে। এভাবে ভেতর থেকে দুর্বল করে কয়েক বছর পরে একসাথে রাশিয়ার উপর ঝাঁপিয়ে পড়া তাদের প্ল্যান, যা তারা প্রকাশ্যে বলে। তাহলে নিজেরা যখন তাদের চেয়ে শক্তিশালী তাহলে তখনই কি এর ফয়সালা করা উচিত না? আমেরিকা বাদেও পশ্চিমা বিশ্ব জনবলে, অর্থবলে রাশিয়ার চেয়ে কয়েকগুন বেশি শক্তিশালী। সবচেয়ে বড় কথা হল তাদের জনগণের একটি বিরাট অংশ অন্ধ রুশ বিরোধী। এই প্রশ্নে তারা প্রায় মৌলবাদী। তখন কি সেই যুদ্ধে রাশিয়া আরও বেশি নাজুক অবস্থায় থাকবে না? সেটা হলে তো অপশন মাত্র দুটো – আত্মসমর্পণ অথবা আত্মহত্যা, একা বা সবাইকে নিয়ে। মানে পারমাণবিক যুদ্ধ।

পিতেরবুরগ ইকোনোমিক ফোরামে পুতিন বললেন যে জার্মানি চাইলে এখনই সেখানে তেল, গ্যাস সরবরাহ করা হবে। কিন্তু সেই তেল গ্যাস যে অস্ত্র হয়ে ইউক্রেনে আসবে না তার কি গ্যারান্টি? ইতিহাস কখনও মানবিক শাসককে মনে রাখে না, মনে রাখে বিজয়ী শাসককে, কারণ বিজয়ীরাই ইতিহাস লেখে। পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ না করলেও মিত্র শক্তি জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জিতত। তারপরেও আমেরিকা হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা ফেলে। কেউ কিন্তু এজন্য আমেরিকাকে দায়ি করেনি। এখন প্রতিদিন রাশিয়ার উপর ড্রোন আক্রমণ বৃদ্ধি পাবে। শত্রু কোন কিছুতেই তার প্ল্যান থেকে পিছু হটবে না। প্রশ্ন কাজটা সমীচীন কি না তা নয়। অন্ধ ঘৃণা যখন চালিকা শক্তি হয় তখন কোন যুক্তি কাজ করে না। এদেশে মানুষ ধীরে ধীরে অস্থির হয়ে উঠছে। তারা চায় ডিসিসিভ একশন। এখনও তারা ইউক্রেন তথা পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে পুতিনের যেকোনো কঠোর পদক্ষেপ সমর্থন করবে, কিন্তু খুব দেরি হলে মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়বে আর কমবে তাঁর প্রতি সমর্থন। ইউক্রেন রাশিয়ার বেসামরিক লোকদের হত্যা করছে, যদি রাশিয়া শুধু সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে তাতে ইউক্রেনের মানুষ আর যাই করুক জেলেনস্কির উপর যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করবে না। শুধু তাই নয়, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের বেসামরিক স্থাপনা যেমন ব্রিজ, রেল লাইন এসবও ধ্বংস করতে শুরু করে সেটাও পশ্চিমা বিশ্বকে সচেতন করতে পারে। কারণ পশ্চিমা বিশ্ব এখনও বিশ্বাস করে যে রাশিয়া আর যাই করুক সাধারণ মানুষের উপর আঘাত হানবে না। আর এটাই তাদের আরও বেশি ক্ষিপ্ত করে। পশ্চিমা বিশ্ব সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করছে রাশিয়াকে প্রভোক করতে। শত্রুর প্রোভোকেশনে পা দেয়া ঠিক নয়, কিন্তু শত্রু যদি বছরের পর বছর সেটা চালিয়ে যায় আর দুই দিন আগে হোক আর দুই দিন পরে হোক, যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে, তাহলে সেটা নিজের শর্তে করাটাই কি ভাল নয়? পশ্চিমা বিশ্ব ইতিমধ্যে রাশিয়াকে সফল ভাবে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নামিয়েছে। ভুলে গেলে চলবে না যে অস্ত্র প্রতিযোগিতাই ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙ্গার অন্যতম প্রধান কারণগুলোর একটা।

গবেষক, জয়েন্ট ইনস্টিটিউট ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ
শিক্ষক, রাশিয়ান পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি, মস্কো