জ্বালানি তেল-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার ও অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে বাসদ (মার্কসবাদী)-এর বিক্ষোভ সমাবেশ
চট্টগ্রাম, ১৬ জুন ২০২৬:
জ্বালানি তেল-বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালনাসহ ৭ দফা দাবিতে কেন্দ্রঘোষিত ‘দাবি সপ্তাহ’-এর প্রথম দিনে বাসদ (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল ৫টায় চট্টগ্রামের নিউমার্কেট মোড়ে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিউমার্কেট মোড় থেকে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিপিও মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিউমার্কেট ও জিপিও এলাকায় গণসংযোগ এবং প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়।
বাসদ (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলা শাখার সমন্বয়ক শফি উদ্দিন কবির আবিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা শাখার সদস্য আসমা আক্তার, জাহেদুন নবী কনক ও দীপা মজুমদার। সমাবেশ পরিচালনা করেন রিপা মজুমদার।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। গণশুনানিতে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় এবং সিস্টেম লস কমানোর মাধ্যমে বিদ্যুতের মূল্য হ্রাসের সুযোগ থাকলেও সরকার সে পথে অগ্রসর হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বোরো মৌসুমে কৃষকদের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকার কার্যকর সহায়তা দেয়নি। ফসল বিক্রির ক্ষেত্রেও কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে শিল্পাঞ্চলে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। সামগ্রিকভাবে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমানের কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
বক্তারা অভিযোগ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বামপন্থী দলগুলো সংসদ সদস্যদের কাছে খোলা চিঠি দিলেও বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ সরকারি ও বিরোধী দলের অধিকাংশ সংসদ সদস্য এ বিষয়ে সংসদে কোনো আলোচনা তোলেননি। তারা দাবি করেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে জনগণকে অন্ধকারে রেখে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংসদবিহীন অবস্থায় নিজেদের এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
নেতৃবৃন্দের মতে, চুক্তিটির বিভিন্ন ধারা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্যিক সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা দাবি করেন, এ চুক্তির ফলে মার্কিন পণ্যে শুল্ক ছাড়ের কারণে সরকার বছরে প্রায় ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে। পাশাপাশি দেশের কৃষি, ওষুধশিল্প, পোলট্রি, ডেইরি, মৎস্য খাত, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাই জাতীয় সংসদে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুত এ চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ সরকারের কাছে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে সপ্তাহব্যাপী ‘দাবি সপ্তাহ’ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান এবং জনগণকে নিম্নোক্ত ৭ দফা দাবির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান—
১. জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো এবং সর্বজনীন রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা।
২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করা।
৩. জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা এবং মিথ্যা মামলা ও হয়রানি বন্ধ করা।
৪. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গণতান্ত্রিক সংস্কার, সংবিধানের অগণতান্ত্রিক ধারা বাতিল এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কাজসহ ছয়টি মৌলিক অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা।
৫. শ্রমিকদের জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চিনিকল ও পাটকল চালু করা।
৬. কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সার, বীজ ও কীটনাশকে পর্যাপ্ত ভর্তুকি প্রদান করা।
৭. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

