চলমান সংবাদ

ঢাকায় জ্বালানি তেলের পাম্পে দীর্ঘ সারি, কোথাও কোথাও বিক্রি বন্ধ

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি তেল (অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল) ও গ্যাস বিক্রির পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি ও ভিড় দেখা গেছে। অনেক জায়গায় যানবাহনের সারি পাম্প ছাড়িয়ে মূল সড়কে ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও জ্বালানি তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশন ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাম্পগুলোতে চাপ বেড়েছে। বেশির ভাগ ক্রেতাই ট্যাঙ্ক পূর্ণ করে জ্বালানি নিচ্ছেন। ফলে অনেক পাম্পের রিজার্ভ দ্রুত কমে গেছে।

সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে রাজধানীর অন্তত দুটি পাম্পে সাময়িকভাবে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ রাখতে দেখা গেছে। এ ছাড়া কয়েকটি পাম্পে খোলা ড্রাম বা বোতলে ডিজেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।

সকাল সোয়া ৯টার দিকে মিরপুর-২ নম্বর সনি মোড়সংলগ্ন স্যাম অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড পাম্পে গিয়ে মোটরসাইকেলের লম্বা সারি দেখা যায়। বিক্রয়কর্মীরা জানান, বেশির ভাগ চালকই ট্যাঙ্ক ফুল করে জ্বালানি নিচ্ছেন।

সেখানে কথা হয় রাইড শেয়ারিং চালক সালাম মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, “সাধারণত দিনে দুই থেকে তিনবার ২০০–৩০০ টাকার তেল ভরি। কিন্তু আজ কিছু টাকা জোগাড় করে ফুল ট্যাঙ্ক করলাম। ১ হাজার ৬০ টাকা লেগেছে। তেল না পেলে বাইক বন্ধ হয়ে যাবে, তখন সংসার চলবে কীভাবে?”

পাম্পটিতে খোলা বোতল বা ড্রামে ডিজেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। পাইলিংয়ের কাজ করা শ্রমিক মাহফুজ আলী জানান, প্রতিদিন কাজে প্রায় ৩০ লিটার ডিজেল লাগে। তিনি বলেন, “কাজ বন্ধ রেখে ডিজেল কিনতে এসেছিলাম, কিন্তু বলছে ডিজেল নাই।”

স্যাম অ্যাসোসিয়েটস পাম্পের ক্যাশিয়ার শরীফ আহমেদ বলেন, সাধারণত তাদের পাম্পে ২০ থেকে ২৭ হাজার লিটার জ্বালানি মজুত থাকে। বর্তমানে তা প্রায় ৫ হাজার লিটারে নেমে এসেছে। ডিজেল প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় খোলা বিক্রি বন্ধ রেখে শুধু যানবাহনে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে।

সকাল পৌনে ১০টার দিকে কল্যাণপুরের খালেক পাম্পেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দেড় থেকে দুই গুণ বেশি যানবাহনের চাপ দেখা গেছে। সেখানে দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির ভিড় বেশি ছিল।

আসাদগেটসংলগ্ন তালুকদার ফিলিং স্টেশনেও সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের ভিড় দেখা যায়। যানবাহনের সারি মূল সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় যানজট সৃষ্টি হলে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের তৎপরতা দেখা যায়। পরে পাম্পে ঢোকার প্রবেশমুখ বাঁশ দিয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পাম্পটির ক্যাশিয়ার ইমরান আহমেদ বলেন, প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার লিটার জ্বালানি বিক্রি হয়। কিন্তু ডিপো থেকে সরবরাহ না আসায় মজুত দ্রুত কমে গেছে। রিজার্ভ ট্যাঙ্কে ন্যূনতম ৪০০ লিটার রাখতে হয়। মজুত সেই সীমার কাছাকাছি চলে আসায় বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছে।

বিজয় সরণির ট্রাস্ট রিফুয়েলিং স্টেশনেও দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা গেছে। পাম্প থেকে প্রায় ৩৫০ মিটার দূর পর্যন্ত ব্যক্তিগত গাড়ি অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

অন্যদিকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কালশীর সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সব ধরনের জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাস বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। বিক্রয়কর্মীরা জানান, আগের রাতেই অধিকাংশ জ্বালানির মজুত শেষ হয়ে গেছে।

পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, ডিপো থেকে নিয়মিত সরবরাহ না আসা এবং হঠাৎ বাড়তি চাহিদার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তারা আশা করছেন।