চলমান সংবাদ

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে চট্টগ্রামে জাতীয় নারী ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের মানববন্ধন ও লাল পতাকা মিছিল

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয় নারী ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (বিটিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির উদ্যোগে আজ সকাল ১১টায় নগরীর কাজীর দেউরি মোড়ে এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শ্রমজীবী নারীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন এবং নারী অধিকার, নিরাপত্তা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

জাতীয় নারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, চট্টগ্রাম জেলার সহ-সভাপতি রোজী চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে এবং টিইউসি চট্টগ্রাম জেলার যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অপরাজেয় বাংলাদেশ চট্টগ্রামের ইনচার্জ জিনাত আরা, নারী নেত্রী যমুনা কূর্মী, সুপর্ণা বড়ুয়া, মোকাদ্দেসা খানম, প্রদীপ দাশ ও মো. মিজানুর রহমান।

বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস কেবল আনুষ্ঠানিক উদযাপনের দিন নয়; এটি নারীর অধিকার, মর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের দিন। কর্মক্ষেত্র, পরিবার ও সমাজের সর্বস্তরে নারীর নিরাপত্তা, সমান মজুরি ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। শ্রমজীবী নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনের জন্য রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সমাবেশে বক্তারা সীতাকুণ্ডে সাত বছরের শিশু ইরা মণিকে ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ড এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একইসঙ্গে তারা বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতির সমালোচনা করেন এবং ইরান ও ফিলিস্তিনে নারী-শিশুসহ নিরীহ মানুষের ওপর হামলার বিচার দাবি করেন।

সমাবেশ শেষে একটি লাল পতাকা মিছিল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা নারী নির্যাতন বন্ধ, নারী শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও গণহত্যা বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, নারীর মুক্তি ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই নারী অধিকার রক্ষায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংগঠিত আন্দোলন জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।