চলমান সংবাদ

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার বৈধতা নিয়ে বিতর্ক, কূটনৈতিক দ্বিধায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের নীতির সমালোচনা করছে, অন্যদিকে হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আন্তর্জাতিক মহলে।

European Union ইতোমধ্যে তেহরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সামরিক তৎপরতার সমালোচনা করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বৈধ কি না—এই প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান নিতে দ্বিধায় রয়েছে ইইউ। সোমবার ইইউর এক মুখপাত্র সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে যান।

ইরানের মানবিক সংস্থা Iranian Red Crescent Society জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনেই-সহ অন্তত ৫৫৫ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এতে হামলার বৈধতা ও মানবিক প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে “সন্ত্রাসবাদের অন্যতম মদতদাতা যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।” তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও ধ্বংস করতে চায়।

তবে ওয়াশিংটন এই হামলাকে আন্তর্জাতিক কাঠামোর মধ্যে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, “তথাকথিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ও তাদের নিয়মকানুনের কথা না ভেবেই যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিয়েছে।”

এই অবস্থান ইউরোপে ভিন্নধর্মী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস ওয়াশিংটনের প্রকাশ্য সমালোচনা এড়িয়ে গিয়ে বলেছেন, “আন্তর্জাতিক আইনের বিশ্লেষণ করে খুব বেশি কিছু পাওয়া যাবে না। এখন আমাদের অংশীদারদের প্রকাশ্যে সমালোচনা করার সময় নয়।”

অন্যদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো স্যানচেজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, “আমরা এই একতরফা সামরিক পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করছি। এর ফলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।”

আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও এ নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। University of Cambridge-সংযুক্ত থিংক ট্যাংক Chatham House-এর আন্তর্জাতিক আইন কর্মসূচির পরিচালক মার্ক ওয়েলার বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই হামলার পক্ষে বর্তমানে কোনো সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। তার মতে, কোনো দেশ সরাসরি সশস্ত্র আক্রমণ না করলে কেবল শত্রুতামূলক অবস্থানের ভিত্তিতে সামরিক শক্তি প্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইনে অনুমোদিত নয়।

অন্যদিকে University of Reading-এর আইন বিভাগের অধ্যাপক রোসা ফ্রিডম্যান মনে করেন, বৃহত্তর নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটে বিষয়টি দেখা প্রয়োজন। তার মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে আইনি হিসেবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।

সব মিলিয়ে ইরানে সামরিক হামলার পর আন্তর্জাতিক আইন, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।