শীর্ষ খবর:
চলমান সংবাদ

শিশু-কিশোরদের খেলার মাঠে না আনলে অপরাধপ্রবণতা বাড়বে—এই তাড়না ছিল শায়েস্তা খানের: ফারুক–ই–আজম

চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু-কিশোরদের খেলার মাঠে আনা না গেলে অপরাধপ্রবণতা বাড়বে—এমন গভীর তাড়না থেকেই আজীবন কাজ করেছেন প্রফেসর শায়েস্তা খান। এমন মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক–ই–আজম।

গতকাল শুক্রবার নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে প্রফেসর শায়েস্তা খান স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা ফারুক–ই–আজম বলেন, সরকার মেট্রোপলিটন ক্রীড়া সংস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য নতুন আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে। আশা করছি, এটি বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, প্রফেসর শায়েস্তা খান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ছাত্রনেতা ও জনপ্রিয় শিক্ষক ছিলেন। তাঁর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক ও অপত্য স্নেহের বন্ধন ছিল। তাঁকে ভুলে যাওয়া সহজ নয়। এ ধরনের কালজয়ী মানুষ সমাজে বারবার জন্মায় না।

তিনি বলেন, দেশের অন্য কোনো জেলায় এ ধরনের কাজ কেউ করেননি। ৫২ বছর তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে থেকেছি। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ছাড়া দেওয়ার মতো আর কিছু নেই।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে চট্টগ্রাম মহানগরী ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রফেসর শায়েস্তা খান। তিনি ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রফিক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে কনসেপ্ট নিয়ে হাজারো পৃষ্ঠা খসড়া তৈরি করা হয়েছে। বয়সভিত্তিক খেলাধুলা চালুর মাধ্যমে চরিত্র ও মূল্যবোধ গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

চট্টগ্রাম মহানগরী ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ।

সুপ্রভাত বাংলাদেশ সম্পাদক রুশো মাহমুদের সঞ্চালনায় স্মৃতিচারণ করেন বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি চট্টগ্রাম শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সৌমিত্র কুমার মুৎসুদ্দী, চসিকের সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগরী ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক তৈয়বুর রহমান, ক্রীড়া সংগঠক হাফিজুর রহমান, সিজেকেএস ক্লাব সমিতির সভাপতি শাহীন আফতাবুর রেজা, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, ডেইলি পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন আহমেদ চৌধুরীসহ অনেকে।

স্মরণসভায় সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, সরকারি কমার্স কলেজে পড়ার সময় শায়েস্তা খানের আভিজাত্য ও মেধার ছাপ গভীরভাবে অনুভব করেছেন। অনেক শিক্ষক স্মৃতি থেকে হারিয়ে গেলেও তাঁর ব্যক্তিত্ব তাঁকে আজও স্মরণীয় করে রেখেছে।

প্রফেসর শায়েস্তা খানের ছেলে ডা. ইশতেয়াক আজিজ খান বলেন, তাঁর বাবা ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী শিক্ষাবিদ ও স্বপ্নদ্রষ্টা। চট্টগ্রামে বয়সভিত্তিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চালুর মাধ্যমে সুস্থ জাতি গঠনের পথ দেখিয়েছেন।

মেয়ে ফারজানা জেসমিন খান বলেন, তাঁর বাবা প্রকৃতিপ্রেমী ও সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ ছিলেন। তিনি সবসময় চাইতেন ঘরের কাছে খেলার মাঠ গড়ে উঠুক এবং ‘ফিরিয়ে দাও অরণ্য’—এই বার্তা সমাজে ছড়িয়ে পড়ুক।

বক্তারা বলেন, প্রফেসর শায়েস্তা খান ছিলেন সমাজের এক আলোকবর্তিকা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রফেসর শায়েস্তা খান স্মারকগ্রন্থ ও তাঁর জীবনকর্ম নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।