চলমান সংবাদ

হামের সঙ্গে এডিনো ভাইরাসে জটিলতা বাড়ছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পদক্ষেপ নেই

বাংলাদেশে চলমান হাম পরিস্থিতির মধ্যে নতুন উদ্বেগের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হাম ও এডিনো ভাইরাসের সহসংক্রমণ (কো-ইনফেকশন)। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হামে আক্রান্ত কিছু শিশুর শরীরে এডিনো ভাইরাসও শনাক্ত হয়েছে, যার ফলে রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হচ্ছে এবং জটিলতা বেড়ে যাচ্ছে।

শিশু হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামে আক্রান্ত যেসব শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল এবং প্রচলিত চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছিল না, তাদের ওপর রেসপিরেটরি প্যানেল টেস্ট করা হয়। এ পর্যন্ত পরীক্ষা করা ৩৫ শিশুর মধ্যে ১৬ জনের শরীরে এডিনো ভাইরাস পাওয়া গেছে।

হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম জানান, বিষয়টি গত ২৩ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম ব্যবস্থাপনাবিষয়ক সভায় উপস্থাপন করা হয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকেও জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। জানা গেছে, সিডিসির বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছেন।

চিকিৎসকদের মতে, এডিনো ভাইরাস নতুন কোনো ভাইরাস নয়। এটি দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিদ্যমান এবং সাধারণত জ্বর, সর্দি ও কাশির মতো হালকা উপসর্গ সৃষ্টি করে। তবে হাম ও এডিনো ভাইরাস একসঙ্গে সংক্রমিত হলে শিশুদের মধ্যে গুরুতর জটিলতা দেখা দিচ্ছে, বিশেষ করে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত ফুসফুসের অবনতি বা ‘সাদা ফুসফুস’ লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

এদিকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, একদিনে ১,০২২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং চারজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৮৪৪ জন হামে মারা গেছেন, যাদের অধিকাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।

পড়ুন:  হামে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু, টিকার বাইরে বহু শিশু

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বর্তমান হাম পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও নিয়ন্ত্রণে এডিনো ভাইরাসের সহসংক্রমণকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি