চলমান সংবাদ

এনসিটি-সিসিটি ইজারার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে বন্দর অভিমুখে পদযাত্রা -১৫ আগস্ট ‘বন্দর রক্ষা নাগরিক কনভেনশন’ ঘোষণা

চট্টগ্রাম, ৩ আগস্ট: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি)সহ বন্দরের কোনো স্থাপনা দেশি-বিদেশি মালিকানায় ইজারা না দেওয়ার দাবিতে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামের উদ্যোগে সোমবার আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড় থেকে বন্দর অভিমুখে এক পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পদযাত্রা বারিক বিল্ডিং মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ বাধা প্রদান করে। পরে সেখানে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সংগঠনের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন

এর আগে বাদামতলী মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু

সমাবেশে বক্তব্য দেন শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য তপন দত্ত, বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শ. ম. জামাল উদ্দিন, বাসদ (মার্ক্সবাদী) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সদস্য দীপা মজুমদার, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, সহকারী সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম ফরাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান মজুমদার, বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রহিম, হোটেল সেন্ট মার্টিন কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান এবং নির্মাণ শ্রমিক দল চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি আব্দুল মন্নানসহ বিভিন্ন শ্রমিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ

সমাবেশে তপন দত্ত বলেন, “এই আন্দোলন আজকের না। ১৯৯৭ সাল থেকে বন্দর রক্ষার আন্দোলন চলছে। চট্টগ্রামের মানুষ এটা কখনোই হতে দেবে না। বন্দর আমরা ছেড়ে দেব না। এটা মনে রাখবেন।

“নির্বাচিত সরকারকে অবশ্যই জনগণের বক্তব্য শুনতে হবে। কানে তুলো পিঠে কুলো দিয়ে থাকলে, অজনপ্রিয় হবেন। আমরা সেটা চাই না। আমরা চাই তারেক রহমান সাহেব উপলব্ধি করবেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু পরামর্শদাতা আপনাকে খারাপ পরামর্শ দিচ্ছে। আশা করি সেগুলো গ্রহণ করবেন না।”

তপন দত্ত আরো বলেন, “কিছু লোক সরকারকে ভুল বোঝাচ্ছে। অতীতে ভুল বুঝে অনেক সরকারকে চলে যেতে হয়েছে। ভুল করবেন না। যদি ঘোষণা দেন ‘বন্দর দেব না’, তাহলে বড় সভা করে তারেক রহমানকে আমরা অভিনন্দন জানাব।

তিনিবলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। এই বন্দরকে ঘিরেই দেশের শিল্প, বাণিজ্য ও উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বন্দরের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি বা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হলে তা দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।”

পড়ুন:  এনসিটি ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবি জোরালো -চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

তিনি আরও বলেন, “বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন রয়েছে। তবে তার অর্থ এই নয় যে জাতীয় সম্পদকে ইজারা দিতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে লাখো শ্রমিক, কর্মচারী, পরিবহন শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল। জাতীয় স্বার্থ ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করে কোনো উদ্যোগ দেশের জনগণ মেনে নেবে না।”

কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি দেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্পদ। শ্রমিকদের মতামত উপেক্ষা করে বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। বন্দরের আধুনিকায়ন প্রয়োজন, তবে তা অবশ্যই রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ করে করতে হবে।”

জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম বলেন, “বন্দরের শ্রমিকরাই দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সচল রেখেছেন। শ্রমিকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে শ্রমিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।”

অন্যান্য বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড এবং জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বন্দরের কোনো স্থাপনা দেশি-বিদেশি মালিকানায় ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ জনগণ মেনে নেবে না। বক্তারা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূরীকরণ এবং দক্ষ জনবল নিয়োগের দাবি জানান

সমাবেশে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার আগামী ১৫ আগস্ট সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই হলে ‘বন্দর রক্ষা নাগরিক কনভেনশন’ আয়োজনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষার আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে শ্রমিক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।”

সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা ‘বন্দর বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’, ‘এনসিটি-সিসিটি ইজারা দেওয়া চলবে না’, ‘জাতীয় সম্পদ রক্ষায় জনগণ ঐক্যবদ্ধ’ এবং ‘বন্দর রক্ষার আন্দোলন সফল করো’—এসব স্লোগানসংবলিত ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে বন্দর অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন