ব্যাংক হিসাব জব্দ ও এলসি সংকটে বন্ধ এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা, চাকরি হারালেন সাড়ে ৪ হাজার কর্মী

চট্টগ্রামে শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন ১১টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অবশিষ্ট কর্মকর্তা–কর্মচারী ও শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেওয়া হয়, যা আজ শনিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। কর্ণফুলী উপজেলায় অবস্থিত এসব কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় সাড়ে চার হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। তবে নিরাপত্তা ও বৈদ্যুতিক বিভাগের কিছু কর্মী এখনো দায়িত্ব পালন করছেন।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রকৌশলী হাসমত আলী জানান, বৃহস্পতিবার থেকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেওয়া শুরু হয় এবং শনিবার থেকে তা কার্যকর হয়েছে। তিনি বলেন, মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।
বন্ধ ঘোষণা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম ব্যাগ ফ্যাক্টরি, চেমন ইস্পাত লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড, এস আলম স্টিল, এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, এস আলম পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড এবং পশুখাদ্য উৎপাদনকারী একটি কারখানা। তবে বাঁশখালীতে অবস্থিত এস এস পাওয়ার প্ল্যান্ট নামের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু থাকবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানাগুলোতে ছাঁটাইয়ের নোটিশ টানানো হয়। নোটিশে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা–কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
প্রকৌশলী হাসমত আলী জানান, দুই বছর আগেও এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় আট হাজার কর্মকর্তা–কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। ধাপে ধাপে কর্মী ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে সর্বশেষ প্রায় সাড়ে চার হাজার কর্মী দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি দাবি করেন, চাকরিচ্যুত সব কর্মীর বেতন-ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য পরিশোধ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত দুই বছর ধরে কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু না থাকলেও কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দেওয়া হয়েছে।
কারখানা বন্ধের কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং নতুন করে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে না পারার বিষয়টি উল্লেখ করেন হাসমত আলী। তাঁর ভাষ্য, কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে মালিকপক্ষ ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব হলে চাকরিচ্যুত কর্মীদের আবার কাজে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছে।
