বিজন ভাবনা

বিজন ভাবনা (৫৪): ইউক্রেন যুদ্ধ ও বাংলাদেশ   -বিজন সাহা

অনেক আগে, ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুর দিকে লিখেছিলাম যে এই যুদ্ধের সাথে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অনেক সামঞ্জস্য আছে। এমনকি আজ বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিদ্যমান তার সাথেও এই মিল চোখে পড়ার মত।

জিন্নাহর জীবনী থেকে জানতে পারি যে প্রথম জীবনে তিনি কংগ্রেসের নেতা ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন সেক্যুলার। গান্ধী যখন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে ফিরে ধীরে ধীরে কংগ্রেসকে এলিটদের ক্লাব থেকে জনতার রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তোলেন এবং দলের  অবিসংবাদী নেতা হন তখন জিন্নাহ ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নেন। উল্লেখ করা যেতে পারে যে জাতিগত ভাবে তারা দুজনেই ছিলেন গুজরাটি। এরপর জিন্নাহ লন্ডন চলে যান ওকালতি প্রাকটিস করার জন্য। সেখানে ভারতীয় মুসলমানদের অধিকার রক্ষার জন্য যেসব সাম্প্রদায়িক শক্তি কাজ করছিল তারা জিন্নাহকে মুসলিম লীগের কর্ণধার হতে বলেন। বিভিন্ন দ্বিধার পর তিনি এতে সম্মতি দেন। নিজের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করতে নাকি নিজের ব্রাহ্মণ পূর্বসুরীদের অপমানের প্রতিশোধ নিতে জিন্নাহ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন সেটা আমরা জানতে পারব না। যেকোন মূল্যে পাকিস্তান সৃষ্টির জন্য তিনি যে অগ্রসর হয়েছিলেন সেটা পরবর্তী ইতিহাস আমাদের বলে। তবে জিন্নাহ বারবার বলেছেন হিন্দুস্তান (তিনি ভারত বা ইন্ডিয়া ব্যবহার করেননি) ও পাকিস্তান হবে দুই ভাই যাদের মধ্য সুসম্পর্ক বজায় থাকবে। হয়তো তিনি এই ব্যাপারে সৎ ছিলেন। তবে তার এই দৃষ্টিভঙ্গি মুসলিম লীগ বা পাকিস্তানের নেতৃবৃন্দ গ্রহণ করেনি। তাই জিন্নাহ মুসলিম লীগকে নিজের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করতে ব্যবহার করেছেন নাকি সাম্প্রদায়িক শক্তি নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা জিন্নাহর মাধ্যমে ফলপ্রসূ করেছে নাকি দুই পক্ষ পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে এই রকম পাকিস্তানের জন্ম দিয়েছে সেই প্রশ্ন থেকেই যাবে। তবে ভারত যদি গান্ধারী আর জিন্নাহ যদি ধৃতরাষ্ট্র হয় তবে ব্যাস দেব ছিলেন ইংরেজ আর পাকিস্তান সেই থলে যেখান থেকে শত কৌরব জন্ম নিয়ে ভারত বর্ষের রাজনৈতিক পট বদলে দেয়। হয়তো বা তখনকার রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে মনে হয়েছিল যে দেশ ভাগ উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে বেরুনোর একমাত্র পথ, তবে পরবর্তী ঘটনাবলী, লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু ও বাস্তুহারা হওয়া এবং প্রায় শত বর্ষ পরেও উপমহাদেশের সমস্ত মানুষের সেই ভাঙ্গনের ক্ষত বয়ে বেড়ানো সেই সময়ের নেতাদের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ করে দেয়। তাছাড়া দেশ ভাগের ফলে পাঞ্জাব ও বাংলায় যে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয় তাতে এই দুই অঞ্চলই ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। নেহেরুর প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের পাঞ্জাব থেকে আগত হিন্দু ও শিখদের দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়, পাকিস্তানেও সেটাই ঘটে। কিন্তু পূর্ব বাংলা থেকে সেসব বাঙালি ভারতে চলে গেছিল তাদের সবার ভাগ্যে একই ধরণের আতিথেয়তা জোটেনি। অনেকেই বাংলার বাইরে আন্দামান ও ভারতের অন্যান্য প্রদেশে স্থানান্তরিত হয়েছে। এখনও অনেকেই সেই আঘাত কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেনি। একই ঘটনা ঘটে বাংলাদেশে বিহারী ও পাকিস্তানে মুজাহিরিদের সাথে। শুধু তাই নয়, দেশ ভাগের পর পাকিস্তান হিন্দুর নয়, পাকিস্তান মুসলমানের নয়, এ দেশ সব নাগরিকের, জিন্নাহর এই ডাকে বিশ্বাস করে যেসব অমুসলিম এখানে রয়ে গেছিল, তাদের বেশিরভাগকেই পরে প্রাণ নিয়ে পালাতে হয়েছে। শুধু অমুসলিমই নয়, পাকিস্তানে বাঙালি, বালুচ, সিন্ধি ও অন্যান্য জাতি পাঞ্জাবি জাতির দ্বারা ক্রমাগত শোষিত হয়েছে, হচ্ছে যদিও পাকিস্তানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য বাংলার মুসলিম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু অচিরেই রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন শুরু হয়, যার জের ধরে ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে তিরিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে জন্ম নেয় বাংলাদেশ। বর্তমান বেলুচ, কাশ্মীরী, মুজাহিরদের অবস্থা পাকিস্তানে মোটেই সুখের নয়। সেখানেও চলছে মুক্তির জন্য লড়াই। তাই পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতারা যে স্বপ্ন সাধারণ মানুষকে দেখিয়েছিল, সেসব অধরাই রয়ে গেছে।

এবার আসা যাক ইউক্রেনের কথায়। জিন্নাহ যেমন একসময় অখণ্ড ভারতের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতেন, ইউক্রেনের প্রথম প্রেসিডেন্ট লিওনিদ ক্রাভচুকও একসময় ইউক্রেনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ছিলেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের পক্ষেই রাজনীতি করেছেন। জিন্নাহর মত তিনিও স্থানীয় রুশদের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এই বলে যে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে অনেকগুলো দেশের জন্ম – এটা একান্তই ফর্মালিটি, সব সম্পর্ক আগের মতই থাকবে। কিন্তু দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষের মাতৃভাষা রুশ ও প্রায় ৯০% মানুষ রুশ ভাষায় কথা বলার পরেও তাকে কখনই দ্বিতীয় ভাষার মর্যাদা দেয়া হয়নি। যদি বাংলার মানুষের অধিকার থাকে ভাষার দাবিতে স্বাধীন হবার ইউক্রেনের রুশদের কেন থাকবে না। উল্লেখ করা যেতে পারে ১৯৯১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত যখন ইউক্রেনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে তখন রুশপন্থীরা খারকভ থেকে ওদেসা এই বেল্টে, মানে সমস্ত দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, উত্তর-পশ্চিম ইউক্রেনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে পশ্চিমপন্থী ইউক্রেন জাতীয়তাবাদ। দেশ ছিল দুই ভাগে বিভক্ত। তাই ইউক্রেনে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বা ন্যাটোয় যোগদানের যেকোনো প্রচেষ্টা যে সে দেশের ভেতরেই তীব্র বাধার সম্মুখীন হবে সেটা সবাই জানত। তাই যেখানে দরকার ছিল দুই দলের মধ্যে ঐক্যের সূত্র খোঁজা, পশ্চিমা বিশ্ব গেল কনফ্রন্টেশনে। উল্লেখ করা যেতে পারে যে বাংলাদেশ যেমন ছিল পাকিস্তানের সম্পদের ভান্ডার, দনদাস তথা রুশ অধ্যুষিত ইউক্রেন ছিল ইউক্রেনের সম্পদের ভান্ডার। আসলে পশ্চাদপদ ইউক্রেনের উত্তর-পশ্চিম অংশকে উন্নত করার জন্যেই লেনিন এক সময় এই রুশ ভূমি ইউক্রেনের সাথে যোগ করেন। তবে এই বিবাহ কখনই সুখের ছিল না। ইউক্রেনের প্রথম প্রেসিডেন্ট লিওনিদ ক্রাভচুক এক ইন্টার্ভিউতে বলেন যে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙনের মুহূর্তে তিনি ইয়েলৎসিনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন এই অঞ্চল, বিশেষ করে ক্রিমিয়া নিয়ে তিনি কি ভাবছেন। ইয়েলৎসিন চাইলে তখন বিনা যুদ্ধেই অন্তত ক্রিমিয়া রাশিয়ার অধীনে নিয়ে নিতে পারতেন। কিন্তু ক্ষমতাই যখন একমাত্র লক্ষ্য তখন সাধারণ মানুষের ভাগ্য নিয়ে ভাবে কে?

পড়ুন:  বিজন ভাবনা (৫৩): ইউক্রেন যুদ্ধ ও রাজাকার - বিজন সাহা

দেশে নাকি নতুন করে ইতিহাস লেখা হচ্ছে। না, অফিসিয়াল নয়, তবে ইতিহাস হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। কি সেই ইতিহাস? হিন্দু, সিন্ধু, বঙ্গ এসব নামের উৎপত্তি নূহ নবী ও তার ছেলেদের নাম থেকে। এরা প্রাগইতিহাসিক যুগেই এদেশে উপনিবেশ স্থাপন করেন। নিম্নবর্ণ হিন্দু থেকে বাঙালি মুসলমানের উৎপত্তি এ নিয়ে এক ধরণের আত্মপরিচয়ের সংকটে ভোগা এই জাতি এখন নতুন করে ইতিহাস লিখছে। ২০১৪ সালের পর থেকে ইউক্রেনেও নতুন ইতিহাস লেখা হয়েছে, যেখানে তাদের দাবি ইউক্রেন জাতির পূর্বপুরুষরা মাটি খুঁড়ে কৃষ্ণ সাগর তৈরি করে। রুশদের সাথে ন্যুনতম সম্পর্ক এড়াতে তারা নতুন প্রজন্মের মাথায় নতুন ইতিহাস ঢুকিয়ে দিচ্ছে। আর এটা করছে আমেরিকার অর্থে। এক সময় তালিবানদের সৃষ্টি করা হয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে লড়াই করার জন্য। শেষ পর্যন্ত তারা শুধু আমেরিকার নয়, আধুনিক বিশ্বের শত্রু হয়ে গেছে। তাই বাংলাদেশেও এরকম শিক্ষায় শিক্ষিত প্রজন্ম শুধু তাদের আসল ইতিহাসের বিরুদ্ধেই দাঁড়াবে না, তারা সত্যের বিরুদ্ধে, প্রগতির বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। মিথ্যা তথ্য দ্বারা শিক্ষিত মানুষ কখনও সত্যের পথে, আলোর পথে চলে না।

পাকিস্তান সৃষ্টির সাথে সাথেই আঘাত নেমে আসে বাংলাদেশের ভাষার উপর। সেখান থেকেই শুরু ভাষা আন্দোলনের যার পরিণতি স্বাধীনতা। কিন্তু পরাজিত শক্তি সেটা ভুলে যায়নি। এরপর বিভিন্ন ভাবে শুরু হয় বাংলা সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতির উপর আক্রমণ। সেটা করা হয় বিভিন্ন সরকারের সহযোগিতায়। কয়েক বছর আগে আমার পাকিস্তানের এক বিখ্যাত পদার্থবিদের সাথে এ বিষয়ে কথা হয়। আমার প্রশ্ন ছিল পাঞ্জাবের ঐতিহ্যবাহী সাহিত্য উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করায় কি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে? উনি বললেন একাত্তরের পর বালুচ, সিন্ধী এসব ভাষা অনেকটা স্বাধীন ভাবে বিকাশ পেলেও পাঞ্জাবে সেটা পায়নি। তবে বর্তমানে নতুন করে সেটা হচ্ছে। যদি ইউক্রেনের দিকে তাকাই তাহলে দেখব রুশ ভাষা এদেশের অধিকাংশ মানুষের দৈনন্দিন ভাষা ও প্রায় অর্ধেকের মাতৃভাষা হলেও তাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দেয়া হয়নি। বরং সার্বিকভাবে চেষ্টা করা হয়েছে তাকে দাবিয়ে রাখার। সেই সাথে আঘাত হানা হয়েছে সংস্কৃতির উপর। ইউক্রেনের রুশ অর্থোডক্স চার্চের উপর আঘাত এর অংশ। ইউক্রেনের রঙিন বিপ্লব আমেরিকার ডীপ স্টেটের অংশগ্রহণের কথা ভিকি ন্যু ল্যান্ড একাধিকবার স্বীকার করেছে। আজ ইউক্রেনের যুদ্ধ যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বের যুদ্ধ সেটাও ওপেন সিক্রেট। চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের রিহার্সাল হয়েছে কিয়েভ আর ইউক্রেনের মাটিতে। ওডেসায় যেমন করে রুশ পন্থীদের, দেশে থানায় থানায় তেমনি পুলিশ পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে যে মার্কিন সরকার কয়েক শ’ বছর আগেই স্থানীয় ইন্ডিয়ানদের নিজস্ব সংস্কৃতি ভুলিয়ে দিতে সব রকম পদক্ষেপ নিয়েছিল। ইউক্রেনে সাফল্যের পর ২০১৩ সালে হেফাজতের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় পাঠ্যক্রম পরিবর্তন ও বাংলার আবহমান সংস্কৃতি চর্চায় বাঁধা দিয়ে বাংলার সংস্কৃতিকে ধীরে ধীরে কোণঠাসা করা হয়। আমাদের দেশে পশ্চিমা এনজিওগুলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও তারা কি কখনও দেশীয় সংস্কৃতি প্রমোট করার উদ্যগ নিয়েছে? আমেরিকা অনেক আগেই বুঝে গেছে যে কোন জাতিকে পদানত করতে হলে আগে তার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এসব ভুলিয়ে দিতে হবে।

ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতির মূলে রয়েছে অন্ধ রুশ বিরোধিতা। সোভিয়েত আমলে শিল্পের একটি বৃহৎ অংশ গড়ে উঠেছিল ইউক্রেনের রুশ অধ্যুষিত এলাকায়। এর মূল কারণ ভৌগলিক, ইউরোপের নিকটবর্তী বলে। আসলে সোভিয়েত ইউনিয়নে শিল্প কেন্দ্রীভূত না করে বিভিন্ন রিপাবলিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হত। এটাও কমবেশি সুষম বিকাশের জন্য। সোভিয়েত পরবর্তী যুগে প্রায় সব রিপাবলিকের প্রধান বাজার ছিল রাশিয়া। তাই রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে যে দেশের অর্থনীতি ধ্বসে পড়বে তা জানা ছিল। আর তাই ১৯৯১ সালের পর থেকে আমেরিকা ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে ইউক্রেনের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রুশ বিরোধিতা ছড়িয়ে দিতে। আর একবার কাউকে অন্ধ ঘৃণা শেখাতে পারলে তাদের যুক্তি লোপ পায়। অন্ধ ঘৃণা আর অন্ধ ভক্তি কখনই ব্যক্তি মানুষ, সমাজ বা দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না, এতে মানুষের র‍্যাশনাল চিন্তা লোপ পায়। ঠিক এটাই আমরা দেখি ইউক্রেনে রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্ব সম্পর্কে আর বাংলাদেশে ভারত ও পাকিস্তানকে ঘিরে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমেরিকা আমাদের বিরোধিতা করেছিল। এখন আমরা জানি চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন তাদের অর্থে, তাদের স্বার্থে, তাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়েছে। একই কথা বলা যায় ইউক্রেনের ক্ষেত্রে। এখানেও আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্ব ক্রিমিয়া ও দনবাসের মানুষের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের ফ্যাসিবাদী সরকারকে  শুধু সমর্থনই করছে না, বলতে গেলে ইউক্রেনের হাত দিয়ে  তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। আমেরিকার শত্রু হয়ে দনবাস নিঃসন্দেহে অনেক দুখ কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমেরিকার বন্ধু হয়ে ইউক্রেন কি দনবাসের চেয়ে ভাল আছে? সাবেক বাংলাদেশ সরকার আমেরিকার কাছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ হস্তান্তর না করে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে, কিন্তু পরবর্তী সরকার সেই দ্বীপ হস্তান্তর করে যে ভাল থাকবে তার কি কোন গ্যারান্টি আছে?

গবেষক, জয়েন্ট ইনস্টিটিউট ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ
শিক্ষক, রাশিয়ান পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি, মস্কো