১৪ সেপ্টেম্বর বন্দর অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল সফল করার আহ্বান
![]()
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং সিসিটিসহ চট্টগ্রাম বন্দরের কোন স্থাপনা দেশী/বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বন্দর অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল সফল করার আহ্বান জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় চট্টগ্রামের একটি রেস্টুরেন্টে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম এর এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির অন্যতম সদস্য তপন দত্তের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বন্দর অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল সফল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি ও সাংগঠনিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে বন্দর রক্ষার স্বার্থে শ্রমিক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের নাগরিকদের বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রীর ‘এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে হস্তান্তরের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে’—এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর শুধু একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক বাণিজ্য ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি কৌশলগত প্রতিষ্ঠান। বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ কোনো টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদে হস্তান্তরের আগে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতি, কর্মসংস্থান এবং বন্দরের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তারা বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত যদি দেশের স্বার্থের চেয়ে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে তা বর্তমান বিএনপি সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না। বন্দরের সক্ষমতা ও আয় বৃদ্ধির নামে এমন কোনো চুক্তি করা উচিত নয়, যার ফলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
বক্তারা আরও বলেন, এনসিটি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের জনগণ, বন্দর ব্যবহারকারী, শ্রমিক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে চুক্তির শর্ত, আর্থিক সুবিধা-অসুবিধা এবং জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে।
সভা থেকে বক্তারা বলেন, ‘বন্দর বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’—এই দাবিতে ১৪ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ মিছিলকে একটি বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ দিতে হবে। তারা চট্টগ্রামবাসীসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষকে জাতীয় স্বার্থে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।