চলমান সংবাদ

স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যের ভিটামিনসমৃদ্ধ প্যাকেটজাত ভোজ্যতেল সহজলভ্য করার দাবি

চট্টগ্রাম, ২৩ জুলাই: স্বল্প আয়ের মানুষের ভিটামিন ও পুষ্টির ঘাটতি পূরণে ন্যায্যমূল্যে ছোট পরিমাপের ভিটামিনসমৃদ্ধ প্যাকেটজাত ভোজ্যতেল বাজারে সহজলভ্য করার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকারকর্মী, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেন, খোলা ভোজ্যতেল ব্যবহারের কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ তেলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই স্বল্পমূল্যের ছোট প্যাকেজিং চালু করা সময়ের দাবি।

বুধবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে ‘স্বল্প আয়ের ভোক্তার ভিটামিন ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে স্বল্পমূল্যের ছোট পরিমাপের প্যাকেজিং: জনমত সৃষ্টি সংক্রান্ত আলোচনা সভা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়। কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), চট্টগ্রাম বিভাগ ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। প্রধান আলোচক ছিলেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাবেক সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জমান। এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগ, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআই, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পুষ্টিবিদ, ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের নেতারা বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এ এইচ এম সফিকুজ্জমান বলেন, খোলা ভোজ্যতেল ব্যবহারের কারণে মানুষের স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। সরকারকে ন্যায্যমূল্যে ছোট পরিমাপের প্যাকেটজাত ভোজ্যতেল উৎপাদন ও বাজারজাত নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষও নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ভোজ্যতেল ব্যবহারের সুযোগ পান। তিনি জানান, ক্যাব ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করবে।

সভায় বক্তারা বলেন, দেশে ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ডি’-এর ঘাটতি এখনো উদ্বেগজনক। ২০১৩ সালে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ বাধ্যতামূলক করা হলেও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই খোলা তেল ব্যবহার করায় তারা ফর্টিফিকেশনের সুফল পাচ্ছেন না। ২০২১ সালে গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (GAIN)-এর গবেষণায় ছোট পরিমাপের প্যাকেজিং চালুর সুপারিশ করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

পড়ুন:  জ্বালানি তেল নিয়ে লোকচুরি ঠেকাতে সরবরাহ ও বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের তাগিদ ক্যাব চট্টগ্রামের - মজুদ থাকা সত্ত্বেও পাম্পে তেল সংকট—অসাধু সিন্ডিকেট ও নজরদারির অভাবকে দায়ী

আলোচনায় আরও জানানো হয়, ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের ৫১ শতাংশ এবং গর্ভবতী নন এমন নারীদের ৮ শতাংশ ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতিতে ভুগছেন। অন্যদিকে ভিটামিন ‘ডি’ ঘাটতির হার গড়ে ৬৭ শতাংশ, কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ৭৭ দশমিক ৮ শতাংশ এবং গর্ভবতী নারীদের মধ্যে ৮৩ দশমিক ৩ শতাংশ। খোলা তেলে ভিটামিন ‘এ’ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় জনগণ প্রত্যাশিত পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সভায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার আলোকে ৫০ থেকে ৫০০ মিলিলিটার ধারণক্ষমতার পাউচ, মিনি প্যাক ও স্যাশে বাজারজাত করার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি জিপ-লক পাউচ, উন্নত সিলিং প্রযুক্তি, পাঁচ স্তরের প্যাকেজিং, পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ‘রিটার্ন অ্যান্ড সেভ’ বা ‘ক্যাশ ব্যাক’ ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ৯০ শতাংশ খোলা ভোজ্যতেল বাজার থেকে পর্যায়ক্রমে তুলে দেওয়ার আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অস্বচ্ছ (আলো-প্রতিরোধী) ফুডগ্রেড ছোট প্যাকেজিংয়ে ভিটামিনসমৃদ্ধ ভোজ্যতেল বাজারজাত নিশ্চিত করতে হবে।

সভা থেকে প্যাকেজিং শিল্প, ভোজ্যতেল উৎপাদক, সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও নীতিনির্ধারকদের প্রতি কর রেয়াত, শুল্ক হ্রাস এবং লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকির মাধ্যমে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ভোজ্যতেল সহজলভ্য করার আহ্বান জানানো হয়।