জলিল টেক্সটাইল মিলের জমি হস্তান্তরের আগে ১,০৭৩ শ্রমিকের পাওনা পরিশোধের দাবি

জলিল টেক্সটাইল মিলের ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির (বিওএফ) সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে প্রতীকী মূল্যে হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদনের খবরে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিলটির শ্রমিক-কর্মচারীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা ১ হাজার ৭৩ জন শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তার আইনানুগ পাওনা পরিশোধ না করে মিলের জমি বা অন্য কোনো সম্পদ হস্তান্তর করা হলে তা হবে শ্রমিকদের প্রতি চরম অবিচার এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
রোববার (৫ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন জলিল টেক্সটাইল মিলস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি মো. মছিউদদৌলা, সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম আজাদ এবং সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সিদ্দিক।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি জলিল টেক্সটাইল মিলের ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে প্রতীকী মূল্যে হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু ওই সিদ্ধান্তে শ্রমিক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া আইনানুগ পাওনা পরিশোধের বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা বা সিদ্ধান্ত না থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে চরম হতাশা, ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
শ্রমিক নেতারা জানান, সরকারের নির্দেশনায় নিরপেক্ষ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠান শফিক বসাক অ্যান্ড কোং নিরীক্ষা সম্পন্ন করে ৩০ জুন ২০১২ পর্যন্ত ১ হাজার ৭৩ জন শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তার মোট নিট পাওনা ২০ কোটি ৫৭ লাখ ৪৩ হাজার ৮০৮ টাকা নির্ধারণ করে। পরবর্তীতে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটিও দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে একই পরিমাণ পাওনা বহাল রেখে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে।
এছাড়া শ্রম অধিদপ্তরের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা সম্পূর্ণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত লে-অফ সুবিধা প্রদান অব্যাহত রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
নেতারা আরও বলেন, জলিল টেক্সটাইল মিল পুনরায় অধিগ্রহণের বৈধতা নিয়ে প্রাক্তন মালিকপক্ষের দায়ের করা সব মামলা উচ্চ আদালত ও আপিল বিভাগে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে। ফলে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে বর্তমানে কোনো আইনগত বাধা নেই। তারপরও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) বছরের পর বছর ধরে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, দীর্ঘদিন বকেয়া পাওনা না পেয়ে চিকিৎসা, পুষ্টি ও আর্থিক সংকটে ইতোমধ্যে ৩৭৫ জনেরও বেশি শ্রমিক-কর্মচারী মৃত্যুবরণ করেছেন। জীবিত শ্রমিক এবং মৃত শ্রমিকদের পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ না করে মিলের মূল্যবান জমি অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ এবং শ্রমিক অধিকারের পরিপন্থী।
শ্রমিক নেতারা অবিলম্বে ১ হাজার ৭৩ জন শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তার সব আইনানুগ বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবি জানান। একই সঙ্গে পাওনা সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জলিল টেক্সটাইল মিলের জমি বা অন্য কোনো সম্পদ তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তরের সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার আহ্বান জানান।
পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার (বা সরকারের প্রধান নির্বাহী) নেতৃত্বে অর্থ মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, শ্রম অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জরুরি যৌথ সভা আহ্বান করে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানান তারা।
অন্যথায়, দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
