চলমান সংবাদ

ইরানের সঙ্গে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র

ওয়াশিংটন, ১৮ জুন: যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে নথিটির বিস্তারিত তুলে ধরেন।

‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যকার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ শিরোনামের এই নথিতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তা জানান, এই সমঝোতা যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়েও ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি তৈরি করবে।

আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা সম্পন্ন করার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা কার্যকর হবে।

সমঝোতা স্মারকের প্রধান বিষয়সমূহ

সমঝোতা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং সংশ্লিষ্ট মিত্রপক্ষগুলো অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ করবে। উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা সামরিক হুমকি থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

দুই দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার অঙ্গীকার করেছে।

এমওইউ সইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে তা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে সমুদ্রপথে পেতে রাখা মাইন অপসারণ করবে।

৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনা

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ৬০ দিনের মধ্যে এ পরিকল্পনার কাঠামো চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

পড়ুন:  হরমুজে আটকা ‘বাংলার জয়যাত্রা’: মিসাইল আতঙ্কে গভীর সমুদ্রে ৩১ বাংলাদেশি নাবিক

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি

চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের ওপর আরোপিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও একতরফা নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের আওতায় থাকা কিছু নিষেধাজ্ঞাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ ছাড়া ইরানের তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে এবং ব্যাংকিং, পরিবহন ও বিমাসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক কার্যক্রমে ছাড় দেওয়া হবে।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা

সমঝোতা স্মারকে ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করবে না। একই সঙ্গে মজুত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে নিষ্ক্রিয় করার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।

চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান তার বর্তমান পারমাণবিক কর্মসূচির অবস্থা অপরিবর্তিত রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা অতিরিক্ত সামরিক মোতায়েন করবে না।

তদারকির জন্য যৌথ ব্যবস্থা

সমঝোতা বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত চুক্তির শর্তাবলি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি যৌথ নির্বাহী ব্যবস্থা গঠন করবে দুই দেশ। চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিটি পরবর্তীতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

জনসমক্ষে নথিটি প্রকাশ না করায় যে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপটেই যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা স্মারক প্রকাশ করল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।