চলমান সংবাদ

হরমুজে আটকা ‘বাংলার জয়যাত্রা’: মিসাইল আতঙ্কে গভীর সমুদ্রে ৩১ বাংলাদেশি নাবিক

পারস্য উপসাগরে যুদ্ধাবস্থার মধ্যে প্রায় চার মাস ধরে আটকা পড়ে আছে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে নিরাপদে বের হওয়ার একাধিক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে জাহাজটি। প্রতিনিয়ত মিসাইল হামলার সতর্কবার্তা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের শব্দ, ভাঙা মিসাইলের অংশ পাশের জাহাজে পড়ার দৃশ্য—সব মিলিয়ে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন জাহাজটিতে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও কর্মকর্তা।

জাহাজটির প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেন, “মোবাইল ফোনে মিসাইল হামলার সতর্কবার্তা পাচ্ছি। ওয়্যারলেসে বারবার বলা হচ্ছে, কেউ হরমুজ ক্রসের চেষ্টা করলে আক্রমণ করা হবে।”

বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)-এর মালিকানাধীন ‘বাংলার জয়যাত্রা’ গত ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে। পরে বিভিন্ন বন্দরে পণ্য পরিবহনের পর জাহাজটি দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে অবস্থান নেয়। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর জাহাজটির কাছাকাছি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটে।

পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়ে বের হওয়ার জন্য একাধিকবার যাত্রা শুরু করলেও ইরানের নৌবাহিনীর সতর্কবার্তায় ফিরে আসতে বাধ্য হয় জাহাজটি। বর্তমানে এটি দুবাই ও শারজাহ উপকূলের অদূরে গভীর সমুদ্রে নোঙর করে আছে।

জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা যেন একটা পুকুরের মধ্যে আটকা পড়েছি। বের হওয়ার একটাই রাস্তা—হরমুজ। কিন্তু কবে বের হতে পারবো জানি না।”

জাহাজটির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অন্তত ২২৭৩টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কার্যত জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

নাবিকরা জানিয়েছেন, তারা দিন-রাত মিসাইল ও ড্রোন হামলার দৃশ্য দেখছেন। অনেক সময় জাহাজের ওপর দিয়েও মিসাইল চলে যাচ্ছে। ভাঙা মিসাইলের অংশ পাশের জাহাজে পড়ার ঘটনাও দেখেছেন তারা।

এদিকে, দীর্ঘদিন আটকা থাকায় জাহাজটিতে পানি ও খাদ্যসংকটও তৈরি হয়েছে। জাহাজের ক্যাপ্টেন জানান, এক লিটার পানির দাম এখন প্রায় ১০০ টাকা। পানি সংগ্রহ করতে ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে যেতে হচ্ছে।

পড়ুন:  হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচল নিয়ে ট্রাম্প–স্টারমারের আলোচনা

বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে জানিয়েছে বিএসসি। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, আইআরজিসির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে জাহাজটিকে নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা চলছে। তবে টোল, নিষেধাজ্ঞা ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে জাহাজটিতে থাকা নাবিকরা পরিবারের সঙ্গে স্টারলিংক ও স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন। তবুও যুদ্ধের মধ্যে গভীর সমুদ্রে আটকে থাকার ভয় ও অনিশ্চয়তা তাদের প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফিরছে।