চলমান সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তিতে ইসরায়েলে ক্ষোভ ও হতাশা, মানতে নারাজ নেতানিয়াহু সরকার

ইসলামাবাদ/তেল আবিব, ১৬ জুন ২০২৬:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার ঘোষণার পর ইসরায়েলে তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান গত রোববার গভীর রাতে এ চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পরদিন সোমবার থেকেই ইসরায়েলের সরকার, মন্ত্রী ও বিরোধী নেতাদের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করা।

তবে এই শর্ত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-কে জানিয়েছেন, ইসরায়েল এ চুক্তি মানতে বাধ্য নয় এবং লেবানন ইস্যুতে ইরানের কোনো শর্ত তারা গ্রহণ করবে না।

লেবাননে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Israel Katz বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী অনির্দিষ্টকালের জন্য লেবানন, সিরিয়া ও গাজার নিরাপত্তা অঞ্চলগুলোতে অবস্থান করবে। তিনি আরও দাবি করেন, এসব এলাকায় সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যেসব স্থাপনাকে ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, সেগুলো ধ্বংস করা হবে।

চুক্তি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন হামলার খবর পাওয়া যায়।

ইসরায়েলি মন্ত্রীদের ক্ষোভ

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী Bezalel Smotrich চুক্তিটিকে ‘ইসরায়েল ও মুক্ত বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হলে ইসরায়েলকে এখন একাই এগোতে হবে।

জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী Itamar Ben-Gvir আরও কঠোর ভাষায় বলেন, “ট্রাম্পের চুক্তি ইসরায়েলের ওপর কোনো বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে না। ইসরায়েল একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র।”

অন্যদিকে সংস্কৃতিমন্ত্রী Miki Zohar হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পড়ুন:  যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ‘শেষের পথে’: হাউস স্পিকার মাইক জনসন

‘বিশ্বাসঘাতক আমেরিকা’ মন্তব্য

ইসরায়েলের ডানপন্থী মহলে মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ দেখা গেছে। কয়েকজন বিশ্লেষক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব অভিযোগ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগকে উপেক্ষা করেছে।

অনেকের মতে, নতুন চুক্তি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ না করেই তেহরানকে অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার পথ খুলে দিতে পারে।

বিরোধী শিবিরের সমালোচনা

চুক্তিকে কেন্দ্র করে বিরোধী নেতারাও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সমালোচনায় সরব হয়েছেন।

মধ্য-বামপন্থী দল The Democrats-এর নেতা Yair Golan নেতানিয়াহুকে “দুর্বল, জনবিচ্ছিন্ন ও অকার্যকর” নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি দাবি করেন, এই চুক্তি ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগ দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী Naftali Bennett বলেন, বর্তমান সরকার সিদ্ধান্তহীনতার কারণে দেশকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়িষ্ণু সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের অপেক্ষা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তিটিকে “সম্পূর্ণ” বলে অভিহিত করেছেন, যদিও ইরান জানিয়েছে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।

চুক্তি বাস্তবায়ন এবং বিশেষ করে লেবানন ও আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয়ে ইসরায়েলের অবস্থান আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।