আহসান উল্লাহ চৌধুরীর স্মরণসভায় কমরেড শাহআলম – চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষায় বৃহত্তর ঐক্য গড়ে রাজপথে নামতে হবে

ভাষা সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড আহসানউল্লাহ চৌধুরীর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সিপিবির প্রাক্তন সভাপতি মোহাম্মদ শাহআলম চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের সম্পদ সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে দেশবাসীকে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সিপিবি, চট্টগ্রাম জেলা কমিটির উদ্যোগে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শোকসঙ্গীত পরিবেশন করেন উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের শিল্পীরা।
চট্টগ্রাম জেলা সিপিবির সভাপতি অধ্যাপক অশোক সাহার সভাপতিত্বে ও সহকারী সাধারণ সম্পাদক নুরুচ্ছাফা ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় সভায় শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন জেলা কমিটির সদস্য অধ্যাপক শীলা দাশগুপ্ত। বক্তব্য রাখেন- সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রাক্তন সভাপতি কমরেড মোহাম্মদ শাহআলম, কেন্দ্রীয় সদস্য মৃণাল চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা বালাগাত উল্লাহ, জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য উত্তম চৌধুরী ও মো. মছিউদ্দৌলা, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা মাহবুব মিন্টু, শিশু-কিশোর সংগঠক রথীন সেন, পেশাজীবী নেতা প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, নারীনেত্রী রেখা চোধুরী, যুবনেতা মো. শাহআলম, ছাত্রনেতা শুভ দেবনাথ, বাসদ(মাক্সবাদী) নেতা শফি উদ্দীন কবির আবিদ, ন্যাপ নেতা মিটুল দাশ গুপ্ত, গনমুক্তি ইউনিয়নের নেতা রাজা মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা উদয়ন নাগ এবং আহসান উল্লাহ চোধুরীর মেয়ে লোপা চৌধুরী প্রমুখ।
সভায় মোহাম্মদ শাহআলম বলেন, আহসানউল্লাহ চৌধুরী পূর্ব পাকিস্তান থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে সকল আন্দোলন-সংগ্রামের চেতনার দীপ্ত মশাল। আজীবন তিনি কৃষক, শ্রমিক, গরীব, মেহনতি মানুষের জন্য লড়াই করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের পর বিধ্বস্ত চট্টগ্রাম বন্দরকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সচল করার ক্ষেত্রে উনার ভূমিকা ছিল। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে শ্রমিকদের সংগঠিত করে তিনি দিনের পর দিন রাজপথ দখলে রেখে আন্দোলনকে বেগবান করেছিলেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কিংবা দেশের জাতীয় সম্পদ নিয়ে যখনই সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র তিনি দেখেছেন, সাথে সাথে তিনি গর্জে উঠেছেন। বন্দরকে যখন এসএসএ পোর্ট নামে একটি মার্কিন কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়া হচ্ছিল, আমরা আহসানউল্লাহ চৌধুরীসহ শুধু রাজপথে লড়াই করিনি, উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই করে সেটা ঠেকিয়ে দিয়েছিলাম। সেই বন্দর নিয়ে আজ আবারও চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। একের পর এক বন্দরের টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থে। বামপন্থীরা এর বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে, শ্রমিকরা সংগ্রাম করছে। এসময় আমাদের কাছে আহসানউল্লাহ চৌধুরীর সংগ্রামী চেতনা অনেকবেশি প্রাসঙ্গিক। সেই চেতনার দীপ্ত মশাল বুকে নিয়ে আমাদের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে রাজপথে জোরদার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং চট্টগ্রাম বন্দরসহ জাতীয় সম্পদ রক্ষা করতে হবে।
