রাড্ডা সেন্টারে হামলা: এমপি ফেরদৌসীর বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্তের আলোচনা

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের (মিষ্টি) বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি বিএনপির উচ্চপর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে। এমনকি তাঁকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে দল ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, রাড্ডা সেন্টার ধ্বংসের ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সূত্রের দাবি, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মোহাম্মদ হানিফ মিয়া ও মোস্তফা জগলুল পাশার নাম আলোচনায় এসেছে। তবে ফেরদৌসী আহমেদ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

রাড্ডা সেন্টার ধ্বংসের পরদিন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল ও ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই দিনে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ১৪ নেতাকে বিভিন্ন অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাড্ডার ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক উল্লেখ করা হয়নি।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে দুই শতাধিক ব্যক্তি রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে লুটপাট ও ভাঙচুর করে। পরে ভারী যন্ত্র দিয়ে কেন্দ্রের একাধিক ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি নিয়ে সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

১৯৭৪ সাল থেকে মিরপুরের নিম্ন আয়ের মানুষের মা ও শিশুস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদানসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা কেন্দ্রটি বর্তমানে সংস্কার করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলেও পানির সংযোগ ও শৌচাগারসহ কিছু সুবিধা এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি।