ডিসেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি তেলের সংকট হবে না: বিপিসি চেয়ারম্যান

হরমুজ ও বাব আল–মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলেও আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো সংকট হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম।

বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর সার্সন রোডের জয় পাহাড় এলাকায় বিপিসির প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি স্থানীয়ভাবে কারও নিয়ন্ত্রণে নেই; এটি মূলত একটি বৈশ্বিক সংকট। পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা বিপিসির অগ্রাধিকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও দামে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি তেল আমদানির প্রিমিয়াম বেড়েছে। ভবিষ্যতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আরও প্রতিযোগিতামূলক দামে জ্বালানি তেল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরকেন্দ্রিক অনিশ্চয়তা বিবেচনায় বিকল্প উৎস খোঁজা হচ্ছে। নাইজেরিয়া, নরওয়ে, মালয়েশিয়া ও আলজেরিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল এনে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধনের সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে।

মহেশখালীর গভীর সমুদ্রের সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) চালুর বিষয়ে শিগগিরই অগ্রগতি হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এসপিএমের অপারেটর নিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক খবর পাওয়া যাবে। এছাড়া ঢাকা পর্যন্ত জ্বালানি তেল পরিবহনের পাইপলাইন প্রকল্প আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে শতভাগ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

ইআরএল–২ প্রকল্পের পরিচালকের দপ্তর প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, মূল প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই যেসব কাজ করা সম্ভব, সেগুলো চিহ্নিত করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এলপিজি সরবরাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বল্প মেয়াদে সরবরাহ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং চলতি মাসের শেষে একটি চালান আসবে। দীর্ঘ মেয়াদে বাল্ক সাইজে এলপিজি আমদানির পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের জানুয়ারিতে এ কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

এ সময় বিপিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।