চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা, মহেশখালীতে যুবকের মৃত্যু
মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
চুরির অভিযোগে ফয়সাল (২৮) নামে এক যুবককে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফকিরাঘোনা মিয়াজীর পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফয়সাল ফকিরাঘোনা এলাকার নুরুল আলম প্রকাশ বাদশার ছেলে। পরিবারের দাবি, তিনি সড়কের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ফয়সালকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। কয়েকজন তাকে মারধর করছেন। একপর্যায়ে তার পিঠে ইট দিয়ে আঘাত করা এবং পিঠের ওপর একাধিক ইট তুলে রাখার দৃশ্যও দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে গ্রাম পুলিশের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় ফয়সালকে উদ্ধার করে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফয়সালের বাবা নুরুল আলমের দাবি, ফজরের পর ঘুম থেকে উঠে তিনি জানতে পারেন, তার ছেলেকে মারধর করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে হয় তাকে।
তিনি বলেন, ফজরের সময় ফয়সাল কাজে যাওয়ার জন্য মানুষ ডাকতে বের হয়েছিল। চুরি করে থাকলে তার কাছে মোবাইল, টাকা বা স্বর্ণালংকার থাকার কথা—কিন্তু এসব কিছুই পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুস সুলতান জানান, কেফায়েত উল্লাহর বাড়ি ও সংলগ্ন স্টিলের আসবাবপত্রের কারখানায় চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশের সন্দেহে ফয়সালকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাকে বেঁধে মারধর করা হয়।
ওসি বলেন, ‘চুরি করলেও এভাবে মেরে ফেলা যায় না।’ এ ঘটনায় বাড়ির এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত উল্লাহ বাবুলও জানান, চোর সন্দেহে ফয়সালকে ধরে মারধর করা হয়েছিল বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে চুরির অভিযোগ সত্য হলেও কাউকে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এখনো এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। নিহতের বাবা জানান, ময়নাতদন্ত শেষে ফয়সালের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। দাফন শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
একটি চুরির অভিযোগ—সত্য না মিথ্যা, সেটি তদন্তে প্রমাণ হওয়ার কথা। কিন্তু সেই অভিযোগের বিচার যদি মানুষের হাতে উঠে যায়, আর তার পরিণতি হয় একটি তরতাজা প্রাণের মৃত্যু—তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়, আইনের শাসন কোথায়?
ফয়সালের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্বজন ও স্থানীয়দের।