‘মব কালচার’ বরদাশত নয়, ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ঘোষণা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশে কোনোভাবেই ‘মব কালচার’ সহ্য করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সরকার গঠনের পর বুধবার সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “বাংলাদেশে মব কালচার শেষ। দাবি-দাওয়া থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় উত্থাপন করতে হবে।”
মন্ত্রী জানান, গণতান্ত্রিক কর্মসূচি হিসেবে মিছিল-সমাবেশ চলবে, তবে দাবি আদায়ের নামে মহাসড়ক অবরোধ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের বেআইনি জনতা-নির্ভর চাপ প্রয়োগ বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
পুলিশকে জনগণের বন্ধু বানানোর অঙ্গীকার
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মানেই পুলিশ। তাই পুলিশ বাহিনীকে জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অতীতে যে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে, তা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত রাখার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, বাহিনীর কেউ অপরাধে জড়িত হলে তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রাষ্ট্র মেরামতে ১৮০ দিনের কর্মসূচি
নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্র মেরামতের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৮০ দিনের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রচলিতভাবে প্রথম ১০০ দিনের পরিকল্পনা নির্ধারণের রীতি থাকলেও এবার তা সম্প্রসারিত করে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার তালিকা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
সরকারের প্রাথমিক অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে—দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) সচল রাখা এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ইশতেহার বাস্তবায়নে জোর
সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, জনগণ সরকারের ইশতেহারের ওপর আস্থা রেখে রায় দিয়েছে। তাই ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রশাসনকে আন্তরিক হতে হবে। তিনি আরও জানান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল্যায়নে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
নতুন সরকারের সূচনালগ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বার্তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, প্রশাসনিক শুদ্ধতা ও নীতিগত অগ্রাধিকারের দিকনির্দেশনা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

