২০২৬ সালের এপ্রিলে নির্বাচন: কতটা প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন?

২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। এই ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন আয়োজন নিয়ে প্রস্তুতির প্রশ্ন সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হাতে সময় আছে মাত্র দশ মাস। এই স্বল্প সময়ে বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করে নির্বাচন আয়োজন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
ইসির প্রস্তুতি কতদূর?
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন সম্ভব বলে মনে করছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানের মাছউদ বলেন, “আমরা একটি বাস্তবায়নকারী সংস্থা, আমাদের প্রস্তুতি নিতেই হবে। এখন থেকেই সেই প্রস্তুতি চলছে।”
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এছাড়া ব্যালট বাক্স, কালি, স্ট্যাম্প প্যাডসহ নির্বাচনি উপকরণ সংগ্রহের কাজও শুরু হয়েছে। এসব উপকরণ সংগ্রহে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
কোন কোন চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময় কম থাকলেও নির্বাচন আয়োজন সম্ভব, তবে এর জন্য ইসিকে হতে হবে আরও কর্মমুখী এবং সমন্বিত।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য আব্দুল আলীম বলেন, “এটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, তবে অসম্ভব নয়। তবে এর জন্য কমিশনকে অত্যন্ত সচল থাকতে হবে।”
আরেক বিশেষজ্ঞ ও ইসির সাবেক কর্মকর্তা জেসমিন টুলী জানান, ভোটার তালিকা, দল নিবন্ধন এবং নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণের মতো বিষয়গুলো সময়সাপেক্ষ। এছাড়া এখনো নির্বাচনি রোডম্যাপ প্রকাশ না করায় স্বচ্ছতা ও পরিকল্পনায় ঘাটতি রয়েছে।
নিরাপত্তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ না থাকলে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। সরকারকে তাই একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন তারা।
উপসংহার
অতীতের তুলনায় এবার সময় কম থাকলেও কমিশন যদি পরিকল্পিতভাবে কাজ করে এবং সরকারসহ সব পক্ষ সহযোগিতা করে, তাহলে ঘোষিত সময়েই নির্বাচন আয়োজন সম্ভব। তবে তার আগে প্রয়োজন সুস্পষ্ট রোডম্যাপ, রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন চূড়ান্তকরণ এবং একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো নিশ্চিত করা।
