চলমান সংবাদ

মাস্টারদা সূর্যসেন’র ৮৮তম ফাঁসি দিবসে কোন আনুষ্ঠানিকতা ছিল না প্রশাসন ও কারা কর্তৃপক্ষের

বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে বিপ্লবীদের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনের ৮৮তম ফাঁসি দিবসে কোন কর্মসূচি বা কোন আয়োজন ছিল না প্রশাসনের। চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেন ব্রিটিশ শাসকদের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর ফাঁসি দিবসে প্রশাসনের কোন আনুষ্ঠানিকতা না থাকায় সচেতন নাগরিকরা হাতাশা প্রকাশ করেছেন। মাস্টারদা সূর্য সেনের ফাঁসির দন্ড কার্যকর হয়েছিল চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে। তাঁর স্মৃতি ধরে রাখতে পরবর্তীতে ঐতিহাসিক ফাঁসির মঞ্চটি সংরক্ষণ এবং মাস্টারদা’র ম্যুরাল স্থাপন করা হলেও বুধবার মাস্টারদা সূর্য সেনের ৮৮তম ফাঁসি দিবস স্মরণে উদ্যোগ নেয়নি কারাগার কর্তৃপক্ষ। কারাগার তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনেরও কোন আয়োজন ছিল না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে মাস্টারদা সূর্য সেনের ৮৮তম ফাঁসি দিবস পালিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে বক্তারা বিপ্লবীদের স্মৃতি বিজড়িত স্থান, ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে চট্টগ্রামে সূর্যসেন স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন ও প্রীতিলতা, তারকেশ্বর দস্তিদারসহ বিপ্লবীদের স্মৃতি সংরক্ষণের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নিতে হবে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংগঠন বুধবার দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। নগরীর জে এম সেন হল প্রাঙ্গণে স্থাপিত সূর্যসেনের আবক্ষ মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিপ্লব ও বিপ্লবী স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদ, কমিউনিস্ট পার্টি, বাসদ, ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট, চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন, পথিকৃত্ পাঠাগার, সূর্য সেন স্মৃতি পাঠাগারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এদিকে বিপ্লবীর জন্মস্থান রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়ায় সূর্য সেনের আবক্ষমূর্তিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী ও সংগঠন। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংগঠন দিনব্যাপী আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সূর্য সেন’র ৮৮তম ফাঁসি দিবসে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের পক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। গতকাল বুধবার (১২ জানুয়ারি) উপমন্ত্রীর পক্ষে নগরীর জেএম সেন হল প্রাঙ্গণে স্থাপিত সূর্য সেনের আবক্ষ ভাস্কর্যে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক কাউন্সিলর শহীদুল আলম, নগর আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী, কাউন্সিলর পুলক খাস্তগীর, কাউন্সিলর নুরুল আলম মিয়া। বিশেষ বার্তায় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, তৎকালীন সময়ে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনসহ বহুবিধ বিপ্লবের অগ্রনায়ক ছিলেন সূর্যসেন। আজও বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে মাস্টার দা’কে স্মরণ করে আমরা এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পাই। তিনি বাঙালির বিপ্লবের ধ্রুবতারা। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার উদ্যোগে মাস্টারদা সূর্যসেনের ফাঁসি দিবস পালিত হয়। বুধবার বিকেলে নগরীর জেএম সেন হল প্রাঙ্গণে স্থাপিত সূর্যসেনের আবক্ষ মূর্তিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বিপ্লবীদের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি জানান। বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক শিবু প্রসাদ চৌধুরী এবং সহ-সভাপতি জাফর আল তানিয়ার নেতৃত্বে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম, সহ-সভাপতি মনির ইসলাম, মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মায়মুন উদ্দীন মামুন, মোহাম্মদ রুবেল, শুভ দত্ত, যুবরাজ দাশ প্রমুখ। যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল শিকদারের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাবেদুর রহমান, টুটন দাশ, রাশিদুল সামির, মিটুন বিশ্বাস প্রমুখ। মাস্টার দা সূর্য সেনের ফাঁসি দিবসে ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে সংগঠনের জেলা সভাপতি এ্যানি সেন’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামে সূর্যসেন স্মৃতি জাদুঘর স্থাপনসহ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবীদের স্মৃতি সংরক্ষণের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছে বাসদ(মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলার নেতৃবৃন্দ। মাস্টারদা সূর্যসেনের ৮৮তম ফাঁসি দিবসে সূর্যসেনের আবক্ষ মূর্তিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে বক্তারা এই দাবি জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা সদস্য সচিব শফিউদ্দিন কবির আবিদ, জেলা কমিটির সদস্য ও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্দ্রানী ভট্টাচার্য সোমা, জেলা কমিটির সদস্য জাহেদুন নবী কনক, দীপা মজুমদার প্রমুখ। বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনের ৮৭তম ফাঁসি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে যুব বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে ৪ দিন চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ মুক্ত করে রেখেছিলেন। সেই চট্টগ্রাম যুুব বিদ্রোহের ৯০ বছর পেরিয়ে গেছে। এত দীর্ঘ সময়েও যুব বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত স্থান, বিপ্লবীদের বাড়িঘর এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেয়ায় সেগুলো এখন বেদখল হয়ে গেছে। বারাবার আশ্বাস দিয়েও সংশ্লিষ্টরা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেনি। এই দায়িত্বহীনতা ও অব্যস্থাপনার কারণে প্রীতিলতার আত্মাহুতি স্মৃতি বিজড়িত তৎকালীন ইউরোপিয়ান ক্লাবটি এখনো জাদুঘর করা হয়নি। মাস্টারদা সূর্যসেনের নামে চট্টগ্রামে কোনো স্থাপনা নেই। বক্তারা বলেন, যে আদর্শ নিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা লড়াই করেছেন, কাংখিত সেই গণতান্ত্রিক ও শোষণ-বৈষম্যহীন রাষ্ট্র আজো আমরা পাইনি। আজো আমাদের লড়াই করতে হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের জন্য, গণতান্ত্রিক ও শোষণ বৈষম্যহীন সমাজের জন্য। মানবিক পৃথিবী বিনির্মানের লড়াইয়ে মাস্টার দা সূর্য সেন আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন। উল্লেখ্য বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে সশস্ত্র বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রামের সূর্যসন্তান বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেন। গঠন করেন ‘ভারতীয় প্রজাতান্ত্রিক বাহিনী, চট্টগ্রাম শাখা’। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন, জালালাবাদ যুদ্ধ ও ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমনে নেতৃত্বদানকারী এ বিপ্লবী ১৯৩৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ইংরেজ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি মধ্যরাতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে সূর্য সেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
# ১২.০১.২০২২ চট্টগ্রাম #