পুনর্মূল্যায়নে বদলে গেল এসএসসির ফল, ফেল থেকে পাস ৪ হাজার ৫৮৫

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের পর এবার রেকর্ডসংখ্যক পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। প্রথম ফল প্রকাশের সময় ফেল করা ৪ হাজার ৫৮৫ পরীক্ষার্থী পুনর্মূল্যায়নের পর পাস করেছে। গত বছর ফেল থেকে পাস করেছিল ২ হাজার ২০৭ জন। অর্থাৎ এবার এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।

এ ছাড়া ফল বা গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের এবং নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের। ফলে পুনর্মূল্যায়নের পর ফল পরিবর্তনের এই ব্যাপকতা এসএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়নব্যবস্থার মান ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করে। তাঁদের আবেদনের আওতায় ছিল ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৮টি উত্তরপত্র।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, এবার ফল পরিবর্তনের সংখ্যা বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো পুনর্নিরীক্ষণের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। আগে মূলত নম্বর যোগ-বিয়োগে ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হতো।

তিনি বলেন, পুনর্মূল্যায়নের পর এত বেশি পরিবর্তন হওয়া উচিত নয়। ব্যক্তিবিশেষে মূল্যায়নে কিছু পার্থক্য হতে পারে। এবার শিক্ষকরা টানা ১১ দিন কাজ করে পুনর্মূল্যায়নের কাজ শেষ করেছেন। বিধি অনুযায়ী প্রথম দফায় মূল্যায়নের সময় যেসব উত্তরপত্রে ‘অনুচিত’ নম্বর দেওয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মূল্যায়নব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

এবার পুনর্মূল্যায়নের পর বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর নম্বর, গ্রেড ও ফল পরিবর্তনের ঘটনা শুধু ফল তৈরির কারিগরি ভুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বিশেষ করে প্রথমে ফেল করা শিক্ষার্থীর পাস করা এবং নতুন করে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনায় প্রথম দফায় উত্তরপত্র মূল্যায়নের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একজন পরীক্ষার্থীর একটি নম্বরও তার পাস-ফেল, গ্রেড কিংবা জিপিএতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে নির্ভুলতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

বর্তমানে ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসির ফল প্রকাশের চাপ থাকায় পরীক্ষকদের অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে হয়। এতে অনেক ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পরীক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা বা যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করার অভিযোগ থাকলে বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আমিরুল আলম খান বলেন, আগে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ না থাকায় মূল্যায়নে ভুল থাকলেও তা সংশোধনের কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না। এখন পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ চালু হওয়া ভালো উদ্যোগ। তবে পুনর্মূল্যায়নের কাজ কতটা সততার সঙ্গে ও যত্নসহকারে করা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

এবারের ফল পরিবর্তনের চিত্র তাই শুধু শিক্ষার্থীদের সংশোধিত ফলের পরিসংখ্যান নয়; একই সঙ্গে এটি এসএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতি, পরীক্ষকদের জবাবদিহি এবং দ্রুত ফল প্রকাশের বর্তমান কাঠামো নিয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।