হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিচার ও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার বিক্ষোভ সমাবেশ
Fazlul Kabir জুলাই ১, ২০২৬সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশুমৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং শিশুমৃত্যু রোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) বিকেল ৫টায় নগরের সিনেমা প্যালেস চত্বরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহা। সমাবেশ পরিচালনা করেন জেলা কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক নুরুচ্ছাফা ভূঁইয়া।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড মো. শাহ আলম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মৃণাল চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য উত্তম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড থানার সভাপতি জহির উদ্দীন মাহবুব এবং কোতোয়ালি থানার সাধারণ সম্পাদক জাবেদ চৌধুরী প্রমুখ।
বক্তারা দেশে হামের ভয়াবহ বিস্তার এবং ক্রমবর্ধমান শিশুমৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামে আক্রান্ত হয়ে বহু শিশুর মৃত্যু জনমনে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে। টিকাদান কর্মসূচিতে অব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবায় সমন্বয়হীনতা এবং প্রয়োজনীয় সচেতনতামূলক উদ্যোগের অভাবের কারণেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
তারা আরও বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকা সরবরাহের সীমাবদ্ধতা, স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট এবং চিকিৎসাসেবার অপ্রতুলতার কারণে সংকট আরও তীব্র হয়েছে। হাম প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থতার জন্য সংশ্লিষ্টদের দায় নিতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি ও অবহেলার কারণেই দেশে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তারা সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের বিচার দাবি করেন। একইসঙ্গে বর্তমান সরকারও এ দায় এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। তারা হামে মৃত্যুবরণকারী শিশুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানান।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে সারাদেশে কার্যকর টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত এবং স্বাস্থ্যখাতের বিদ্যমান অব্যবস্থাপনা দূর করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।