চলমান সংবাদ

কোরবানির ঈদে লবণের উচ্চমূল্যে দুশ্চিন্তায় চট্টগ্রামের চামড়া ব্যবসায়ীরা

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে লবণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, প্রতি বছর ঈদের আগে লবণের দাম বাড়লেও এবার বৃদ্ধি অনেক বেশি হওয়ায় কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ ব্যয়ও বেড়ে গেছে।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, এবার চট্টগ্রামে প্রায় ৪ লাখ কোরবানির কাঁচা চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এসব চামড়া সংরক্ষণে প্রয়োজন হবে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টন লবণ।

সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন আজাদীকে জানান, গত রমজানে প্রতি ৭৪ কেজি লবণের বস্তার দাম ছিল ৫৮০ টাকা। কিন্তু কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এখন সেই বস্তা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮০০ টাকায়। ফলে চামড়া সংরক্ষণে ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, “৪ লাখ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে সুষ্ঠুভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টন লবণ লাগবে। এতে প্রায় ৪ কোটি টাকার লবণের প্রয়োজন হবে। কাঁচা চামড়া আড়তে আনার সঙ্গে সঙ্গে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করতে হয়, না হলে চামড়া নষ্ট হয়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর ঈদের আগে লবণের দাম বেড়ে যায়। এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে আড়তদার ব্যবসায়ীরা আর্থিক চাপে পড়েছেন।

তবে কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবার ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ বিনামূল্যে বিতরণের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এসব লবণ মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিতরণ করা হবে, যাতে কোরবানির পর দ্রুত চামড়া সংরক্ষণ করা যায়।

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, বিনামূল্যের সরকারি লবণ বিতরণে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তার দাবি, মসজিদ–মাদ্রাসা ও এতিমখানার পাশাপাশি চামড়া আড়তদারদেরও সরকারি লবণ দেয়া উচিত।

তিনি বলেন, “গত বছর সরকার বিনামূল্যে লবণ বিতরণ করলেও শুধুমাত্র মসজিদ–মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলো সেই সুবিধা পেয়েছিল। অথচ আমরা আড়তদাররা প্রায় ৮০ শতাংশ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করি। অন্যদিকে মসজিদ–মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলো সংগ্রহ করে প্রায় ২০ শতাংশ। তাই আড়তদারদেরও সরকারি লবণ সহায়তার আওতায় আনা উচিত।”

পড়ুন:  সিআরবিতে বেসরকারি হাসপাতাল নির্মাণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, প্রকল্প বাতিলের দাবি

এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চামড়ার নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত কোরবানি সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা সভায় এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

নতুন নির্ধারিত দামে ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে প্রতি বর্গফুট গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।

এছাড়া খাসির লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ছাগলের চামড়ার এ মূল্য সারা দেশে একই থাকবে।