জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দিবসে চট্টগ্রামে জাহাজভাঙা শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জোরালো দাবি

চট্টগ্রাম, ২৮ এপ্রিল: জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে জাহাজভাঙা শ্রমিক সেফটি কমিটির উদ্যোগে আজ সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে এক সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জাহাজভাঙা শিল্পে বিদ্যমান ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর দাবিতে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সেফটি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ দিদারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং বিলস চট্টগ্রাম কেন্দ্রের কোঅর্ডিনেটর ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তপন দত্ত। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এ এম নাজিম উদ্দিন।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ মুক্ত শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার, জাহাজভাঙা শ্রমিক সেফটি কমিটির সদস্য সচিব মোঃ আলী, যুগ্ম সদস্য সচিব মোঃ , জাহাজভাঙা শ্রমিক টিইউসি’র সভাপতি মানিক মন্ডল এবং বিএলএফ চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারন সম্পাদক আবু আহমেদ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, জাহাজভাঙা শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এই খাতে শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শ এবং সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবে শ্রমিকদের জীবন হুমকির মুখে পড়ছে।
তারা আরও বলেন, ২৩টি গ্রিন ইয়ার্ড প্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং বাংলাদেশে ২০২৫ সালের ২৬ জুন হতে হংকং কনভেনশন বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক হওয়ার পরেও জাহাজভাঙা শিল্প খাতে দুর্ঘটনা না কমে বরং বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে কেবল আন্তর্জাতিক কনভেনশন গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়, বরং তার কার্যকর বাস্তবায়ন ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।
জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য অনুযায়ী, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও মালিকপক্ষের যৌথ দায়িত্ব হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন খুবই সীমিত বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
সমাবেশ থেকে বক্তারা জাহাজভাঙা শিল্পে আন্তর্জাতিক মানের সেফটি ব্যবস্থা চালু, শ্রমিকদের জন্য বাধ্যতামূলক সুরক্ষা সরঞ্জাম প্রদান, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং একটি কার্যকর ‘এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম’ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
তারা আরও বলেন, শ্রমিকের নিরাপত্তা কোনো দয়া নয়, এটি একটি মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে হলে আইন প্রয়োগের কঠোরতা বাড়াতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
সমাবেশ শেষে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়, যেখানে শ্রমিকরা “নিরাপদ কর্মস্থল চাই”, “শ্রমিকের জীবন রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিন” ইত্যাদি স্লোগান দেন।
