পুলিশের ইউনিফর্ম আবার বদলাতে চায় বাহিনী, ব্যয় ও সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধায় সরকার

বাংলাদেশ পুলিশ নিজেদের ইউনিফর্ম বা নির্ধারিত পোশাক দ্রুত পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে গত এক সপ্তাহে দুবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর সঙ্গে বৈঠক করে পাঁচ ধরনের নতুন পোশাকের রং উপস্থাপন করেছে পুলিশ প্রশাসন। এখন সরকারের পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাবের মধ্য থেকে একটি চূড়ান্ত করার অপেক্ষা চলছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে তাড়াহুড়া করতে নারাজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বারবার ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সুযোগ নেই এবং এটি বড় ধরনের ব্যয়ের বিষয় হওয়ায় ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পুলিশের ইউনিফর্ম তৈরির কাপড় সরবরাহে প্রায় ৭৬ কোটি টাকার কাজ দেওয়া হয়েছিল দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে। এর মধ্যে ৫১ কোটি টাকার কাজ পায় নোমান গ্রুপ এবং ২৫ কোটি টাকার কাজ পায় প্যারামাউন্ট গ্রুপ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের জুলাই গণ–অভ্যুত্থান-এর পর পুলিশের সংস্কারের দাবি ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালে প্রায় ২১ বছর পর পুলিশের ইউনিফর্মে পরিবর্তন আনা হয় এবং ‘আয়রন’ রঙের পোশাক নির্ধারণ করা হয়। গত বছরের নভেম্বর থেকে নতুন পোশাকে মাঠে নামতে শুরু করে পুলিশ, যদিও এখনো সব সদস্য তা পাননি।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় দুই লাখ পুলিশ সদস্য রয়েছে এবং তাঁদের বছরে পাঁচ সেট করে পোশাক দেওয়া হয়। তবে নতুন ইউনিফর্ম নিয়ে মাঠপর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক সদস্য এই রঙ পছন্দ করেননি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলের কারণে অস্বস্তির কথাও জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক বৈঠকে পুলিশ পাঁচটি সম্ভাব্য ইউনিফর্মের রং প্রস্তাব করেছে—খাকি শার্ট ও নেভি ব্লু প্যান্ট, সম্পূর্ণ খাকি, আগের গাঢ় নীল, বর্তমান আয়রন রং এবং আকাশি শার্টের সঙ্গে নেভি ব্লু প্যান্ট।
এদিকে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, আগের সিদ্ধান্তে সদস্যদের মতামত, দেশের আবহাওয়া এবং বাহিনীর স্বতন্ত্র পরিচয় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি রাজশাহীর বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি-তে এক অনুষ্ঠানে বলেন, বর্তমান ইউনিফর্মে পুলিশ সন্তুষ্ট নয় এবং ঐতিহ্যবাহী কোনো পোশাকে ফেরার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে, ইতিমধ্যে সরবরাহ করা নতুন ইউনিফর্ম পরিবর্তন করতে হলে অতিরিক্ত ব্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে ইউনিফর্ম পরিবর্তনের পরিবর্তে পুলিশের সেবার মান উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।বাংলাদেশ
