যে গল্পগুলো লেখা হয়নি–১৬: —ফজলুল কবির মিন্টু

কোথায় গেলে পাবো তাহারে

ঘটনাকাল: ১৯ ডিসেম্বর ২০২২ – ২০২৩ সালের প্রথম কয়েক মাস

পাওনা আদায়ের লড়াই

১৯ ডিসেম্বর ২০২২। সকাল সাড়ে এগারোটা।

চট্টগ্রাম নতুন রেলস্টেশনে একটি পোস্ট অফিস আছে। সেদিন একজন ক্ষতিগ্রস্ত নারী শ্রমিকের পক্ষে মালিক বরাবর তাঁর পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়ে একটি চিঠি পোস্ট করতে সেখানে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি, অফিস খোলা থাকলেও দরজায় তালা ঝুলছে। বাইরে কোনো নোটিশও নেই। স্টেশন মাস্টারসহ রেলের অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেও অফিস বন্ধ থাকার কারণ জানতে পারলাম না।

শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেনারেল পোস্ট অফিসে (জিপিও) গিয়ে চিঠিটি পোস্ট করে ফিরলাম।

চাইলেই চিঠিটি ওই নারী শ্রমিকের হাতে দিয়ে পোস্ট করাতে পারতাম। কিন্তু অভিজ্ঞতা থেকে জানি, শ্রমিকেরা অনেক সময় প্রয়োজনীয় তথ্য, কাগজপত্র কিংবা প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো ঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারেন না। ছোটখাটো কোনো ত্রুটি পরবর্তী সময়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে নিজেই চিঠিটি পোস্ট করলাম।

নারী শ্রমিকটির নাম কামরুন্নাহার। একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ১১ বছর চাকরি করেছেন। অথচ চাকরি শেষে কোনো গ্র্যাচুইটি কিংবা ক্ষতিপূরণ পাননি। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, তিনি জানতেনই না যে আইন অনুযায়ী মালিকের কাছ থেকে তাঁর ন্যায্য পাওনা বুঝে পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

একজন মানুষ জীবনের দীর্ঘ ১১টি বছর শ্রম দিয়ে গেলেন, অথচ নিজের অধিকার সম্পর্কেই তাঁর কোনো ধারণা নেই! এ শুধু কামরুন্নাহারের গল্প নয়। আমাদের দেশের অসংখ্য শ্রমিকের জীবনের বাস্তব চিত্র এটি। বছরের পর বছর কাজ করেও তাঁরা জানেন না, তাঁদের কী কী অধিকার রয়েছে, কোথায় গেলে প্রতিকার পাওয়া যাবে কিংবা কীভাবে নিজেদের পাওনা আদায় করতে হবে।

সারা দেশে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক এভাবেই তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একজন শ্রম অধিকারকর্মী হিসেবে বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। একই সঙ্গে এটি সামগ্রিক ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের জন্যও হতাশাজনক। যে শ্রমিকের অধিকার রক্ষার জন্য ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন, সেই শ্রমিকই যদি নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হন, তাহলে অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই কতটা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব?

তবু হাল ছাড়ার সুযোগ নেই। কামরুন্নাহারের পাওনা আদায়ের জন্য চেষ্টা শুরু করলাম।

কোথায় গেলে পাবো তাহারে

২ জানুয়ারি ২০২৩।

সেদিন কামরুন্নাহারের পক্ষে পাঠানো চিঠিটি ফেরত এল। খামের ওপর লেখা ছিল—ম্যানেজিং ডিরেক্টর না থাকায় চিঠি গ্রহণ করার মতো কাউকে পাওয়া যায়নি। চিঠি পাঠিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া গেল না। একজন অসহায় নারী শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা আদায়ের আবেদন গ্রহণ করার মতো লোকও প্রতিষ্ঠানে পাওয়া গেল না! মনে হলো, শ্রমিকের অধিকার আদায়ের পথ যেন আরও দীর্ঘ, আরও দুর্গম।

তখন কেডিএস ফ্যাশন লিমিটেডের নাম উল্লেখ করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিলাম। পোস্টটির শিরোনাম ছিল—‘কোথায় গেলে পাবো তাহারে’।

শিরোনামের মধ্যে ছিল একদিকে অসহায়ত্ব, অন্যদিকে ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য একজন শ্রমিকের হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ানোর বাস্তবতা। পোস্টটি ব্যাপক প্রচার পেল। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে কথা বললেন, পাশে দাঁড়ালেন।

সৌভাগ্যক্রমে পোস্টটি কেডিএস গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান সাইফুল আবেদীন ভাইয়ের নজরে আসে। তিনি নিজ উদ্যোগে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরের দিন তাঁকে ফোন করতে বলেন। মেসেঞ্জারে তাঁর ফোন নম্বরও পাঠিয়ে দেন।

পরদিন যথারীতি তাঁকে ফোন করলাম। তিনি জানালেন, বিষয়টি তাঁরা তদন্ত করেছেন এবং অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। কামরুন্নাহারকে তাঁর পাওনা পরিশোধের জন্য ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খবরটি শুনে স্বস্তি পেলাম। মনে হলো, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার মধ্যে অবশেষে আশার আলো দেখা যাচ্ছে।

আশার খবর

৩ জানুয়ারি ২০২৩।

সেদিন ফেসবুকে লিখলাম—

আলহামদুলিল্লাহ! আমাদের বোন কামরুন্নাহারের বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তাঁরা আগামীকাল অথবা পরশুর মধ্যে নাহারের পাওনা পরিশোধ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমাদের এই ক্যাম্পেইনে যাঁরা অকুণ্ঠভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছেন, সবাইকে জানাই সংগ্রামী লাল সালাম ও কৃতজ্ঞতা। পরবর্তী আপডেট সবাইকে জানানো হবে, ইনশাআল্লাহ।

তবে প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়ন এক বিষয় নয়। তাই অপেক্ষায় ছিলাম—কবে কামরুন্নাহার তাঁর ন্যায্য পাওনাটুকু হাতে পাবেন?

৪ জানুয়ারি ২০২৩: আজ অন্যরকম আনন্দের দিন

সেদিন অন্য একটি কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। হঠাৎ কামরুন্নাহারের ফোন এল।

ফোন ধরতেই তিনি আনন্দে প্রায় কেঁদে ফেললেন। একনিশ্বাসে বলে গেলেন, “ভাইয়া, আমি টাকা পেয়েছি!”

কেডিএস ফ্যাশন লিমিটেড কর্তৃপক্ষ তাঁকে ৬৮ হাজার ৮৩০ টাকা পরিশোধ করেছে।

এরপর তিনি যা বললেন, তা আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল।

আনন্দে আপ্লুত হয়ে কামরুন্নাহার জানালেন, টাকা পাওয়ার পর বাড়ি ফিরে প্রথমেই তিনি তাঁর মা-বাবার পায়ে ধরে সালাম করেছেন। তারপর বললেন, “আপনাকে যদি সামনাসামনি পেতাম, তাহলে আপনাকেও পায়ে ধরে সালাম করতাম।”

কথাগুলো শুনে আমার কেমন লাগছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। একজন অসহায় শ্রমিকের চোখে-মুখে স্বস্তি, কণ্ঠে আনন্দ আর দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির অনুভূতি—এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি একজন শ্রম অধিকারকর্মীর জীবনে আর কী হতে পারে!

দীর্ঘ পাঁচ-ছয় বছর ধরে শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে, পাশে থেকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। কাউকে তাঁর ন্যায্য পাওনা আদায় করে দিতে পেরেছি, কাউকে চাকরিতে পুনর্বহালের ব্যবস্থা করতে ভূমিকা রাখতে পেরেছি। প্রতিবারই সাফল্য পেলে ভীষণ আনন্দ হয়। কিন্তু কামরুন্নাহারের পাওনা আদায়ের এই ঘটনাটি কেন জানি অন্য রকম অনুভূতি তৈরি করেছিল।

হয়তো এর কারণ, কামরুন্নাহার শুধু তাঁর পাওনা টাকাই ফিরে পাননি; ফিরে পেয়েছিলেন নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার আনন্দ, অসহায়ত্ব কাটিয়ে ওঠার সাহস এবং ন্যায়বিচারের প্রতি নতুন করে আস্থা রাখার উপলক্ষ।

বিষয়টি জানার পর দ্রুততার সঙ্গে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য কেডিএস গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান সাইফুল আবেদীন ভাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমার ফেসবুক পোস্ট দেখেই তিনি নিজ উদ্যোগে বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থা করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, কামরুন্নাহারের চিকিৎসার ব্যাপারেও কিছু করা যায় কি না, সে বিষয়েও তাঁরা খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। তাঁর চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্রও সংগ্রহ করে রেখেছিলেন।

এই সাফল্য শুধু আমার একার নয়। এর পেছনে রয়েছে বিলস যুব নেটওয়ার্কের সংগঠক, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক সহযোগিতা। তাঁদের সবার প্রতি রইল সংগ্রামী লাল সালাম ও অভিনন্দন।

সেদিনের আনন্দের মুহূর্তে হয়তো ভাবিনি, এই গল্পের পরিণতি এতটা বেদনাদায়ক হবে।

আনন্দের আড়ালে জমে থাকা বেদনা

কামরুন্নাহার ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। দীর্ঘ ১১ বছর চাকরি করার পরও যে ন্যায্য পাওনা থেকে তিনি বঞ্চিত হয়েছিলেন, সেই ৬৮ হাজার ৮৩০ টাকা তাঁর চিকিৎসার জন্য সহায়ক হয়ে উঠেছিল। অর্থটি তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজনে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করেছিল।

সেদিন তাঁর কণ্ঠে যে আনন্দ শুনেছিলাম, আজও তা মনে পড়ে। মনে পড়ে, কী আবেগ নিয়ে তিনি বলেছিলেন, “ভাইয়া, আমি টাকা পেয়েছি!”

তাঁর সেই আনন্দের মুহূর্তে হয়তো কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছিল, জেগেছিল নতুন করে বাঁচার প্রত্যাশা।

কিন্তু জীবন সব সময় আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করে না।

টাকা পাওয়ার কয়েক মাস পর একদিন কামরুন্নাহারের ছোট বোন ফোন করলেন। জানালেন, কামরুন্নাহার আর নেই। পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে তিনি পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন।

খবরটি শুনে মনটা ভারী হয়ে গেল। যে মানুষটির ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য এত চেষ্টা, যাঁর কণ্ঠে টাকা পাওয়ার আনন্দ শুনে সেদিন নিজের ভেতরেও অন্য রকম তৃপ্তি অনুভব করেছিলাম, সেই মানুষটি আর পৃথিবীতে নেই!

তাঁর চলে যাওয়ার পর মনে হলো, আমাদের সেই প্রচেষ্টা তাঁর জীবনের সব কষ্ট দূর করতে পারেনি। তাঁর অসুস্থতা সারিয়ে তুলতে পারেনি, তাঁকে আমাদের মাঝে ধরে রাখতে পারেনি। তবে তাঁর অধিকার আদায়ের মধ্য দিয়ে অন্তত তাঁর কঠিন সময়ে চিকিৎসার জন্য কিছুটা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা গিয়েছিল।

একজন শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা তাঁর অধিকার, কারও দয়া নয়। অথচ সেই অধিকার আদায় করতেও তাঁকে কতটা অসহায় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল! যদি সময়মতো তাঁর পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হতো, তাহলে হয়তো চিকিৎসার প্রয়োজনে আরও আগে সেই অর্থ কাজে লাগাতে পারতেন।

কামরুন্নাহারের মৃত্যুসংবাদ আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। একজন শ্রমিকের পাওনা আদায় করে দেওয়ার আনন্দ আর সেই শ্রমিকের পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেওয়ার বেদনা—দুটি অনুভূতি যেন একই গল্পে এসে মিলিত হলো।

আজও মনে হয়, তাঁর মতো কত শ্রমিক নীরবে অসুস্থতা, দারিদ্র্য আর বঞ্চনার সঙ্গে লড়াই করে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। তাঁদের অনেকের গল্প অজানাই থেকে যায়। তাঁদের কান্না, তাঁদের সংগ্রাম, তাঁদের অপূর্ণ প্রত্যাশার কথা কেউ লিখে রাখে না।

কামরুন্নাহার আজ নেই। কিন্তু তাঁর পাওনা আদায়ের সেই লড়াই, তাঁর আনন্দে ভেজা কণ্ঠস্বর আর কয়েক মাস পর পাওয়া তাঁর মৃত্যুসংবাদ আমার স্মৃতিতে রয়ে গেছে।

‘কোথায় গেলে পাবো তাহারে’—শিরোনামটি সেদিন ছিল একজন শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য কাউকে খুঁজে ফেরার আকুতি। আজ কামরুন্নাহার চলে যাওয়ার পর শিরোনামটি আমার কাছে আরও গভীর, আরও বেদনাময় অর্থ বহন করে।

শেষ কথা

কামরুন্নাহারের ঘটনা আমাকে আবারও কয়েকটি প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়।

একজন শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য কেন তাঁকে এতটা অসহায় হতে হবে? কেন ১১ বছর কাজ করার পরও একজন নারী শ্রমিক জানবেন না যে তাঁর পাওনা পাওয়ার অধিকার রয়েছে? কেন একটি চিঠি গ্রহণ করানোর জন্যও এত ভোগান্তি পোহাতে হবে?

আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—দেশের লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের পাশে দাঁড়ানোর মতো কার্যকর ট্রেড ইউনিয়ন ব্যবস্থা কোথায়?

কামরুন্নাহারের পাওনা আদায় হয়েছিল। তাঁর মুখে হাসি ফুটেছিল। কিন্তু কয়েক মাস পরই তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন। তাঁর জীবনের সব কষ্ট দূর করা কিংবা তাঁকে সুস্থ করে তোলা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তবু তাঁর ন্যায্য পাওনা আদায়ের মধ্য দিয়ে তাঁর চিকিৎসার জন্য কিছুটা সহায়তার ব্যবস্থা করতে পেরেছিলাম—এটুকুই সান্ত্বনা।

কিন্তু এমন আরও অসংখ্য কামরুন্নাহার আছেন, যাঁদের কথা কেউ জানে না, যাঁদের কান্না কারও কানে পৌঁছায় না, যাঁদের ন্যায্য পাওনার দাবি কোনো ফেসবুক পোস্টে উঠে আসে না। কেউ হয়তো অসুস্থ শরীর নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, কেউ চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন, আবার কেউ নিজের অধিকার না জেনেই নীরবে বঞ্চনা মেনে নিচ্ছেন।

তাঁদের সবার কাছে পৌঁছানো আমাদের পক্ষে হয়তো সম্ভব নয়। কিন্তু যত দিন পারি, যতটুকু পারি, শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে পাশে থাকতে চাই।

কারণ, একজন শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা আদায় শুধু কিছু টাকা উদ্ধার করার ঘটনা নয়; এটি তাঁর শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াই।

আর সেই লড়াইয়ে একজন শ্রমিকের মুখে স্বস্তির হাসি ফোটাতে পারার আনন্দ সত্যিই অন্য রকম।

কিছু গল্প শেষ হয় না। মানুষটি চলে যান, কিন্তু তাঁর গল্প আমাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রেখে যায়। কামরুন্নাহারের গল্পও তেমনই—একজন শ্রমিকের অধিকার, জীবনের অনিশ্চয়তা এবং সময়মতো ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার অপরিহার্যতার এক বেদনাময় স্মারক।

কামরুন্নাহারের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।