বন্দর রক্ষা কমিটির বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত -৫ অক্টোবর বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা
![]()
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি–চট্টগ্রাম। একই সঙ্গে আগামী ৫ অক্টোবর বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আজ সকাল ১১টায় নগরের বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে বন্দর অভিমুখে এ বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিল শুরুর আগে বারিক বিল্ডিং মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান।
বন্দর রক্ষা কমিটি–চট্টগ্রামের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদারের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, সহসম্পাদক ইব্রাহীম ফরাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান, ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, ন্যাপ নেতা মিটুন দাশ, চা বাগান শ্রমিক নেতা প্রদীপ দাশ, বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রহিম, কমিউনিটি সেন্টার ও ডেকোরেশন কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. পারভেজ, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব) নেতা দেলোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
সমাবেশে টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এই বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই দেশের স্বার্থে হতে পারে না। বন্দরের সক্ষমতা ও পরিচালনার সঙ্গে শ্রমিকদের স্বার্থও জড়িত। তাই এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার আগে দেশের স্বার্থ, শ্রমিকদের অধিকার এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সম্পদ ও অবকাঠামো জনগণের সম্পদ। এসব সম্পদ দীর্ঘমেয়াদি ইজারার মাধ্যমে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে শ্রমিক ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর শুধু একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের অর্থনীতি, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এনসিটি ও সিসিটি পরিচালনার নামে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বন্দর পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। বন্দরের আয় ও সক্ষমতা বৃদ্ধির নামে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়, যাতে শেষ পর্যন্ত দেশের জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে।
শ্রমিক নেতা কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া জনস্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এই বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল এনসিটি ও সিসিটি বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়া দেশের জনগণ মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো, আধুনিকায়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার নামে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে দেওয়া কোনো সমাধান হতে পারে না। বরং বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সংযোজন এবং দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব।
নুরুল্লাহ বাহার আরও বলেন, এনসিটি ও সিসিটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এসব টার্মিনাল ইজারা দেওয়া হলে রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। একই সঙ্গে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থান, চাকরির নিরাপত্তা ও অধিকারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম বলেন, এনসিটি দেশের বিনিয়োগে নির্মিত সবচেয়ে আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। এটি ইজারা দেওয়া হলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, এনসিটি ও সিসিটি ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁস’। একটি কুচক্রী মহল পুরো হাঁসটিই খেয়ে ফেলতে চাচ্ছে। দেশের স্বার্থে কোনোভাবেই এ ধরনের উদ্যোগ মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, এতদিন আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছি। কিন্তু সরকার বিষয়টি আমলে নেয়নি। ফলে আমরা বাধ্য হয়ে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছি। এই আন্দোলন বারুদের মতো বিস্ফোরিত হওয়ার আগেই সরকারকে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা না দেওয়ার ঘোষণা দিতে হবে।
সমাবেশ শেষে বন্দর রক্ষা কমিটির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বন্দর অভিমুখে এগিয়ে যান। এ সময় তারা এনসিটি ও সিসিটি ইজারা বাতিল এবং চট্টগ্রাম বন্দরের স্বার্থ রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশ থেকে আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়