বিজন ভাবনা (৬১): মক্কা চুক্তি ও বাংলাদেশ  -বিজন সাহা

বেশ কিছুদিন হয় সামাজিক মাধ্যম গরম মক্কা চুক্তি নিয়ে। তবে দেশ যেখানে এক যুগ আগে মদিনা সনদের পথে পশ্চাৎপদ হবার ঘোষণা দিয়েছিল তাতে করে মক্কা চুক্তিতে সে যে ঢুকতে চাইবে বা ঢুকবে তাতে নতুন করে বিতর্কের কি আছে? আমরা তো চলার পথের ভেক্টর তখনই ঠিক করে ফেলেছি। আমাদের দেশে “ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না” শুধুই বইয়ের পাতায় লেখা থাকে। আসলে আমাদের দেশে সব কিছুই বইয়ের ভেতরে লুকানো, তা সে “সদা সত্য কথা বলিবে, কখনও মিথ্যা কথা বলিবে না”, “সদা সৎ পথে চলিবে, কখনও অসৎ পথে চলিবে না” বা আর যাই হোক। আমরা ধরেই নেই যে চিন্তাভাবনা করা আমাদের কাজ নয়, অন্যেরা আমাদের হয়ে ভাববে আর আমরা তাদের কথা মত দেশ চালাব। তবে যাদের কথাতেই চালাই না কেন, দেশ তো আমাদের। তাই যেকোনো পদক্ষেপের ভাল মন্দ ভোগ আমাদেরই করতে হবে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের উদাহরণ থেকে শিক্ষা নিলে ভাল হয়।

কিছুদিন আগে পর্যন্ত ফিনল্যান্ড নিরপেক্ষ দেশ ছিল, যেমন ছিল অস্ট্রিয়া। পশ্চিমা বিশ্বের সাথে সুসম্পর্ক তারা বরাবরই বজায় রেখে চলত, আর নিরপেক্ষ স্ট্যাটাস তাদের সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পরে রাশিয়ার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখার ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে লাভবান অবস্থানে থাকার গ্যারান্টি দিত। কিন্তু যে মুহূর্তে তারা ন্যাটোতে যোগ দিয়েছে, সেই মুহূর্তে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ছাতার পাশাপাশি রাশিয়ার মিসাইলের আঘাতের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। নিরপেক্ষ স্ট্যাটাস যেখানে বিনা খরচে তাদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিত, বর্তমান স্ট্যাটাস তাদের সামরিক খাঁতে খরচ বাড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, রাশিয়ার প্রতিবেশী হবার কারণে প্রথম আঘাতের শিকার হবার রিস্ক বাড়িয়েছে। তাছাড়া ইউরোপের অন্যান্য দেশের মত ফিনল্যান্ডের অর্থনীতির স্বাস্থ্য বহুলাংশেই নির্ভর করত অপেক্ষাকৃত সস্তা রুশ কাঁচামালের উপর। যদিও বর্তমান এস্টাব্লিশমেন্ট স্বীকার করে না, তবে ন্যাটোতে যোগদান ও রাশিয়ার উপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে ফিনল্যান্ডের অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যেকোনো যুদ্ধ জোট কারও না কারও বিরুদ্ধে গঠিত হয়। মক্কা চুক্তি, যাকে অনেকেই ইসলামিক ন্যাটো আখ্যা দিতে চাইছে, তো শুধু নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্বের জন্য নয়, কারও কারও বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্যও তৈরি হয়েছে। কারা আছে এই চুক্তিতে সেদিকে খেয়াল করলে বোঝা যাবে পটেনশিয়াল শত্রু কারা। ইরানের সাথে সৌদি আরবের সম্পর্ক বন্ধুত্বসুলভ নয়। তাছাড়া ইয়েমেনের হুতিরাও সৌদি আরবের পেয়ারের কেউ নয়। তারা মূলত এই মুহূর্তে যুদ্ধরত। তুরস্ক সিরিয়ার সাথে যুদ্ধাবস্থায় যেমন রাজ্যহীন কুর্দিদের সাথে। ইসরাইল ও তুরস্কের সম্পর্ক শত্রুভাবাপন্ন আর আছে গ্রীস। পাকিস্তান ভারতের বৈরিতা সেই জন্ম থেকেই। এছাড়াও আছে আভ্যন্তরীণ সমস্যা। পাকিস্তানে বেলুচ আর কাশ্মীর সমস্যা, সমস্যা আছে আফগানিস্তনের সাথে। তাই এই জোটে যোগ দেয়া মানে নিজদের এসব সমস্যার অংশীদার করা। ইউরোপের কথায় রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলতে গিয়ে ইউক্রেন আজ ধ্বংসের পথে। পশ্চিমা বিশ্ব যাই বলুক, তারা ইউক্রেনকে সাহায্য করছে রাশিয়াকে দুর্বল করার অভিপ্রায় থেকে, ইউক্রেনকে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধশালী করার স্বদিচ্ছা থেকে নয়। আজ যদি বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে যোগ দেয় আর পাকিস্তান নিজের আভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে দৃষ্টি ফেরানোর জন্য ভারতের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করে তাহলে বাংলাদেশ কি করবে? সৌদি আরব ও তুরস্ক অনেক দূরে, যুদ্ধ হবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মাটিতে। দেশের মানুষ কি যুদ্ধের ভয়াবহ উত্তাপ সহ্য করতে রাজি? একাত্তরে মানুষের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল, আমাদের কোন সেনাবাহিনী ছিল না, মানুষ নিরুপায় হয়ে মুক্তিযুদ্ধে নেমেছে। এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। আর এখন যুদ্ধের কৌশল, ক্ষয়ক্ষতি একেবারেই ভিন্ন মাত্রার। তাই এসব চুক্তিতে যোগ দেবার আগে নিজেদের ভালোমন্দ বিচার করতে হবে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বন্ধুত্ব থাকে না, থাকে জাতীয় স্বার্থ।

মক্কা চুক্তির পাশাপাশি বাংলাদেশের যুদ্ধ বিমান কেনার খবর প্রকাশিত হয়েছে। কেন এই মুহূর্তে যুদ্ধ বিমান কেনা? বাংলাদেশের কি আক্রান্ত হবার আশঙ্কা আছে? যুদ্ধ বিমান কিনলে সেই আশঙ্কা বাড়বে না কমবে সে প্রশ্নটাও আমাদের করতে হবে? আবারও আমরা ফিনল্যান্ডের দিকে তাকাব। ফিনল্যান্ড যখন ন্যাটোর সদস্য ছিল না তখন ফিন-রুশ সীমান্তে উত্তেজনা ছিল না, ছিল না ফিনল্যান্ডের দিকে তাক করা রুশ ক্ষেপণাস্ত্র। ন্যাটোর সদস্য হয়ে ফিনল্যান্ড দৃশ্যত তার প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বাড়িয়েছে, কিন্তু সেই সাথে নিজেকে আক্রমণের সরাসরি লক্ষ্যে পরিণত করেছে। বুঝতে অসুবিধা হয় না যে বাংলাদেশে ভারত বিরোধী কার্ড খুবই জনপ্রিয়। সেই কার্ড খেলে জনসমর্থন নিয়ে সামরিক বাজেট বাড়ানো যায়, যুদ্ধ বিমান কেনা যায়। কিন্তু আমরা কি নিজেদের এই প্রশ্ন কখনো করি কাদের বিরুদ্ধে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হবে? তারচেয়েও বড় কথা সামরিক বাজেট বাড়াতে দিয়ে আমাদের কোন কোন খাঁতে খরচ কমাতে হবে? এটা কি আমাদের উন্নয়নে সাহায্য করবে? মনে রাখতে হবে সামরিক খাঁতে খরচ কখনই উৎপাদনমুখী নয়।

পাকিস্তানের দিকে তাকিয়ে দেখি। ভারত বিরোধী কার্ড খেলেই পাকিস্তানী সেনাবাহিনী সে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। এত শক্তিশালী যে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, বিচার ব্যবস্থা সব তার পদানত। সে দেশ ও দেশের মানুষ আজ সেনাবাহিনীর হাতে জিম্মি। আসলে সত্যি বলতে কি, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে কোন বহিঃশত্রু কখনই পরাজিত হয়নি, বরং তাদের যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার মাশুল বার বার দিয়েছে সে দেশের জনগণ। বাইরের শত্রু নয়, তাদের হাতে বার বার ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে দেশের নির্বাচিত সরকার। আজ যদি পাকিস্তানের সার্বিক অবস্থার দিকে তাকাই, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় শত্রু তার সেনাবাহিনী। তারা যে শুধু বাজেটের একটা বড় অংশ শুষে নিচ্ছে তাই নয়, তারা সমস্ত রাষ্ট্র ক্ষমতা, তা সে প্রত্যক্ষ ভাবেই হোক আর পরোক্ষ ভাবেই হোক, কুক্ষিগত করে বসে আছে। সেখানে না আছে আইনের শাসন, না আছে গণতন্ত্র। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বলেও কিছু নেই। দেশ থেকে সংখ্যালঘুদের প্রায় নিশ্চিহ্ন করলেও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা কমেনি। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানের জায়গা দখল করেছে শিয়া, আহমদী, কাদিয়ানী ও অন্যান্য মুসলিম গ্রুপ। তাই প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ালেই যে দেশ সুরক্ষিত থাকবে, নিজ দেশের সেনাবাহিনী জনগণের শত্রু হয়ে উঠবে না, সেই কথা কে বলবে?

আচ্ছা ভারত কয়বার পাকিস্তান আক্রমণ করেছে? একবারও না। এমনকি ১৯৭১ সালে পাকিস্তান প্রথমে ভারত আক্রমণ করার পরই সে সরাসরি যুদ্ধে নেমেছে। আর প্রতিটি যুদ্ধেই পরাজিত হয়েছে। কিন্তু এই পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিজের দেশে ও বিভিন্ন মুসলিম দেশে বীরদর্পে লাখ লাখ মুসলিম হত্যা করছে। একাত্তরে বাংলাদেশেই তিরিশ লাখ স্বদেশী হত্যা করেছে তারা। বেলুচিস্তান, কাশ্মীর, ইয়েমেন, প্যালেস্টাইন (জর্ডানে) কোথায় নেই তাদের হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস? গাদ্দাফির দেয়া গোলা বিহীন ট্যাঙ্ক ১৯৭৫ সালে দেশের ইতিহাস বদলে দিয়েছিল। চব্বিশে রাজনৈতিক শক্তির কাঁধে ভর করে ক্ষমতা দখল করে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এখন নিজেদের শক্তিশালী করছে। এরপর যে তারা পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর অনুকরণে বাংলাদেশের জনগণের বুকে জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসবে না সেই গ্যারান্টি কে দেবে? কী পাকিস্তান, কী বাংলাদেশ, কী অন্য কোনো দেশ, যেখানেই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল সেখানে সেনাবাহিনী যত না বহিঃশত্রুর বিরুদ্ধে তারচেয়ে বেশি করে নিজেদের জনগণের বিরুদ্ধে তার অস্ত্র ব্যবহার করেছে। আজ আমাদের নির্বাচিত সরকার যখন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করার বদলে সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করে তখন সে আসলে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারে, নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন করে।

আমাদের দেশের লোকজনের যুদ্ধ সম্পর্কে একটি ভুল ধারণা আছে। এর মূল কারণ মনে হয় টিভি পর্দায় আমরা যুদ্ধ দেখে অভ্যস্ত আর অনেকের ধারণা চাইলেই দিল্লি দখল করা যায়। আর এসব স্বপ্ন দেখার সময় তারা ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের কথা মাথায় রাখে না। সোভিয়েত ইউনিয়নে যখন লেখাপড়া করতে আসি তখন এখানে প্রচুর যুদ্ধবিরোধী জনপ্রিয় গান, কবিতা, গল্প, উপন্যাস, সিনেমা ছিল। এখনও আছে। রুশ জাতি যোদ্ধা জাতি। তাদের ইতিহাস অন্তহীন যুদ্ধ বিগ্রহের ইতিহাস। যুদ্ধকে এরা ভয় পায় না, আর তাই সহজে যুদ্ধে নামতে চায় না। এক বিখ্যাত গান এরকম

রুশরা কি যুদ্ধ চায়? একথা তুমি বিস্তীর্ণ আবাদি জমি আর মাঠের উপরে বিরাজমান নীরবতার কাছে জিজ্ঞেস কর, বার্চ ও পপলারের কাছে জিজ্ঞেস কর আর বার্চের নীচে চিরনিদ্রায় শুয়ে থাকা সেনাদের জিজ্ঞেস কর, তাদের সন্তানরা তোমাদের উত্তর দেবে রুশরা যুদ্ধ চায় কিনা?

শুধু নিজের দেশের জন্যই সেই যুদ্ধে সেনারা প্রায় দেয়নি। যাতে সমস্ত পৃথিবীর মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমুতে পারে সেজন্য তারা যুদ্ধ করেছে। যারা এলব পর্বতে আমাদের আলিঙ্গন করেছে সেই সেনাদের জিজ্ঞেস কর রুশরা যুদ্ধ চায় কিনা?
আমরা যুদ্ধ করতে পারি, কিন্তু আমরা চাই না যে আমাদের সেনারা আবার নিজ ভূমে যুদ্ধে প্রাণ হারাক, আমার মাকে জিজ্ঞেস কর, আমার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস কর, কেবল তাহলেই তুমি বুঝতে পারবে রুশরা যুদ্ধ চায় কিনা?

এরকম প্রচুর গান আছে যা যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রকাশ করে, যুদ্ধ থেকে জাতিকে দূরে রাখতে চায়, যদিও বার বার এদের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয়। কেন তারা যুদ্ধ থেকে দূরে থাকতে চায়? কারণ এরা জানে যুদ্ধ কোন বৈকালিক ভ্রমণ নয়। যুদ্ধ মানেই আত্মীয় স্বজন হারানো, যুদ্ধ মানেই স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হওয়া, যুদ্ধ মানেই দীর্ঘকালীন সমস্যা।  শান্তি চুক্তির মধ্য দিয়ে মাঠের যুদ্ধ শেষ হয়, কিন্তু মানসিক যুদ্ধ শেষ হতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম পেরিয়ে যায়। এই যে আমরা এখনও পর্যন্ত একাত্তরের সেই সংগ্রাম থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি, আজও দেশ রাজাকার আর মুক্তিযোদ্ধায় বিভক্ত, সেটাও কি যুদ্ধ সম্পর্কে আমাদের এতটুকু সতর্ক করে না?

একসময় সব দিক দিয়ে সফল ও শক্তিশালী দেশ নিজের সীমানা বাড়ানোর জন্য যুদ্ধ করত। বর্তমানে দেশের সীমানা যেহেতু আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা নির্ধারিত হয় তাই কেউ কোন দেশ জয় করলেও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সহজে মেলে না। সাইপ্রাসের একাংশ দখল করেও তুরস্ক আন্তর্জাতিক ভাবে তার স্বীকৃতি পায়নি, তিব্বত চীনের দখলে থাকলেও সবাই সেটা মেনে নেয়নি, কাশ্মীর সমস্যা এখনও বিদ্যমান। আজকাল তাই কেউ ভূমি দখল করতে চায় না, কোন দেশকে বশ্যতা মানাতে শক্তিশালী দেশগুলো অর্থনৈতিক সহ বিভিন্ন ধরণের লিভার ব্যবহার করে। কেউ আর অযথা যুদ্ধ করতে চায় না। যুদ্ধ শুরু করে ব্যর্থ রাষ্ট্র বা আভ্যন্তরীন সমস্যা জড়িত রাষ্ট্র অথবা যখন কোন গোষ্ঠী উস্কানি দিয়ে কোন রাষ্ট্রকে যুদ্ধে নামতে বাধ্য করে। ইউরোপের বর্তমান এস্টাব্লিশমেন্ট রাশিয়ার জুজুর ভয় দেখিয়ে নিজ নিজ দেশের সামরিক বাজেট বাড়াচ্ছে, কাটছে বিভিন্ন রকমের সমাজকল্যাণমূলক খাঁতের  অর্থ। বাংলাদেশেও তার পদধ্বনি শোনা যায়। আর্মি নয়, সাধারণ মানুষ রক্ত দিয়ে একাত্তরে দেশ স্বাধীন করেছিল। আমরা কি এখন নিজ হাতে দেশটা আর্মির হাতে তুলে দেব? আর্মির শাসন শুধু আর্মির শাসন নয়, এটা আসলে পাকিস্তানি শাসন। কী গঠনে, কী বিষয়বস্তুতে। তাছাড়া আমাদের মনে রাখতে হবে যে হাজারো সমস্যার পরেও ভারত আমাদের প্রতিবেশী থাকবে আর পাকিস্তান, তুরস্ক বা সৌদি আরব কখনোই আমাদের প্রতিবেশী হবে না। আমরা যেন অন্যের ভালোমন্দের কথা ভেবে নিজেদের নীতি নির্ধারণ না করি। পরের যাত্রা ভঙ্গ করার জন্য যেন নিজের নাক না কাটি।

গবেষক, জয়েন্ট ইনস্টিটিউট ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ
শিক্ষক, রাশিয়ান পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি, মস্কো