খুলশীতে সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, আহত ৬
Fazlul Kabir সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬চট্টগ্রাম নগরের খুলশীতে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে (৪২) গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। এ সময় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম ও তার বডিগার্ডসহ অন্তত ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে পুলিশের সরকারি গাড়ি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে খুলশীর ওয়্যারলেস মোড় ও পাহাড়তলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, হামলার সুযোগে এবং বাসার ভেতরের একটি গোপন সুড়ঙ্গপথ ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় ওয়াকিল হোসেন পালিয়ে যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে ওয়াকিল হোসেনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় খুলশী থানা পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তার অনুসারীরা রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি করে। একপর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল, বোতল ও ককটেলসদৃশ বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয়।
হামলায় খুলশী থানার ওসির সরকারি গাড়িটি ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে তিন থেকে চারটি সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এ সময় ওসির হাতসহ পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, হামলার পর ওয়্যারলেস এলাকার বিভিন্ন গলি ও ওয়াকিল হোসেনের বাসভবনে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাসার ভেতরে একটি গোপন সুড়ঙ্গ ও পালানোর পথের সন্ধান পাওয়া যায়। ওই পথ ব্যবহার করে এবং পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় অভিযানের আগেই ওয়াকিল হোসেন পালিয়ে যান বলে পুলিশের দাবি।
অভিযান চলাকালে ওয়াকিল হোসেন মোবাইল ফোন ও ভিডিও কলের মাধ্যমে পুলিশকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন বলেও জানায় পুলিশ।
খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিম বলেন, কলেজশিক্ষক পেটানোর ঘটনায় নিয়মিত মামলা হওয়ার পর আসামির বিরুদ্ধে থাকা অস্ত্র মামলার ওয়ারেন্ট ও অন্যান্য অপরাধের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযানে যায়। কিন্তু আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে।
তিনি বলেন, হামলায় তার নিজের হাতসহ পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং ওয়াকিল হোসেনসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।