বেকার ভাতা চালু ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি যুব ইউনিয়নের
চট্টগ্রাম, ২৮ আগস্ট: শিক্ষা, কাজ, জাতীয় সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াইকে সামনে রেখে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৫টায় নগরীর ৪৪ হাজারী লেনের প্রগতি ভবনে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি মো. শাহ আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাবেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের চট্টগ্রাম জেলার সাবেক সভাপতি রিপায়ন বড়ুয়া, রুপন কান্তি ধর, নাবিলা তানজিনা, রাশিদুল সামির, গোলাম সরোয়ার, রিপন বড়ুয়া, মাহবুবা জাহান রুমি, বিপ্লব দাশ, সাবেক ছাত্রনেতা টিকলু কুমার দেসহ অনেকে।
সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না করে বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ বেকারত্বের বোঝা নিয়ে জীবনযাপন করছেন। তাই বেকার যুবকদের জন্য বেকার ভাতা চালু, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সরকারি-বেসরকারি খাতে নতুন কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
তারা আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম চাপে রয়েছে। বাজার সিন্ডিকেট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ করে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিত্যপণ্যের দাম রাখার দাবি জানান তারা।
চট্টগ্রামের গ্যাস সংকট নিয়েও সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে আবাসিক গ্রাহকরাও দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত এবং বিদ্যুতের দাম কমানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
জাতীয় সম্পদ রক্ষার বিষয়ে বক্তারা বলেন, দেশের তেল, গ্যাস, কয়লা ও সমুদ্রসম্পদসহ কোনো জাতীয় সম্পদ বিদেশি বা বেসরকারি স্বার্থে তুলে দেওয়া যাবে না। জাতীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এর সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনা কোনোভাবেই বিদেশি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে পরিচালনার সুযোগ দেওয়া যাবে না। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর দেশের জনগণের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
সভায় বক্তারা বেকার ভাতা চালু, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান, বিদ্যুতের দাম কমানো, জাতীয় সম্পদ ও চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষার দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দেন।