আলাউদ্দিনের মৃত্যু: মালিকের বক্তব্যের পরও যে প্রশ্নগুলোর উত্তর চাই -ফজলুল কবির মিন্টু
![]()
আজ বারাকা শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের আলাউদ্দিন নামের একজন শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেছেন। গত ১৬ আগস্ট ২০২৬, রবিবার কর্মস্থলে কাজ করার সময় উপর থেকে পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হন বলে জানা গেছে। এরপর দীর্ঘ এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে আজ ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। একজন শ্রমিকের এভাবে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।
ডেইলি স্টার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পড়ে জানতে পেরেছি, ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে—আলাউদ্দিন কর্মস্থলে আহত হননি। বারাকা শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের মালিক শামসুল আলমের ভাষ্য, আলাউদ্দিনের হৃদ্যন্ত্রে জটিলতা দেখা দিয়েছিল এবং আজ ভোরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি মারা যান। মালিক আরও অভিযোগ করেছেন, নিজেদের স্বার্থে কিছু শ্রমিক নেতা আলাউদ্দিনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের দাবি তুলছেন।
মালিক হয়তো তার বক্তব্যের জায়গা থেকে ঠিকই বলেছেন। এমনকি কোনো শ্রমিক নেতা যদি নিজেদের স্বার্থে বিভ্রান্তিকর বা অসত্য দাবি তুলে থাকেন, সেটিও তদন্ত হওয়া উচিত। কিন্তু মালিকের বক্তব্যের পরও কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়। আমার সবিনয় প্রশ্ন—আলাউদ্দিনের যদি হৃদ্যন্ত্রে জটিলতা দেখা দিয়েই থাকে, তাহলে তাকে সিসিইউতে না রেখে আইসিইউতে কেন চিকিৎসা দেওয়া হলো? আর তার মেরুদণ্ডে আঘাত বা ভাঙনের বিষয়টি কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে? তিনি যদি কর্মস্থলে আহত না হয়ে থাকেন, তাহলে তার মেরুদণ্ডে এই গুরুতর আঘাতের কারণ কী?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য নয়; বরং একজন হতভাগ্য শ্রমিকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার জন্য। তাই শ্রমিক নেতা কিংবা মালিক—কোনো পক্ষের বক্তব্যকেই চূড়ান্ত সত্য ধরে না নিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসা নথি, মেডিকেল রিপোর্ট এবং কর্মস্থলের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা হোক। আলাউদ্দিনের পরিবার ও সহকর্মীদের জানার অধিকার রয়েছে—ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হলো এবং তার মৃত্যুর পেছনে কারও দায় বা অবহেলা ছিল কি না।
(লেখকঃ জাহাজভাঙা শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্য কেন্দ্রের সমন্বয়ক, বিলস-ডিটিডিএ প্রকল্প)