চলমান সংবাদ

ক্রিমিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা, জ্বালানি সংকট ও ইউক্রেনীয় হামলায় বাড়ছে চাপ

অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে জ্বালানি সংকট ও ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে রুশ সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের কিছু সদস্যকে সরিয়ে নেওয়ার খবরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাশিয়া-নিযুক্ত ক্রিমিয়ার গভর্নর সের্গেই আকসিওনভ (Sergei Aksyonov) পুরো ক্রিমিয়া উপদ্বীপে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। একই দিনে সেভাস্তোপলের গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ (Mikhail Razvozhayev) শহরজুড়ে জরুরি অবস্থা কার্যকর হওয়ার ঘোষণা দেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এ জরুরি অবস্থা বহাল থাকবে।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলায় ক্রিমিয়ামুখী রসদ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে উপদ্বীপে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ক্রিমিয়ার এক ট্যাক্সিচালক আলেকসান্দর বলেন, ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন। তার ভাষায়, “অল্প সময়ের মধ্যেই হয়তো খাবার কেনার মতো অর্থও থাকবে না।”

সেভাস্তোপলের এক বাসিন্দা জানান, শহরে প্রায় প্রতিদিনই বিমান হামলার সতর্কতা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। তার মতে, শহরটি আগের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এদিকে স্থানীয় এক সুপারমার্কেটের ক্রেতা জানান, সরবরাহ সংকটের সময় দোকানের অনেক তাকই খালি ছিল এবং খাদ্যপণ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফেওদোসিয়ায় ছুটি কাটাতে যাওয়া মস্কোর এক বাসিন্দা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, “স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটক—সবাই আতঙ্কে রয়েছে। রাতের হামলার সময় আকাশ যেন ‘স্টার ওয়ার্স’ সিনেমার দৃশ্যের মতো লাগছিল।”

এদিকে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলায় ক্রিমিয়ার সঙ্গে সংযোগকারী কিছু গুরুত্বপূর্ণ রসদ পরিবহন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সমুদ্রপথে সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে।

তবে “গ্রীষ্ম শেষ হওয়ার আগেই ক্রিমিয়ার নিয়ন্ত্রণ বদলে যেতে পারে” কিংবা “রাশিয়া দক্ষিণ ইউক্রেন থেকে প্রত্যাহারে বাধ্য হবে”—এ ধরনের দাবি বর্তমানে কোনো নির্ভরযোগ্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য দ্বারা নিশ্চিত নয়। যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় এসব বিষয়কে অনুমান বা বিশ্লেষণ হিসেবে দেখা উচিত, প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে নয়।