চলমান সংবাদ

গো ব্যাক ডিপি ওয়ার্ল্ড’, ‘রক্ত দিব, জীবন দিব, এনসিটি-সিসিটি দিব না’ স্লোগানে স্কপের কালো পতাকা মিছিল

চট্টগ্রাম, ৩০ জুন ২০২৬:

“গো ব্যাক ডিপি ওয়ার্ল্ড”, “রক্ত দিব, জীবন দিব, এনসিটি-সিসিটি দিব না”, “দেশের বন্দর দেশের হাতে রাখতে হবে”—এসব স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে আজ শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় আগ্রাবাদের আক্তারুজ্জামান সেন্টার প্রাঙ্গণে কালো পতাকা মিছিল-পূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস. কে. খোদা তোতনের সভাপতিত্বে এবং টিইইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য তপন দত্ত। বিশেষ বক্তা ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক মো. তসলিম হোসেন সেলিম, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের হেলাল উদ্দিন কবির, বিএলএফ চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি নুরুল আবছার তৌহিদ, বিএফটিইউসি চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কে. এম. শহিদুল্লাহ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, ইব্রাহীম ফরাজী, দেলোয়ার হোসেন, মার্চেন্ট শ্রমিক দল নেতা মো. হারুন এবং বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুসহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এগুলো দেশি বা বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হলে রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তারা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমানে নিজস্ব সক্ষমতায় পরিচালিত হয়ে রাষ্ট্রকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে লাভজনক টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বরং বন্দরের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব।

পড়ুন:  পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে স্কপের বিক্ষোভ মিছিল -এনসিটি ইজারা ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবিতে চট্টগ্রামে শ্রমিকদের বিশাল সমাবেশ -১ নভেম্বর গণঅনশন কর্মসূচির ঘোষণা

শ্রমিক নেতারা আরও বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ড বা অন্য কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে এনসিটি ও সিসিটি পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর করা হলে জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা, শ্রম অধিকার এবং বিদ্যমান কর্মপরিবেশ নিয়েও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে। তাই জাতীয় সম্পদ ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় এনসিটি ও সিসিটি ইজারার সব উদ্যোগ অবিলম্বে বাতিল করার জন্য তারা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, বন্দর কোনো ব্যবসায়িক পণ্য নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। তাই জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো ধরনের কনসেশন বা ইজারা চুক্তি গ্রহণযোগ্য হবে না। প্রয়োজনে শ্রমিক, কর্মচারী ও সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল কালো পতাকা মিছিল আগ্রাবাদের বাদামতলি থেকে শুরু হয়ে বারিক বিল্ডিং মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে বিভিন্ন শ্রমিক, কর্মচারী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন।