ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত পর্যায়ে, যুদ্ধ বন্ধের আশা জোরালো
দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর অবশেষে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে। দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোববার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এতে স্বাক্ষর হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি ও ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনার ভিত্তি তৈরির লক্ষ্যে প্রস্তুত করা এই সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ শিথিল করা এবং পরবর্তী সময়ে অন্যান্য বিরোধপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় এখনো কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে তাঁর দাবি, চলমান সংঘাতের মধ্য দিয়ে ইরান আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে ইরানই বিজয়ী হয়েছে।”
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তিতে ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলো অর্জিত হচ্ছে এবং আলোচনা এখন “খুবই ইতিবাচক পর্যায়ে” রয়েছে। মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রায়ান জিনকেও মন্তব্য করেছেন যে, যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন দুই দেশ একটি চুক্তির সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হলে অন্তত ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। এ সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষ একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে।
যুদ্ধ বন্ধে ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে লেবাননে হামলা বন্ধ করা, ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো, ইরানের তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা। পাশাপাশি যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টিও তেহরান তুলে ধরেছে।
সম্ভাব্য এই চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলের কর্মকর্তারা ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে যেকোনো চুক্তি সম্পাদনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সংঘাত প্রশমনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে আঞ্চলিক পরিস্থিতিতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই সম্ভাব্য এই সমঝোতা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্যই নয়, ওয়াশিংটনের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এখন সবার দৃষ্টি জেনেভার দিকে। আলোচিত সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হলে কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা প্রশমনের পথে বড় একটি পদক্ষেপ হিসেবে তা ইতিহাসে স্থান পেতে পারে।

