un

জাহাজভাঙা শিল্পে নিরাপত্তাহীনতা রয়ে গেছে: সেফটি কমিটির সভায় উদ্বেগ

আজ সকাল ১১টায় বিলস-এলআরএসসি কনফারেন্স হলে জাহাজভাঙা শ্রমিক সেফটি কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেফটি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আবসারের সভাপতিত্বে এবং বিলস চট্টগ্রাম কেন্দ্রের কোঅর্ডিনেটর ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক এ এম নাজিম উদ্দিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সেফটি কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী, যুগ্ম সদস্য সচিব মো. ইদ্রিস, সদস্য ইকবাল হোসেন, মানিক মণ্ডল, জামাল উদ্দিন, নাজিম উদ্দৌলা প্রমুখ শ্রমিকনেতা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও জাহাজভাঙা শিল্পে কর্মরত শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত চরম জীবনঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং পরিবেশগত মানদণ্ডের অভাবে দুর্ঘটনা, পেশাগত রোগ ও পরিবেশ দূষণ এখনও উদ্বেগজনকভাবে বিদ্যমান।

তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের ২৬ জুন বাংলাদেশ সরকার হংকং কনভেনশনে অনুস্বাক্ষর করে এবং ২০২৫ সালের ২৬ জুন থেকে এর বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক এই মানদণ্ড কার্যকর হওয়ার পরও জাহাজভাঙা শিল্পে পেশাগত স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় প্রত্যাশিত উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে না।

সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, উৎপাদনের পেছনে শ্রমিকের জীবনই সবচেয়ে মূল্যবান। অথচ প্রতিদিন জাহাজভাঙা শ্রমিকরা অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড ও বিষাক্ত গ্যাসের ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন।

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো দয়া নয়, এটি শ্রমিকের মৌলিক মানবাধিকার। শ্রমিকদের জীবন ও মর্যাদা রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

সভায় বিলস চট্টগ্রাম কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসের দুর্ঘটনার তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এতে জানানো হয়, এ সময়ের মধ্যে জাহাজভাঙা শিল্পে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় অন্তত ৩ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়।

পড়ুন:  জাহাজভাঙা শিল্প শ্রমিকদের জন্য ৩৬,০০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জোরালো দাবি