চলমান সংবাদ

হাম আতঙ্কে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা: দুই ডোজ নেওয়ার পরও কি শিশুদের আবার টিকা দরকার?

ঢাকার রামপুরা এলাকার ফারজানা আক্তারের মতো অনেক অভিভাবকই এখন দোটানায় ভুগছেন। তার সাত বছর বয়সী ছেলে এবং চার বছর বয়সী মেয়ে—দুজনই নিয়ম অনুযায়ী হামের দুই ডোজ টিকা নিয়েছে। কিন্তু দেশে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে টিকা দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত।

তিনি বলেন, “ছোট মেয়েকে সময়মতো দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। আবার টিকা দিলে যদি জ্বর আসে, সেই ভয় থেকেই দ্বিধায় আছি।”

গত মার্চ মাস থেকে দেশে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২ মে পর্যন্ত প্রায় ২৬ হাজার ৯১১ জন হাম ও সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৩৫ জনের।

এই পরিস্থিতিতে সরকার গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। এতে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, আগে দুই ডোজ টিকা নেওয়া থাকলেও বর্তমান প্রাদুর্ভাবের কারণে অতিরিক্ত একটি ‘বুস্টার ডোজ’ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট সুব্রত রায় জানান, “সব শিশুর শরীরে সমানভাবে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় না। তাই ঝুঁকি কমাতে অতিরিক্ত ডোজ দেওয়া জরুরি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক—একজন আক্রান্ত ব্যক্তি ১২ থেকে ১৮ জন পর্যন্ত অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। তাই দ্রুত ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা সামষ্টিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে এই অতিরিক্ত টিকা কার্যকর ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিশেষজ্ঞ সাইফুল ইসলাম বলেন, “১৫ বছরের নিচে প্রায় সব শিশুই ঝুঁকিতে থাকে। তাই সুযোগ থাকলে অতিরিক্ত একটি ডোজ নেওয়া ভালো।”

তবে কিছু ক্ষেত্রে এই টিকা এখনই দেওয়া উচিত নয়। যেমন—ছয় মাসের কম বয়সী শিশু, যারা গত এক মাসের মধ্যে টিকা নিয়েছে, অথবা যারা সদ্য হামে আক্রান্ত হয়েছে।

চিকিৎসকরা আরও জানান, টিকা নেওয়ার পর সামান্য জ্বর হতে পারে, তবে তা সাধারণত গুরুতর নয় এবং প্যারাসিটামলেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোনো এলাকায় যদি ৯৭ শতাংশ শিশু টিকা নেয়, তাহলে বাকিরাও পরোক্ষভাবে সুরক্ষিত থাকে। কিন্তু এই হার ৯৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলমান কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬১ শতাংশ শিশু টিকার আওতায় এসেছে। তবে হামের বিস্তার রোধে আরও বেশি সংখ্যক শিশুকে টিকা দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ অবস্থায় চিকিৎসকদের পরামর্শ—আগে টিকা নেওয়া থাকলেও, সুযোগ থাকলে শিশুদের অতিরিক্ত এক ডোজ টিকা দেওয়া উচিত, যাতে ব্যক্তি ও সমাজ—উভয় পর্যায়েই সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।