চলমান সংবাদ

সিটি কলেজ সংঘর্ষ

-গ্রাফিতি নিয়ে সিটি কলেজে সংঘর্ষ: আহত ৩০–৪০, বন্ধ ক্লাস

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতির ‘ছাত্র’ শব্দ মুছে ‘গুপ্ত’ লেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে ও বিকালে দুই দফায় কলেজ ক্যাম্পাস ও নিউ মার্কেট এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষ চলাকালে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে এবং পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। উভয় পক্ষের কয়েকজনের হাতে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দেখা গেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ৩০–৪০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের কারণে কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। দুপুরের পর থেকে অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলমান ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ ও মাস্টার্সের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হয়।

সংঘর্ষে সাধারণ শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং সাময়িকভাবে যান চলাচলও বন্ধ ছিল।

সংঘর্ষের সূত্রপাত

কলেজের একটি ভবনে পূর্বে লেখা ছিল ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’। সোমবার রাতে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে ‘গুপ্ত’ লিখে দেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার সকালে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং পরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে এলেও বিকালে আবারও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষ

বিকাল ৪টার দিকে নিউ মার্কেট মোড় থেকে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল কলেজের দিকে অগ্রসর হলে সেখানে আগে থেকে অবস্থানরত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ তীব্র ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং পুরো নিউ মার্কেট এলাকা অচল হয়ে পড়ে।

উভয় পক্ষের অভিযোগ

পড়ুন:  চট্টগ্রামে সবুজ জ্বালানি বিষয়ে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ছাত্রদলের দাবি, ছাত্রশিবির পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, ছাত্রদল বিনা উস্কানিতে হামলা চালিয়েছে এবং তাদের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

প্রশাসনের বক্তব্য

কলেজের উপাধ্যক্ষ জসীম উদ্দিন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সংঘর্ষের কারণে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থানের কারণে সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।