পশ্চিমবঙ্গে ভোটে এআই নজরদারি, প্রতিটি বুথে লাইভ ক্যামেরা

ভারতের Election Commission of India পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজ্যের প্রতিটি পোলিং বুথে থাকবে একাধিক ক্যামেরা ও ওয়েবকাস্টিং ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে সরাসরি ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করবেন প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।
বুধবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে Manoj Kumar Agarwal (মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা) রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে ইন্টারনেট পরিষেবা ও টেলিকম অপারেটরদের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ৮০ হাজারের বেশি বুথের প্রতিটিতেই ওয়েবকাস্টিং চালু থাকবে। প্রতিটি বুথে অন্তত দুটি ক্যামেরা বসানো হবে—একটি বুথের ভেতরে এবং অন্যটি বাইরে। অতি স্পর্শকাতর বুথগুলোতে ৩৬০ ডিগ্রি নজরদারির জন্য অতিরিক্ত ক্যামেরাও স্থাপন করা হতে পারে।
এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বুথের পরিস্থিতি রিয়েল-টাইমে বিশ্লেষণ করা হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, একটি বুথে একসঙ্গে চারজনের বেশি ভোটার থাকতে পারবে না। যদি সেই সংখ্যা অতিক্রম করে বা কোথাও ভিড়, বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম দেখা যায়, তাহলে এআই তাৎক্ষণিকভাবে কন্ট্রোল রুমে সতর্কবার্তা পাঠাবে। একইভাবে, ইভিএমের কাছে অতিরিক্ত ভিড় বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিও শনাক্ত করা হবে।
এই ‘পপ-আপ নোটিফিকেশন’-এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। জেলা, রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কন্ট্রোল রুমে বসে আইএএস ও আইপিএস কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক এই লাইভ ফিড পর্যবেক্ষণ করবেন।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক Shubhamoy Maitra বলেন, নির্বাচন কমিশন এআই ব্যবহারের কথা বললেও ঠিক কোন প্রযুক্তি বা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে স্বচ্ছতা কম। তিনি মনে করেন, অতিরিক্তভাবে ‘এআই’ শব্দ ব্যবহারে সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি হতে পারে।
নির্বাচন কমিশন জানায়, ক্যামেরার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতীতে ক্যামেরায় চুইংগাম লাগানো বা ইভিএমে কারসাজির মতো ঘটনা ঠেকাতে এবার কড়া নজরদারি থাকবে। ভোটারদের আঙুলে কালি লাগানো থেকে শুরু করে পুরো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াই ক্যামেরার আওতায় থাকবে।
এছাড়া, রাজ্যের ৬৪২টি ‘শ্যাডো জোন’ বুথ চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে ইন্টারনেট দুর্বল। এর মধ্যে ২৬২টির সমস্যা ইতিমধ্যে সমাধান করা হয়েছে। বাকি বুথগুলোতে সিম-সম্বলিত ক্যামেরায় ভিডিও সংরক্ষণ করা হবে, যাতে পরবর্তীতে তা যাচাই করা যায়।
এই প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত হবে বলে আশা করছে নির্বাচন কমিশন।
