চলমান সংবাদ

চট্টগ্রামে স্কুলভিত্তিক সবুজ জ্বালানি প্রচারণা: নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ


সৌর, পানি ও বায়ু বিদ্যুতের মতো প্রাকৃতিক উৎস থেকে উৎপাদিত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো ছাড়া দেশের জ্বালানি খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই—এমন মত দিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে দেশ বর্তমানে জ্বালানি সংকটে পড়েছে, যার ফলে শিল্প, কলকারখানা ও স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বুধবার নগরীর কাপাসগোলা সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে সবুজ জ্বালানি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইএসডিই বাংলাদেশ, ‘ক্লিন’ এবং ‘বিডব্লিউজিইডি’-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুমা বড়ুয়ার সভাপতিত্বে এবং ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংগঠক রাসেল উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আইএসডিই-এর নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন। এছাড়া বক্তব্য দেন সিনিয়র শিক্ষক আবদুল মান্নান, ক্যাব চান্দগাঁও থানা সভাপতি মো. জানে আলম, আইএসডিই বাংলাদেশের প্রকল্প সমন্বয়কারী শম্পা কে নাহার, প্রজেক্ট অফিসার রাইসুল ইসলাম এবং অ্যাডমিন অফিসার আবদুল মান্নান জিহাদ।

বক্তারা বলেন, জ্বালানি তেলের সংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক ক্ষেত্রে টাকা থাকলেও জ্বালানি সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবও এ সংকটকে আরও জটিল করেছে। তারা মনে করেন, যদি আগেই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো হতো, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হতো।

প্রধান শিক্ষিকা রুমা বড়ুয়া বলেন, “জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা দেশের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে টেকসই জ্বালানির গুরুত্ব বোঝাতে এখন থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম বাড়াতে হবে।”

এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। এজন্য সরকারিভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরি জরুরি।”

পড়ুন:  মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বাড়তি আমদানি চাপ, ৩০০ কোটি ডলার ঋণের খোঁজে সরকার

অনুষ্ঠানে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। চিত্রাঙ্কনে প্রথম স্থান অধিকার করে নবম শ্রেণির সো্হাইলা করিম চৌধুরী, দ্বিতীয় তাহিয়াত তারান্নুম আরশি এবং তৃতীয় তুনাজ্জিয়া নুর। রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় দশম শ্রেণির উনাইছা আমরিন, দ্বিতীয় আদওয়া জাহান এবং তৃতীয় মৌমিতা দাস বর্ষা।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে এবং সবুজ জ্বালানি বিষয়ে আগ্রহ ও সচেতনতা প্রকাশ করে।