চলমান সংবাদ

যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তানের ভূমিকা এড়িয়ে ভারতের নীরবতা, মোদী সরকারের কূটনীতি নিয়ে সমালোচনা

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে India। তবে এই প্রক্রিয়ায় Pakistan-এর সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব থেকেছে Ministry of External Affairs (India)

ভারতের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না থাকলেও দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক ও বিশ্লেষকদের একটি অংশ ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। তারা অনেকে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করে Narendra Modi সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

কংগ্রেস নেতা Rashid Alvi বলেন, “পাকিস্তান যে ভূমিকা পালন করেছে, তা আসলে ভারতের করা উচিত ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদী যখন ইসরায়েলকে ‘পিতৃভূমি’ বলেন, তখন তিনি কীভাবে যুদ্ধবিরতির পক্ষে কথা বলবেন?”

এদিকে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব Nirupama Menon Rao সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X (formerly Twitter)-এ এক দীর্ঘ পোস্টে বিষয়টি বিশ্লেষণ করেন। তিনি লিখেছেন, পাকিস্তান সরাসরি ‘মধ্যস্থতাকারী’ না হলেও একটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে—যার মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান, সময়সীমা শিথিল এবং কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়; বরং এটি সংঘাতের একটি নতুন পর্যায়, যেখানে সামরিক চাপ ও কূটনৈতিক আলোচনা একসঙ্গে চলছে। “এটা শুধু উত্তেজনা প্রশমন নয়, বরং একটি পরিবর্তনশীল বাস্তবতা,” উল্লেখ করেন তিনি।

নিরুপমা রাও আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে ভারতের উচিত স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া—উত্তেজনা কমানো, সমুদ্রপথে নিরাপদ নেভিগেশন নিশ্চিত করা এবং কোনো পক্ষের বয়ানের সঙ্গে সরাসরি একাত্ম না হওয়া। “এটা নীরব থাকার সময় নয়, বরং পরিমিত কণ্ঠে অবস্থান জানানোর সময়,” বলেন তিনি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে জানায়, তারা যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানায় এবং আশা করে এটি পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করে, এই সংঘাত বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং Strait of Hormuz দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়া জরুরি।

পড়ুন:  মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ঘিরে জ্বালানিসংকট, শান্তি উদ্যোগে চীন-পাকিস্তান

এর আগে পাকিস্তান যখন United StatesIran-এর মধ্যে মধ্যস্থতার আগ্রহ প্রকাশ করে, তখন থেকেই ভারতের অভ্যন্তরে কূটনৈতিক ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। বিরোধীরা একে ভারতের জন্য ‘কূটনৈতিক ধাক্কা’ হিসেবেও আখ্যা দেয়।