চট্টগ্রামের ৩ উপজেলার ৩৯ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সংঘর্ষ, গোলাগুলি, সহিংসতায় নিহত ১, আহত ২৫
দফায় দফায় সংঘর্ষ, গোলাগুলি, ধাওয়া-পাল্টা ও সহিংসতার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের ৩ উপজেলার ৩৯ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও অন্তত ২৫ জন আহত হন। চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফটিকছড়িতে একজন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। এ ছাড়া সীতাকুন্ডের দুইটি কেন্দ্রে ঝামেলা হওয়ায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। তা ছাড়া ভোটার উপস্থিতি ছিল উল্লেখ করা মতো। মীরসরাইতে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী লিখিতভাবে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। সব মিলিয়ে ভালো একটা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের এম আর সি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে অধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে মুহাম্মদ শফি (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। নিহত শফি ওই এলাকার নুরুল হক কেরানী বাড়ির ফজলুল হকের পুত্র। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৭/৮ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এছাড়া পাইন্দং ইউনিয়নের বেড়াজালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই ওয়ার্ড সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে পারভেজ নামে একজন আহত হন। সীতাকুন্ডে প্রার্থীদের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় সীতাকুন্ডে পুলিশসহ ৫জন গুলিবিদ্ধ ও ১৫জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় পুলিশ ইউপি সদস্য প্রার্থী ৪জনকে আটক করে। দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ শুরুর আগে সোনাইছড়ির ঘোড়ামরা কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় তাদের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ করে প্রার্থীর অনুসারীরা। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে ১ ঘন্টা পর আবারো মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় পুলিশ মেম্বার প্রার্থী ফোরকান ও মাহাবুবকে আটক করেছে। অপরদিকে সকাল ১০ টার দিকে সোনাইছড়ি বার আউলিয়া কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ দুই মেম্বার প্রার্থী নাছির ও সিরাজুল ইসলামকে আটক করে। এছাড়া দুপুরে বাঁশবাড়িয়া বোয়ালিয়াকুল মাদ্রাসা, নাথ পাড়া ও হাই স্কুল কেন্দ্রে আ’লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী রাজু ও নৌকা প্রার্থী শওকত আলী জাহাঙ্গীররে সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসময় হামলায় দুই পুলিশসহ ৫জন গুলিবদ্ধ হন। নির্বাহী ম্যাজিস্টেট আশরাফুল আলম বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাঁশবাড়িয়া হাই স্কুল ও বোয়ালিয়াকুল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট গ্রহন স্থগিত করা হয়েছে। মিরসরাইয়ে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে মিরসরাইয়ে ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে খইয়াছড়া ইউনিয়ন, মিরসরাই সদর ইউনিয়ন ও ইছাখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকে প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখলের অভিযোগ আনেন বিদ্রোহী প্রার্থী। এছাড়া করেরহাট ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী জহুরুল হকের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। ৬নং ওয়ার্ডে জাল ভোট দেওয়ার সময় বহিরাগত ১৪ জনকে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ আটক করে। ২নং হিঙ্গুলী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের জিন্নত বিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামাল উদ্দিন (টিউবওয়েল) ও শিপন (তালা) এর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় গোলাগুলি হয়। এতে পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও গুলি ছুঁড়ে। এঘটনায় মেম্বার প্রার্থী শিপন সহ ৪ জনকে আটক করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহেদ ইকবাল চৌধুরী ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রির্টানিং কর্মকর্তা মো. মিনহাজুর রহমান বলেন, দুপুর ১২টায় ১২নং খইয়াছড়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহেদ ইকবাল চৌধুরী ও বিকেলে ইছাখালী ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তফা ভূঁইয়া নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
# ১১.১১.২০২১ চট্টগ্রাম #
